বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
জেএমসির পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা ও শিক্ষকবৃন্দ।
জ্যামাাইকা মুসলিম সেন্টার-জেএমসি নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটি পরিচালিত সর্ববৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মসজিদের নিয়মিত কর্মকান্ডের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে আল মামুর স্কুল ও জামিয়া কুরানিয়া একাডেমী। এছাড়াও খন্ডকালীন ধর্মীয় শিক্ষার জন্য রয়েছে উইকএন্ড এবং সামার ইসলামিক স্কুল।
জেএমসিতে এবারের সামারে ছোট শিশুদের দেয়া ধর্মীয় শিক্ষা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয় গত গত ২৩ আগস্ট, রোববার। পুরস্কার বিতরণীতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও শুভান্যুধায়ীরা। বিপুল সংখ্যক পিতা-মাতার উপস্থিতিতে সকাল ১০ টা থেকে শুরু হাওয়া এ অনুষ্ঠান চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এসময় সামার ও উইকেন্ড ক্লাসে শীর্ষে থাকা কৃর্তী ছাত্র-ছাত্রীকে দেয়া হয় পুরস্কার।

অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেক্রেটারি মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইমান ও সাজ্জাদ আবদিন। জেএমসি’র কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেএমসি’র ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ, জেএমসি’র পরিচালক ইমাম শামসে আলী, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, জেএমসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. নাজমুল এইচ খান, সামার স্কুলের চেয়ারম্যান ও মসজিদ কমিটির এক্সিকিউটিভ মেম্বার আজহার হক। এসময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত নাসিদ পরিবেশন ও আলোচনায় অংশ নেন নতুন প্রজন্মের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ উপস্থিত পিতা-মাতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করেন। তারা বলেন, স্কুলের নিয়মিত শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা এবং ইসলামী সংস্কৃতি সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের সম্যক জ্ঞানদান না করতে পারলে পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখা যাবে না। সন্তানদেরকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অভিভাবকদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন বক্তাগণ। তারা বলেন, আমেরিকায় ইসলাম ভীতির যে প্রবণতা চলছে এ থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে ইসলাম সম্পর্কে জানতে হবে এবং প্রতিবেশী সহ সমাজে ইসলামের সত্যিকার যে আদর্শ তার ব্যবহারিক প্রমাণ রাখতে হবে।
বক্তাগণ অভিভাবকদেরকে তাদের নিজ নিজ সন্তানকে ধর্মীয় জ্ঞান ও শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে সামারের অবকাশকালীন সময়কে কাজে লাগানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য ধর্মীয় শিক্ষা অত্যন্ত জরুরী। শুধু সামার নয়, উইকএন্ড এবং ইসলামী স্কুলে সন্তানদেরকে ভর্তি করতেও উৎসাহ দেন বক্তাগণ।
এরপর সামার স্কুলে অংশ নেয়া বিভিন্ন গ্রুপে শীর্ষ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। মসজিদের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন জেএমসি’র ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ, ইমাম শামসে আলী, ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, ডা. নাজমুল এইচ খান, সহ সভাপতি আফতাব মান্নান, আজহার হক, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ খান ও শিক্ষকগণ। সামার স্কুলে ছেলেমেয়েদের জন্য পৃথক ৮টি করে মোট ১৬টি ক্লাস ছিল।
যেসব শিক্ষকের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা পুরস্কার লাভ করেছে, ওইসব শিক্ষক হচ্ছেন: ফারহান, আয়মান, ওয়ালিউর, মামুন, আতিকা, সাজ্জাদ আবদিন, আবরার, মাহমুদা, নাসরিন, মামুনুর রশীদ, আফরোজা। ইমাম আবু জাফর বেগ নতুন প্রজন্ম ইসলামের দীক্ষায় আলোকিত করতে পিতা-মাতার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উইকেন্ড ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত প্রেরণের অনুরোধ জানান। পরিবেশে মোনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ এর মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
Posted ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh