নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নিউইয়র্কের জুইশ সেন্টারে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আনন্দসন্ধ্যা’। প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রচর্চাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য এবং গুণীজন সম্মাননার মাধ্যমে কবিগুরুর কালজয়ী সৃষ্টির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং দুই বাংলার জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী স্বপ্নীল সজীব। তাঁদের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের একের পর এক কালজয়ী গানের পরিবেশনা প্রবাসী দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্ব ছিল দুই শিল্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা সংস্কৃতি, রবীন্দ্রসংগীত এবং বাঙালির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানী।
আয়োজকদের দাবি, নিউইয়র্কে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীদের এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি পর্যায়ের স্বীকৃতি প্রদানের ঘটনা এটিই প্রথম, যা প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
সম্মাননা গ্রহণের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গান শুধু সংগীত নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের ধারক। প্রবাসের মাটিতে তাঁর সৃষ্টিকে ঘিরে এমন আন্তরিক আয়োজন এবং এই প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।’
স্বপ্নীল সজীব বলেন, ‘রবীন্দ্রসংগীতের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাওয়াই আমার শিল্পীজীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নিউইয়র্কে পাওয়া এই সম্মাননা আমার সংগীতজীবনের একটি স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
সংগীতের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে একক নৃত্য পরিবেশন করেন নন্দিত নৃত্যশিল্পী রাসেল আহমেদ। তাঁর নান্দনিক ও প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। অনুষ্ঠির সফল আয়োজন করে অ্যাবাউট টাইম ইভেন্টস। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ওয়ালীউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদার মানবিক দর্শন পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালি উপস্থিত ছিলেন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নিয়ে কবিগুরুর প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
Posted ৩:৫৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3087 বার পঠিত)
(2540 বার পঠিত)