বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির কারণে আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, কঠোর যাচাই-বাছাই এবং অতিরিক্ত শর্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যদিও বিয়ের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ এখনও বহাল রয়েছে, তবুও অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাস্তবে পুরো প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি জটিল।
জাতীয় গণমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এখনও বিদেশে জন্ম নেওয়া স্বামী বা স্ত্রীকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করাতে পারেন। পরে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তারা নাগরিকত্বের আবেদনও করতে পারেন। তবে এখন আবেদনকারীদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই, আরও বিস্তৃত অনুসন্ধান এবং বাড়তি সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তির আগেই বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটক বা বহিষ্কারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই ব্যবস্থা কোনো আইনি পরিবর্তন নয়। এর লক্ষ্য হলো জালিয়াতি ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, উন্নত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা দেওয়ার আগে জালিয়াতি, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি আবেদন জমা দিলেই বা আবেদন অনুমোদন পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসন মর্যাদা পান না। এতে বহিষ্কার থেকে সুরক্ষাও নিশ্চিত হয় না।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, পারিবারিক ভিত্তিতে আবেদন অনুমোদিত হলেও অন্য কোনো কারণে কেউ অভিবাসন আইন ভঙ্গ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার অন্যতম দ্রুত উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কারণ, মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে নিকটতম পারিবারিক সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে তাদের ক্ষেত্রে বার্ষিক প্রবেশ অনুমতির সংখ্যাগত সীমা প্রযোজ্য হয় না।
স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার পর অধিকাংশ আবেদনকারী তিন বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন। তবে এ জন্য বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকতে হবে এবং দম্পতিকে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাস, নির্দিষ্ট সময় দেশে অবস্থান, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্তও পূরণ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ার শুরুতেই মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীকে জীবনসঙ্গীর জন্য স্থায়ী বাসিন্দার আবেদন করতে হয়। সেই সঙ্গে প্রমাণ করতে হয় যে বিয়েটি প্রকৃত এবং শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এজন্য যৌথ বাসস্থান, যৌথ ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন নথি জমা দিতে হয়।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। এটি ওই বছরে দেওয়া মোট স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
অভিবাসন আইনজীবীদের ভাষ্য, বর্তমানে এসব আবেদনে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত নথি চাওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীদের অতীত সম্পর্কেও বিস্তৃত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
অভিবাসন আইনজীবী চার্লস কাক বলেন, একসময় বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া তুলনামূলক সহজ ছিল। এখন সেই পথ অনেক কঠিন হয়ে গেছে। আরেক অভিবাসন আইনজীবী রোজিনা স্ট্যামবাউয়ের মতে, বর্তমান কঠোর পরিবেশের কারণে অনেক পরিবার বৈধ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতেও সাহস পাচ্ছে না। তার ভাষায়, মানুষ ভীত। অনেক দম্পতি আবেদনই করছেন না। কারণ, তাদের আশঙ্কা আবেদন নিষ্পত্তির আগেই বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটক কিংবা বহিষ্কার করা হতে পারে।
Posted ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh