বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া ভাষণে অভিবাসীদের অবদানকে সামনে এনে ব্যতিক্রমী বার্তা দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেছেন, নিউইয়র্কের ইতিহাস আসলে অভিবাসীদের ইতিহাস। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্নেই গড়ে উঠেছে এই সিটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে ভিন্ন এক রাজনৈতিক দর্শনের স্পষ্ট প্রকাশ। গত ৩ জুলাই নিউইয়র্ক সিটি হলে ঐতিহাসিক একটি ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন জোহরান মামদানি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন একসময় এই ডেস্ক ব্যবহার করেছিলেন। ভাষণের সময় তার পাশে ছিলেন সদ্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া কয়েকজন অভিবাসী।
মামদানি বলেন, দুর্ভিক্ষের সময় আয়ারল্যান্ড থেকে আসা মানুষ, চীনা নাবিক, এলিস আইল্যান্ড হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা লাখো অভিবাসী, নির্যাতনের হাত থেকে পালিয়ে আসা ইহুদি জনগোষ্ঠী, দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় আসা ইতালীয় এবং নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে আসা সিরীয়দের হাত ধরেই নিউইয়র্ক আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। তার ভাষায়, ফেডারেল সরকারের নানা বাধা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অভিবাসীরা নিউইয়র্কে নিজেদের ঘর গড়েছেন এবং এই শহরকে সমৃদ্ধ করেছেন।
সম্প্রতি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, দেশটির মাটিতে জন্ম নেয়া প্রায় সব শিশুই মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সেই প্রসঙ্গ টেনে মামদানি বলেন, জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার প্রতিটি প্রজন্মের মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এই আদর্শ আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উগান্ডায় জন্ম নেয়া জোহরান মামদানি সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসেন। পরে ২০১৮ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ভাষণে তিনি বলেন, ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রামে নিউইয়র্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই ঐতিহ্য এখনও বহন করছে শহরটি। তিনি আরো বলেন, নতুন অভিবাসীরা যখন প্রথম নিউইয়র্কে আসতেন, তখন স্বাধীনতার প্রতীক স্ট্যাচু অব লিবার্টি তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা ও নতুন জীবনের স্বপ্ন তুলে ধরত।
সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া নতুন নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রত্যেকের হাতে একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। আপনারাই ঠিক করবেন, আমেরিকা বলতে কী বোঝায়।’
ভাষণের একপর্যায়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও সমালোচনা করেন তিনি। কারো নাম উল্লেখ না করে বলেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এমন একটি আমেরিকা গড়তে চায়, যেখানে স্বাধীনতা কেবল নির্বাচিত কিছু মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তার ভাষায়, ‘তাদের কাছে আমেরিকা ততই ছোট হয়ে যায়, যত বেশি মানুষকে স্বাগত জানায়। তারা মনে করে, এই দেশ শুধু নির্দিষ্ট উচ্চারণ, নির্দিষ্ট বর্ণ কিংবা নির্দিষ্ট পরিচয়ের মানুষের জন্য।’
মামদানি বলেন, মানুষকে বিভক্ত করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা নতুন নয়। তিনি বিভেদের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। দেশপ্রেমের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, প্রকৃত দেশপ্রেম মানে দেশের ভুল-ত্রুটি অস্বীকার করা নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের দাবি এবং দেশকে আরো উন্নত করার চেষ্টাই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়।
অন্যদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেখানে আতশবাজি, সামরিক বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা, বিমান কসরত এবং সশস্ত্র বাহিনীর ছয়টি শাখাকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে ট্রাম্প ও মামদানির বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, নাগরিকত্ব এবং জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরো স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
Posted ১২:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh