বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন জাহিদ মিন্টু। পাশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্কচটাউনে প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ সেমিটারিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রায় ১২৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিশাল প্রকল্পটি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বৃহত্তম মুসলিম কবরস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ২০ জুন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উপদেষ্টা মরহুম এস এম আমানতের দাফনের মধ্য দিয়ে এ সেমিট্রিতে প্রথম কবর সম্পন্ন হয় এবং একই সঙ্গে শুরু হয় নতুন এক ইতিহাসের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কবরস্থানের সংকট দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়ে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করে।
সেই বাস্তবতা থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রায় ১২৬ একর জমি ক্রয় করে একটি স্থায়ী মুসলিম কবরস্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় এক বছর পর ২০২৬ সালের ২০ জুন মরহুম এস এম আমানতের দাফনের মধ্য দিয়ে এর বাস্তব ব্যবহার শুরু হয়। যিনি দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং গত ১৮ জুন ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান মানিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দীন পিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ও প্রকল্পটির স্বপ্নদ্রষ্টা জাহিদ মিন্টু, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাজি মফিজুর রহমান, সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, সালামত উল্যাহ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খোকন মোশাররফ, উপদেষ্টা মোমিনুল হক, রেজাউল করিম চৌধুরী, সোহেল হেলাল, মাইনুল উদ্দীন মাহবুব, সহ-সভাপতি তাজু মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ জসীম, সহ-সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ চৌধুরী রুহেল, ডা. মুন্নাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটি, সন্দ্বীপ সোসাইটি, লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতি, কোম্পানীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে জাহিদ মিন্টু মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, প্রায় ১,৪০০ দিন ধরে জমিটি বাজারে ছিল। কেউ কিনতে পারেনি। আল্লাহর রহমতে আমরা এটি কিনতে সক্ষম হয়েছি। নোয়াখালী সোসাইটির জন্ম মানবকল্যাণের জন্য, আর এই প্রকল্প তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
তিনি বলেন, অনেকে আমাকে এ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা বলেন। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পেছনে জামাল উদ্দিন, মনসুর আহমেদ, পিয়াস, মাইনুল উদ্দীন মাহবুবসহ অনেকের অবদান রয়েছে। বিএনএস বেলাল, মহিউদ্দিন এবং মরহুম এস এম আমানতের অবদানও আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
জাহিদ মিন্টু জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কবর বিক্রি হয়েছে এবং আগামী আগস্ট থেকে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, “এখানে প্রায় ৮ হাজার বর্গফুটের একটি ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে জানাজা ও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। একসঙ্গে প্রায় ১৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মরদেহ সংরক্ষণ ও গোসলের ব্যবস্থাও রাখা হবে।”
বাংলাদেশ সেমিট্রি নিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির প্রকল্প নয়, পুরো কমিউনিটির সম্পদ। আমরা শুধু এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করব।সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান মানিক বলেন, নোয়াখালীবাসীর সহযোগিতা ও ঐক্যের কারণেই আমরা এ বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাজী মফিজুর রহমান বলেন, জাহিদ মিন্টু বয়সে আমাদের চেয়ে ছোট হলেও তার দূরদর্শিতা, সাহস ও নেতৃত্বের কারণেই আজ এই প্রকল্প বাস্তব রূপ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে কবর ক্রয়কারীদের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কবরস্থান নিয়ে উদ্বেগ ছিল। এখন আমাদের নিজেদের একটি স্থায়ী কবরস্থান হয়েছে। বিদেশের মাটিতে এক লাখ মুসলমানের জন্য কবরস্থানের ব্যবস্থা হবে—একসময় এটি কল্পনাও করা যেত না। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ সেমিট্রি প্রাঙ্গণে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করা হয়। নামাজে ইমামতি করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ।
Posted ৪:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3063 বার পঠিত)
(2440 বার পঠিত)