বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

গণঅভ্যুত্থান বেহাত হতে দেওয়া যাবেনা

ডা. ওয়াজেদ খান :   |   বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

গণঅভ্যুত্থান বেহাত হতে দেওয়া যাবেনা

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের বর্ষপূতি পাঁচ আগস্ট। এই দিবসকে সামনে রেখে নাশকতার বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। পতিত স্বৈরাচার ও তার শাসনামলের সুবিধাভোগীরা দেশ বিদেশে নানা ফন্দি আঁটছে ড. ইউনুসের সরকারকে বেকায়দায় ফেলার। সম্প্রতি তারা জোরদার করেছে এই প্রক্রিয়া।

পাঁচ আগস্টের আগেই বড় ধরনের নাশকতার একটি পরিকল্পনার তথ্য ধরা পড়েছে গোয়েন্দা জালে। এজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বার কয়েক উল্লেখ করেছেন তার সরকারের যুদ্ধাবস্থার কথা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ত্রিমুখী যুদ্ধ চালিয়েযাচ্ছেন তিনি। তার সরকারের এই যুদ্ধ পতিত স্বৈরাচার, ভারত ও নির্বাচন ইস্যুতেদেশের প্রধান বিরোধী দলের সাথে।

এছাড়া বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে সরকারের বড় অংশীদার সেনাবাহিনীর সাথে। তার সরকারেরই একটি মহল কৌশলে জিইয়ে রেখেছে এই যুদ্ধ। যা ড. ইউনুস সরকারকে যেমন দুর্বল করছে, তেমনি ঠেলে দিচ্ছে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে।

ড. ইউনুসের সাথে তার নিয়োগদাতাদেরও চলছে মনোমালিন্য। এমনিতে উপদেষ্টা পরিষদ এবং সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা অনেকটা ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকারকে। উপদেষ্টা নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিকতা এবং সরকারের অভ্যন্তরে একাধিক সরকারের অস্তিত্বের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। ফলে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেননা ড.ইউনুস। এছাড়া প্রশাসনিক অদক্ষতা, অনভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে দ্রুত ম্লান হয়ে যাচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা। সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের স্থায়িত্ব এবং গণঅভ্যুত্থানের বেহাত হওয়া নিয়ে।

বাংলাদেশে গত বছর ৫ আগষ্ট স্বৈরশাসকের পতন ঘটায় স্বপ্নবাজ তরুণ শিক্ষার্থী ও গণমানুষ। অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে দেশ ও জাতিকে। ছাত্র জনতার এই অভ্যুত্থান বিশ্ব ইতিহাসে একটি নজিরবিহিন ঘটনা।

গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালায় স্বৈরাচার। গণভবনে অবাধ প্রবেশাধিকার পায় দেশের গণমানুষ। নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করে ভিন্ন মাত্রার এক বাংলাদেশ। গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্খা ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, কল্যাণকর, আইনের শাসনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ । যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আজকের নতুন প্রজন্ম দেখছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। চব্বিশের জুলাই আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানের একটি বছর অতিক্রান্ত হতে চলছে।জাতীয় জীবনে মোটেও নাতিদীর্ঘ নয় এই সময়কাল। অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার এসময়ে ধারেকাছে পৌছাতে পারেনি জন আকাঙ্খা পূরণের। মুখ থুবরে পড়েছে মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া। দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই পতিত স্বৈরচার ও তার সহযোগিদের বিচার কর্মের। নিশ্চিত হয়নি শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের সুচিকিৎসা।

অবনতিশীল আইন শৃংখলা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বেড়েছে জনজীবনে। আন্দোলন অবরোধের শতমুখী বিস্তার উসকে দিচ্ছে নৈরাজ্য। নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে গণপিটুনিতে মৃত্যু। নব্য চাঁদাবাজ, দখলদাররা নির্বিঘ্নে হাঁটছে পতিত স্বৈরাচারের অনুসৃত অন্ধকার গলিতে। সর্বোত চলমান রাজনীতিতে প্রকট হয়ে উঠছে অতীতমুখী রীতিনীতি। সৌজন্য সহমর্মিতার জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে অশুভ প্রতিযোগিতা,অসৌজন্যতা ও প্রতিহিংসাপরায়নতা।

রাজনীতিতে ক্রমাগত নির্বাচনই হয়ে উঠছে গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্খা। যার একমাত্র ও প্রধান উদ্দেশ্য ক্ষমতার মসনদ। ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি ঘিরেই চলছে সব কুটকৌশল। এখানে জন প্রত্যাশা গৌণ।

অতীতের ধারাবাহিকতায় ক্রমশই দেশের চেয়ে দল এবং দলের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে ব্যক্তির প্রাধান্য। অপরদিকে ম্লান হয়ে যাচ্ছে মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন। কথিত সংস্কার নিয়ে অন্তর্বতীকালীন সরকারের ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো কালক্ষেপন করছে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ইস্যু নিয়ে। প্যাড সর্বস্ব রাজনৈতিক দলের নেতারাও আলোচনায় আতিথ্য গ্রহণ করছেন। ঝড় তুলছেন চায়ের কাপে।

অন্তর্বতী সরকারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করছে সংস্কার কাজের বড় অংশীদারত্ব। বাগড়া দিচ্ছে জনমুখী নানা ইস্যুতে। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দলীয় স্বার্থে সংস্কার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে চাচ্ছে দলগুলো। এখানে প্রশ্ন উঠেছে এসব রাজনৈতিক দল কি ১৭ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে? তারা প্রতিনিধিত্ব করে নিজ দলের নেতা কর্মীদের। তারা নির্বাচিত কোন জন প্রতিনিধি নন। এসব রাজনৈতিক নেতৃত্বের চাপিয়ে দেয়া সংস্কারে দেশের জনগণের মতামতের কোন প্রতিফলন নেই। ক্ষমতাকেন্দ্রিক দু’চারটি বিষয় ছাড়া ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে উল্লেখ নেই মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কারের ইস্যু।

বিশেষ করে ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের উত্থান রোধ করতে হলে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির অবসান, রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করা, দলের অভ্যন্তরীন আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ্বতা, কমিটি ও মনোনয়ন বাণিজ্য সহ মৌলিক রাজনৈতিক ইস্যুতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। এছাড়া জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট শ্ক্ষিা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং শ্রম অধিকার বিষয় নিয়ে সংস্কার উদ্যোগ নেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের। এসব বিষয়ে নুন্যতম সংস্কার ছাড়া পূর্ণতা পাবে না জুলাই সনদ।

রাজনৈতিক দলগুলোই রাষ্ট্র পরিচালনা করে। কিন্তু নিজ দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থে কোন সংস্কার তারা কখনোই করতে পারেনি অতীতে। এজন্য প্রয়োজন জনগণের ম্যান্ডেট। মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোট জরুরী। জনগণের ম্যান্ডেটহীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়,একমাত্র গণভোটের মাধ্যমেই পূরণ হতে পারে কাঙ্খিত এবং টেকসই রাষ্ট্র সংস্কার। যার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হতে পারে চব্বিশের জুলাই আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশিত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশন আলোচনা করছে সংস্কার নিয়ে ঐকমত্যে আসার জন্য।

কিন্তু সম্ভব হয়নি ঐকমত্যে পৌঁছানো। রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশ আবার ফিরে যাবে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পূর্বাবস্থায়। একারণেই সর্বগ্রে প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কার কমিশন। অপরাজনীতির কারণে অর্ধশতাব্দীকালেও গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা পূর্ণ হয়নি বাংলাদেশে। বার বার উত্থান ঘটেছে ফ্যাসিবাদের। সরকার বদলেছে কিন্তু মৌলিক গুণগত কোন পরিবর্তন আসেনি রাজনীতিতে।

সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। এজন্য ঢেলে সাজাতে হবে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। পরিবর্তন আনতে হবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে। সংস্কারের মূল বিষয়গুলো প্রচার মাধ্যম ছাড়াও লিফলেট আকারে পৌছে দিতে হবে দেশের প্রতিটি মানুষের নিকট। সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে হবে সংস্কারের বিষয়াদি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি শ্রম ও মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার সাধিত হলে একজন নাগরিক নতুন কি সুবিধা পাবে তা জানাতে হবে জনগণকে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার সংস্কার করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়া।

অন্তর্বতীকালীন সরকারকে একটি যৌক্তিক সময় দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে দেশের মানুষ। জনগণ মনে করে রাষ্ট্র সংস্কার আগে, নির্বাচন পরে। তবে এসময়কালে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিধান করতে হবে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা। নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর মূল্য ও সহজ প্রাপ্যতা। বলা যায় এক্ষেত্রে অন্তর্বতী সরকারের তেমন কোন সাফল্য নেই। এসব নিয়ে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে সমাজ ও রাষ্ট্রে। আর এই সুযোগটি গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে কিছু রাজনৈতিক দল।

অতি দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে মাঠ গরম করতে চাচ্ছে দলগুলো। সংস্কারকাজ অসম্পূর্ন রেখে যেকোন মূল্যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার হাত বদল হলে বেহাত হবে গণঅভ্যুত্থান। সবধরণের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করতে হবে ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে। গণঅভ্যুত্থান বেহাত হওয়ার সকল পথ ও সম্ভাবনা রুখে দিতে হবে ছাত্র জনতাকে।

নির্বাচন হলেই সাধারণ মানুষের ভাগ্যের যে কোন পরিবর্তন হয় না দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে জাতীয় সংসদের বিগত ১২টি নির্বাচনে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন হবে এমন সামান্যতম কোন নজির বা প্রমাণ তারা এখনো পায়নি। জনগণ চায়না পতিত স্বৈরাচার পালানোর পূর্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দৌড় ক্ষান্ত দিয়ে ক্ষমতার কাঠিটি যেখানে ফেলে গেছে সেখান থেকে সেই কাঠি নিয়ে আরেকটি দল দৌড় শুরু করুক। রাজনীতির এই রিলে রেসে বিরতি টেনে দিয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে একটু দম নিয়ে দৌড়াতে হবে। এই দম নেয়াটাই হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার। এখানে অধৈর্য্য কিংবা অস্থিরতার সুযোগ নেই। দেড় হাজার শহীদ ও পঁচিশ সহস্রাধিক আহত মানুষের পরিবারের সদস্যদের আহাজারি এখনো শুনা যায় ইথারে কান পাতলে।

অথচ বছর না ঘুরতেই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব নিয়ে চলছে বাহাস। খাটো করার চেষ্টা চলছে ছাত্র-জনতার অবদানকে। এসবই ফাটল ধরাচ্ছে জাতীয় ঐক্যের স্তম্ভে। সরকারের নির্মোহ ও শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন।

পতিত স্বৈরাচারের প্রেতাত্নারা এখনো বিচরণ করছে রাষ্ট্রের পরতে পরতে। যেনতেন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশ ও জাতিকে আরো গভীর সংকটে নিপতিত করবে। সকল প্রতিবন্ধকতা সামাল দিয়েইএগুতে হবে ডঃ ইউনূসের সরকারকে। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অ্রর্জিত গণঅভ্যুত্থানবেহাত হতে দেওয়া যাবে না।

Posted ১২:২৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.