শামছুন ফৌজিয়া : | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
মনিরা জামান ছেলের বউ মিথিলাকে অনুরোধ করছেন সংসারে ফিরে আসতে। মিথিলা গত এক বছর ধরে স্বামী রিফাতের সাথে সেপারেশনে আছে।মিথিলা প্রথমে ব্রুকলিনে এক কাজিনের বাসায় উঠলেও পরে এক বেডরুমের ভাড়া বাসায় চলে এসেছে।
পাঁচ বছর আগে রিফাতের এপ্লাইয়ে মিথিলা আমেরিকা আসে। তাদের বিয়ের বয়স আট বছর এবং একমাত্র মেয়ে রিমুর বয়স মাত্র তিন বছর। পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হলেও মিথিলা বুঝতে পেরেছিল রিফাত তাকে এড়িয়ে চলছে।রিফাত সারারাত উবার চালিয়ে ভোরে বাসায় ফিরে নাস্তা করে ঘুমিয়ে যায়। রিফাতের বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, ছোট ভাই রিমন,মা ও বাবাকে নিয়ে নিউজার্সিতে নিজের বাসায় থাকে। মিথিলাও ডানকিন ডোনাটসে ফুল টাইম জব করে।
রিফাতের সাথে মিথিলার একা সময় কাটানোর সুযোগ নেই। ঘরের কাজ গুছিয়ে জবে যায়, ঘরে ফিরে প্রায়ই রিফাতকে বাসায় পায়না।রিফাত ফোনে লুকিয়ে কথা বলে মিথিলাকে দেখলে অন্যদিকে চলে যায়।মেয়ের জন্মের পর মিথিলা বুঝতে পারে রিফাতের গার্লফ্রেন্ড আছে এবং সে শ্বাশুড়ীর আপন ভাইয়ের মেয়ে। পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে রিফাতের এক কাজিন মিথিলাকে বলেছিলেন তাদের সম্পর্কের কথা। শ্বাশুড়ীকে মিথিলা অনেকবার জিজ্ঞাসা করেছিল,রিফাতের সঙ্গে নায়রার যখন সম্পর্ক ছিল তাদের বিয়ে কেনো দিলেন না?
মনিরা জামান সবকিছু অস্বীকার করলেও কিছু যে লুকোতেন মিথিলা তা বেশ বুঝে। নায়রার সাথে রিফাতের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে নায়রা বিয়ের আগেই প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়। দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনে তাদের বিয়ে হয়নি ঠিক এরমধ্যে নায়রার এবরশন হয়ে যাওয়ায় রিফাতের বাবা মা দেশে নিয়ে ছেলের বিয়ে দেন। রিফাত চাইলেই নায়রাকে বিয়ে করতে পারতো, দুইজন এডাল্ট কেনো করেনি এই প্রশ্ন মিথিলার।
মিথিলা ঠিক করেছে রিফাতকে ডিভোর্স দিবে কিন্তু মনিরা জামান চাইছেন নাতনির মুখের দিকে চেয়ে যেনো সংসারে ফিরে আসে। মিথিলা বলে, মা আপনার ছেলে ভালোবাসে নায়রাকে, সারাদিন ফোনে কথা বলে, দেখা করে এমনকি আমার অজান্তে তারা ভ্যাকেশনেও যায়!
এতকিছুর পর কিভাবে আমি তার সাথে থাকবো?
মনিরা জামান বলেন, সংসারে মেয়েদের অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়!
মিথিলা বলে, মা এটা আপনার যুগ না ! আপনি না বললেও আমি জানি আমার শ্বশুর দেশে আরেকটি বিয়ে করেছেন। আপনি মেনে নিয়েছেন এটা আপনার সিদ্ধান্ত । আপনি না পেরেছেন স্বামীকে কন্ট্রোল করতে না পেরেছেন ছেলের মন বুঝতে? বিয়ের পর নায়রার সাথে রিফাতের সম্পর্ক জেনেও বাঁধা দেননি, আমি সেটা মানতে পারছি না।
সব মানুষ আলাদা মা, আমি মুখ বুজে স্বামীর সংসার করব আর স্বামী থাকবে আরেকজনের সাথে এটা হয়না। আমি রিফাতকে মুক্ত করে দিচ্ছি তার পছন্দের নারীর সাথে সংসার করার জন্য। আপনারা যে ভুল করেছেন একই ভুল আমি করব না। আমি অলরেডি ডিভোর্স ফাইল করে দিয়েছি, আপনার ছেলেকে আমার কোন ভরনপোষণ দিতে হবেনা। শুধু মেয়ের জন্য আইন যেটা ঠিক করবে সেটাই আমরা মেনে চলব। বাংলাদেশে হলে আমাকে মুখ বুজে মেনে নিতে হতো কিন্তু আমেরিকায় সিংগেল মাদার হিসেবে চলার জন্য আমার তেমন সমস্যা হবেনা। শুধু দোয়া করবেন রিমুকে যেনো ভালো ভাবে মানুষ করতে পারি।
Posted ১:২২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh