বাংলাদেশ ডেস্ক : | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য আগস্ট মাসে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সুখবর। বিশেষ করে যাদের স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষায় আছেন, তাদের অনেকের জন্য একই সঙ্গে দুটি আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বহু পরিবারের জন্য প্রক্রিয়াটি কিছুটা সহজ হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পারিবারিক দ্বিতীয় অগ্রাধিকার বিভাগের এফÑ২এ শ্রেণির ‘আবেদন জমার তারিখ’ সব দেশের জন্য ‘চলমান’ দেখানো হয়েছে। এই শ্রেণির আওতায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান।
বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো তালিকা না থাকায় বাংলাদেশি আবেদনকারীরাও সাধারণ দেশের তালিকার আওতায় পড়বেন। এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এবং আইনগতভাবে যোগ্য আবেদনকারীরা আই–১৩০ পারিবারিক আবেদনপত্রের সঙ্গে আই–৪৮৫ গ্রিন কার্ড আবেদন একই সময়ে জমা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। আগে অনেক ক্ষেত্রেই আই–১৩০ অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে সেই অপেক্ষা ছাড়াই দুটি আবেদন একসঙ্গে জমা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভিসা বুলেটিনে ‘চলমান’ দেখানো মানেই সবাই এই সুযোগ পাবেন, এমন নয়। প্রতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা কোন তালিকা ব্যবহার করে আবেদন গ্রহণ করবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সেই নির্দেশনা অবশ্যই যাচাই করতে হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, পারিবারিক অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভাগে অভিবাসী ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ার সুযোগ থাকলে আই–১৩০ অনুমোদনের অপেক্ষা না করেও আই–৪৮৫ জমা দেওয়া যায়। আবার আগে আই–১৩০ জমা দিয়ে থাকলেও সেটি বিচারাধীন অবস্থায় আই–৪৮৫ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সব আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে। তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, বর্তমানে তার অভিবাসন অবস্থা কী, কোনো আইনগত বাধা রয়েছে কি না কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ আছে কি নাÑএসব বিষয় পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।
আগস্টের ভিসা বুলেটিনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এফ–২এ বিভাগের ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ’ বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশের জন্য ২২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে। গত জুলাই মাসে এই তারিখ ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ প্রায় দেড় বছর এগিয়েছে। তবে আবেদন জমার তারিখ চলমান হওয়া আর চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ চলমান হওয়া এক বিষয় নয়। আবেদন জমার সুযোগ তৈরি হলেও গ্রিন কার্ড অনুমোদনের সময় আবেদনকারীর জন্য অভিবাসী ভিসা নম্বর উপলব্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে তার অগ্রাধিকারের তারিখ প্রযোজ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখের আগে থাকতে হবে।
সে কারণে আগস্টে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়া নয়। আবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া আগের মতোই অনুসরণ করা হবে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। তারা নিকটতম পারিবারিক সদস্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাদের জন্য বার্ষিক ভিসা সংখ্যার কোনো সীমা নেই। কিন্তু গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এফ–২এ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে তাদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ থাকে এবং সেই সীমার মধ্যেই আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়। তাদের আই–১৩০ অনুমোদনের পর জাতীয় ভিসা কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে পারিবারিক অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভাগে বিশ্বব্যাপী দুই লাখ ২৬ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। এর একটি বড় অংশ এফ–২এ বিভাগের জন্য নির্ধারিত। সব মিলিয়ে আগস্টের এই পরিবর্তন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান না ঘটালেও যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য এটি একটি বড় ইতিবাচক অগ্রগতি। বিশেষ করে যেসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাসের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের জন্য নতুন এই সুযোগ আশার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে।
Posted ৪:০৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh