| বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
বিএনপি সরকার অতি সম্প্রতি ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ করেছে, এখন তারাই ক্ষমতায় এসে একই কাজ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, তারা দেশ পরিচালনার সূচনাতেই নিজেদের পায়ে কুঠারাঘাত করতে শুরু করেছে। প্রায় সকল মহল থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক বলে সমালোচনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেছে নেওয়া ঠিক হয়নি।
এটি সরকারের জন্য আত্মঘাতী বলে প্রমাণিত হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত অহেতুক সাধারণ মানুষের মাঝে অশুভ বার্তা ণের ঝুঁকি তৈরি করায় এ ধরনের নিয়োগ ‘উদ্বেগজনক’। এ রকম সিদ্ধান্ত সরকারি দল বিএনপির জন্য ‘আত্মঘাতী’ হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও বলেছেন তাঁরা। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বিগত সরকারের সময়ে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এসব নেতাদের অনেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কেউ মনোনয়ন পাননি, কাউকে দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। এখন তাঁদের এভাবে মূল্যায়ন করা হলো। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা সরকারকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষমতা দিয়েছে। তাই এ নিয়োগগুলোকে বেআইনি বলার সুযোগ নেই। কিন্তু আইনের এই বিধান মূলত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির জন্য। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ব্যতিক্রমই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনই শেষ কথা নয়। নৈতিকতা, সুশাসন এবং স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি এমন ধারণা তৈরি হয় যে রাজনৈতিক আনুগত্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার অন্যতম যোগ্যতা, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হবে। এ নিয়োগগুলো নিয়ে প্রশাসনে অস্বস্তি তৈরির বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়ায় পদোন্নতির স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
এ ধরনের নিয়োগ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, একসঙ্গে এতগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন পদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ উদ্বেগজনক। সরকার শুরু থেকেই যদি দলীয় নিয়োগে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে তাহলে প্রশাসন ও সমাজের সকল ক্ষেত্রে দলীয় ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্যের সংস্কৃতি অনুসরণ করা ছাড়া ভিন্ন কিছু হবে না। এসবের মাধ্যমে সরকার পরিষ্কারভাবে যে বার্তা দিচ্ছে, তা হলো এবার আমাদের পালা। আলোচিত এই নিয়োগগুলোকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নিয়োগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে একজনের নিয়োগ, যিনি উপসচিব হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন।
তিনি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন; তাঁকেই নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধান অনুয়ায়ী নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপালনে স্বাধীন থাকবে এবং শুধু সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে। স্বাধীনতার এ ধারণা এবং কমিশনের ওপর জন-আস্থাই বাংলাদেশের গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। জনগণ যদি মনে করেন, কমিশনের প্রশাসনিক নেতৃত্ব রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, তাহলে কমিশনের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রশাসনকে দলীয়করণের চেষ্টা পরিহার করে বিএনপি সরকার যদি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে থেকে কাজ করে তাহলেই বোঝা যাবে যে তারা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করছে। সরকারের সামনে আওয়ামী লীগ সরকারের অতীত রয়েছে, অতএব সমঝে চলা ভালো।
Posted ৪:০৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh