বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
মোহাম্মদ ইউসুফ রাজু ও শাহেদ রানা মহসিন
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশি অভিভাসীদের খুনের ঘটনা। এ সপ্তাহে পৃথক দুটি ঘটনায় নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ও টেনেসিতে দুইজন বাংলাদেশি আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে আতংকের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রুকলিনে গুলিতে বাংলাদেশি ইউসুফ নিহত
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে কর্মস্থলে বন্দুকধারীর গুলিতে মোহাম্মদ ইউসুফ রাজু (৪৪) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী আরেক বাংলাদেশি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে খুঁজছে।
এর মাত্র দুই দিনের মাথায় ব্রঙ্কসে আরেকটি দোকানে ডাকাতির সময় ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনাতেও আকোস্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট রোববার রাত ১২টার পর ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ‘আমেরিকাস বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ রেস্তোরাঁয় গুলির ঘটনা ঘটে। ৯১১ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মাথায় এবং ৩৯ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়। দুজনকেই দ্রুত কাছের ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত ৩৯ বছর বয়সী ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তি ওই রেস্তোরাঁর কর্মী ছিলেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটি ও স্বজনদের সূত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মোহাম্মদ ইউসুফ রাজু হিসেবে জানা গেছে। নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যমেও তাঁকে ‘মো. ইউসুফ’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। আহত ব্যক্তির নাম রাসেল বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইউসুফ বাংলাদেশি এবং দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। ইউসুফের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উন্নত জীবনের আশায় ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। দেশে তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছেন। ছোট মেয়েটির জন্ম হয় ইউসুফ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর। স্বজনদের ভাষ্য, পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে নোয়াখালীর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ইউসুফের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের সহায়তার জন্য নিউইয়র্কে একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে। ওই তহবিলের তথ্যে বলা হয়েছে, ইউসুফের স্ত্রী এবং ১২ ও ৩ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। সংগৃহীত অর্থ মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো, দাফন এবং পরিবারের প্রাথমিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে তদন্তে ৩১ বছর বয়সী জেসাস আকোস্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে এনওয়াইপিডি। পুলিশ বলছে, ব্রুকলিনের হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিনের মাথায় ব্রঙ্কসে সংঘটিত আরেকটি প্রাণঘাতী গুলি ও ডাকাতির ঘটনাতেও আকোস্তা জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটের পর ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৪৯ স্ট্রিটের ‘১৪৯ এৎরষষ ধহফ উবষর’-তে ওই দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে বুকে গুলি করে। পরে কাউন্টারের পেছনে গিয়ে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের ধারণা, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কস-দুই ঘটনার বন্দুকধারী একই ব্যক্তি। এনওয়াইপিডি জেসাস আকোস্তার ছবি প্রকাশ করে তাকে ধরতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে। নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আকোস্তার বয়স ৩১ বছর। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ১৭৫ পাউন্ড। তার হাতে ‘ইৎড়হী’ এবং বাঁ হাতে ‘ইড়ননু’ লেখা ট্যাটু রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আকোস্তার বিরুদ্ধে আগেও সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল। ২০১৫ সালের একটি গুলির ঘটনায় দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করার পর চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি প্যারোলে মুক্তি পান। তদন্তকারীরা বলছেন, তার প্যারোল কর্মকর্তার সহায়তায় তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে ইউসুফের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর নোয়াখালীর বাড়িতে চলছে শোক ও আহাজারি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় ইউসুফকে ঋণ করতে হয়েছিল। তাঁর আয়েই মূলত পরিবার চলত। ফলে তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্বজনেরা ইউসুফের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা চেয়েছেন। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, জেসাস আকোস্তার অবস্থান বা দুই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে নিউইয়র্ক পুলিশের ক্রাইম স্টপার্সে জানাতে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকোস্তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত ডেলিভারি কর্মী গুরদীপ নিহত
নিউইয়র্কে গাড়ির ধাক্কাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদে গুরদীপ সিং (২৭) নামের এক ভারতীয় ডেলিভারি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত ২১ আগস্ট শুক্রবার রাতে ব্রুকলিনের ক্রিসেন্ট স্ট্রিট ও স্ট্যানলি অ্যাভিনিউ মোড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গুরদীপের বুক ও শরীরের ওপরের অংশে অন্তত সাতবার গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলে তার স্কুটারের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের আগে রাস্তায় অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে গুরদীপের সংঘর্ষ ও হাতাহাতি হয়েছিল। আশপাশের একটি নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দুজনের মারামারির দৃশ্য ধরা পড়েছে, যার পরপরই গুলির ঝলকানি দেখা যায় এবং একজনকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ঘাতক একটি কালো রঙের লেক্সাস গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহত গুরদীপ প্রায় এক দশক আগে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি কুইন্সের রিচমন্ড হিলে এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে খাবার,ডেলিভারির কাজ করে পরিবারের আর্থিক হাল ধরেছিলেন। তার বাবা পিয়ারা লাল আক্ষেপ করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ছেলেকে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পরিবারকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিতে হয়েছিল, যা এত বছর পরও পুরোপুরি শোধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেশী ও পরিচিতদের কাছে গুরদীপ অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তার শোকাহত পরিবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে ভারত সরকারের জরুরি সহায়তা কামনা করেছে।
টেনেসিতে সশস্ত্র ডাকাতিতে বাংলাদেশি নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের বেলস শহরে একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে সশস্ত্র ডাকাতির সময় গুলিতে বাংলাদেশি কর্মচারী শাহেদ রানা মহসিন নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে গ্র্যান্ড জুরি। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (টিবিআই) ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট রোববার ভোরে ক্রকেট কাউন্টির বেলস শহরের এক্সন সাফারি কর্নার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। দোকানটি ৫০৫৪ হাইওয়ে ৪১২ সাউথে অবস্থিত। স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার কিছু পর এক ক্রেতা দোকানে ঢুকে ক্যাশ কাউন্টারের কাছে কর্মচারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্রকেট কাউন্টির জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত অবস্থায় মহসিনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় টিবিআইকে।
ক্রকেট কাউন্টি শেরিফের দপ্তর, বেলস পুলিশ, জ্যাকসন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) এবং অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরো (এটিএফ)-সহ একাধিক সংস্থা তদন্তে যুক্ত হয়। টিবিআইয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির সরকারি নথিভুক্ত নাম শাহেদ রানা মহসিন। তার জন্মতারিখ ১২ ডিসেম্বর ১৯৮৯। সে হিসাবে ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ৩৬ বছর। ফলে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন সূত্রে প্রচারিত ৩৮ বছর বয়সের তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথির অমিল রয়েছে। নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহসিন বাংলাদেশের ঢাকার সাভার থেকে প্রায় সাত বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তিনি সাফারি কর্নার মার্কেটে কাজ করতেন।
বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। সন্তানদের একজনের বয়স ১২ এবং অন্যজনের ৫ বছর। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তিনি দোকানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের পর এক অস্ত্রধারী দোকানে ঢুকে টাকা দাবি করে। অস্ত্রের মুখে মহসিন ক্যাশ কাউন্টারের টাকা দিয়ে দেওয়ার পরও হামলাকারী বিভিন্ন পণ্য, বিশেষ করে সিগারেট দাবি করতে থাকে। মহসিন কোনো ধরনের প্রতিরোধ না করে দাবি অনুযায়ী সেগুলো দিলেও একপর্যায়ে বন্দুকধারী তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনার এই বিস্তারিত বর্ণনা এখন পর্যন্ত টিবিআইয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়নি।
এটি নিহতের স্বজনদের দেওয়া ভাষ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউবিবিজে জানায়, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এক ক্রেতা দোকানে ঢুকে কর্মচারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। তদন্তকারীরা ঘটনার সূত্র খুঁজতে দোকানের নজরদারি ক্যামেরার ধারণ করা ভিডিও পরীক্ষা করেছেন। সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, হত্যাসহ আট অভিযোগ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে বড় অগ্রগতি আসে। টিবিআই জানিয়েছে, তদন্তকারীরা কোরি হোগ নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। ২৩ আগস্ট দুপুর দেড়টার কিছু পর জ্যাকসন পুলিশ, এফবিআই ও এটিএফের সদস্যরা জ্যাকসনের লরেন্স সুইচ রোড ও হাইওয়ে ৭০-এর কাছাকাছি এলাকা থেকে তাকে আটক করেন। পরদিন ২৪ আগস্ট ক্রকেট কাউন্টির একটি বিশেষ গ্র্যান্ড জুরি হোগের বিরুদ্ধে আট দফা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছেÑপরিকল্পিত প্রথম ডিগ্রি হত্যা, অপরাধ সংঘটনের সময় প্রথম ডিগ্রি হত্যা, বিশেষভাবে গুরুতর ডাকাতি, বিপজ্জনক অপরাধ সংঘটনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের চারটি অভিযোগ এবং দণ্ডিত অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ।
আদালতের নির্দেশে হোগকে কোনো ধরনের জামিনের সুযোগ ছাড়াই ম্যাডিসন কাউন্টি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।টিবিআই আরও জানিয়েছে, তদন্তের সময় হোগের সঙ্গে কয়েক দিন আগে জ্যাকসনে সংঘটিত আরেকটি ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ২০ আগস্ট জ্যাকসনের রিজক্রেস্ট সেলার্স ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিটস নামের একটি দোকানে সংঘটিত গুরুতর ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের মামলায়ও তাকে খুঁজছিল জ্যাকসন পুলিশ।তবে হোগের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে টিবিআই উল্লেখ করেছে।
ক্রকেট কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ফ্রেডেরিক এইচ. এজি বলেছেন, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত একটি বিশেষ গ্র্যান্ড জুরির সামনে তদন্তে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। কর্তৃপক্ষ নিহত মহসিনকে স্থানীয় কমিউনিটির একজন মূল্যবান সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং তার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ঘটনাটি আরও উদ্বেগের হয়ে উঠেছে একই সময়ে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে আরেক বাংলাদেশি রাজু গুলিতে নিহত এবং রাসেল নামে আরেক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হওয়ার খবরের কারণে। অল্প সময়ের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের গুলিতে হতাহতের ঘটনা প্রবাসীদের কর্মস্থল ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
Posted ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh