নিউইয়র্ক : | মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত। ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্কের কুইন্সে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি তরুণী নিশাত জান্নাত নিহত হয়েছেন। গত ২৯ মার্চ উডসাইডে একটি গারবেজ ট্রাকের ধাক্কায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। উনিশ বছর বয়সী নিশাত জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে পার্ট-টাইম কাজ করতেন। ছোট বোনের জন্য কেক হাতে বাড়ি ফেরার পথে তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণের রায়গড় এলাকায়।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় নিহত নিশাতের বাবা হেলাল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, নিশাতের জানাজার নামাজ স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জোহরের নামাজের পর উডসাইডের বায়তুল জান্নাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে নিউজার্সির একটি মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হবে। তিনি সবার কাছে তার মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে উডসাইড এলাকার রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ ও ৬২ স্ট্রিটের মোড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। রাত তখন প্রায় ১২টা। কাজ শেষে ট্রেন থেকে নেমে ক্রসওয়াক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন নিশাত। ঠিক সেই মুহূর্তে পশ্চিমমুখী একটি গারবেজ ট্রাক ডান দিকে মোড় নিতে গিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করে ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস।
মধ্যরাতেও বাসায় না ফেরায় নিশাতের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। বড় বোন নওশিন জান্নাত নিশাতকে ফোনে না পেয়ে গভীর চিন্তায় পড়েন। পরে মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
নিশাত জান্নাত জ্যামাইকার একটি পার্কিং গ্যারেজে পার্ট-টাইম রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি ছোট বোনের জন্য কেক কিনে আনতে চেয়েছিলেন সেই ইচ্ছাই তার শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনায় জড়িত স্যানিটেশন ট্রাকটির চালক, ৩৮ বছর বয়সী এক নারী, ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন এবং সামান্য আঘাতের জন্য চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের কলিশন ইনভেস্টিগেশন স্কোয়াড বিষয়টি তদন্ত করছে।
এদিকে এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী জানান, নিশাতের মৃত্যুতে উডসাইড ও জ্যাকসন হাইটস এলাকার মানুষ শোকাহত। কমিউনিটির সবাই তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নিহতের বাবা ইমাম হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি কুইন্সের উডসাইড এলাকার বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম। তারা ২০১৭ সালে অভিবাসী ভিসায় সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
Posted ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3054 বার পঠিত)
(2344 বার পঠিত)