বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

রাজনীতিতে শেষ কথা ও রাজনীতিবিদদের সততা

ডা.ওয়াজেদ খান :   |   বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

রাজনীতিতে শেষ কথা ও রাজনীতিবিদদের সততা

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। এমন একটি প্রবাদ চালু আছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। যেখানে পুরনো কথাই আবার শুরু হয় নতুন করে। রাজনীতিবিদরা কথা দিয়ে কথা রাখেন না। অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করেন অনায়াসে। বরখেলাপ করেন নির্বাচনের পূর্বে দেয়া প্রতিশ্রুতি। মুহূর্তেই পাল্টে ফেলেন ভোল। পরিধেয় বস্ত্রের মতো যখন-তখন দল বদল করা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন কিছু নয়। এসব দেখে অনেকটাই অভ্যস্থ হয়ে গেছে জনগণ। তারপরও মাঝে মধ্যে অস্বস্থি বোধ হয়। তাদের হঠকারিতা, অযোগ্যতা, অসততা ও চিন্তা চেতনার পরিধির কথা বিবেচনা করে। দেশের রাজনীতিকরা সত্যিই কথা পাগল।

এজন্য এর নামকরণ করা হয়েছে কথা মালার রাজনীতি। অনেক রাজনীতিক আছেন তারা যা বলেন, বাস্তবে তা করেন না। আবার যা করেন, মুখে তা বলেন না। অনেক সময় করেন উল্টোটা। রাজনীতিকরা নিজেরা বিশ্বাস করেন না, অথচ এমন সব বয়ান দিয়ে মাতিয়ে রাখেন সভা সমিতি। জনসমক্ষে অপ্রয়োজনে কথা বলেন এবং বলতেই থাকেন। তাদের কথা দর্শক-শ্রোতার বিরক্তির কারণ হতে পারে বিবেচনায় নেন না এমনটি। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিম্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের এমন বাহাস বিতর্ক আমাদেরকে অবাক করে না। ‘ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের সকল মামলা প্রত্যাহার করা হবে” বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক এমন একটি বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় বইছে সোস্যাল মিডিয়ায়। যদিও তথ্যটি বিকৃত বলে দাবি করেছেন তিনি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরও অবসান ঘটেনি পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির। অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব নিয়ে চলছে মিথ্যাচার। রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে সড়ে গেছে অনেক রাজনৈতিক দল।

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ছিলেন দেশের কথাবাজ রাজনীতিকের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কোন কথাই কখনো আটকায়নি তার মুখে। কোন কথা মাটিতেও পড়তে দেননি তিনি। সর্বশেষ কাল হয়ে দাঁড়ায় তার মুখে উচ্চারিত রাজাকার গালি। এই গালির চূড়ান্ত পরিণতিতে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে তাকে। অথচ তিনিই বারবার বলেছেন “বঙ্গবন্ধু কন্যা পালায়না।” এমন অনেক কথাই তিনি বলেছেন-আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন নিজ থেকেই।

প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অনেক, পালন করেছেন সামান্যই। এভাবে কথা দিয়ে কথা না রাখার যে ভূঁয়া রাজনীতি, তার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন হাসিনা। ‘৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন ৫৭ বছর বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের। ২৯ বছর পূর্বেই তার অবসর নেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এখনো অবসর নেননি। গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে গেছেন। সেখানে বসেই ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডে উস্কে দিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীদেরকে। এই নেত্রীর প্রধান উজিরে আযম দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছিলেন কথার মহাজন। তার আড়তে মওজুত ছিলো নানা কিসিমের কথা ও উপমা। মিথ্যে, অপ্রিয় এবং গালি সর্বস্ব কথা তিনি বলতেন সুপোরীর মতো চিবিয়ে চিবিয়ে। এসব কারণে তিনি অভিহিত হন ‘কাউয়া কাদের’ নামে। তিনিও বাহাস করে বলেছিলেন, “পালাবো কোথায়?-মির্জা ফখরুলের বাসায়?”

সেই আত্মমর্যাদাহীন নেতা রাতের আঁধারে পালিয়েছেন মাতৃভূমির মায়া ছেড়ে। কথার রাজা বলে পরিচিত, মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের কর্মচারী বলরাম দাসকে থাপ্পড় মেরেছিলেন ইশ্বরদী রেলওয়ে ষ্টেশনে। উর্ধতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষের সামনে ক্ষমতার হেডাম দেখান তিনি। কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন ‘তুই, তুকারী’ করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের টাঙ্গাইল ৫ আসনের নিজ দলীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনের গালে চড় কষান ২০১৭ সালে। ১৯৯৬ সালে ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার তান্ডব কালে ওবায়দুল কাদের বঙ্গভবনে অক্সিজেন বন্ধ করার হুমকি দিয়ে সমালোচিত হন ব্যাপকভাবে। এক এগারোর সরকারের সময় কারান্তরালে তার অবয়ব দেখেছে দেশবাসী। বেফাস কথা বলতে বলতেই শেষ পর্যন্ত ফেঁসে গেছেন ওবায়দুল কাদের।

একশ্রেনীর রাজনীতিকের মাঝে নূন্যতম নীতি নৈতিকতাবোধ না থাকার কারণেই অবলীলায় অনেক কিছু বলছেন ও করছেন তারা। এ নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলে ঝেড়ে উত্তর দেন “রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।” তারা যা বলেন বা করেন, তা পাল্টে দিতে পারেন যেকোন মুহূর্তে। সরে যেতে পারেন পূর্বের অবস্থান থেকে। দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এ ধরণের নীতি বিবর্জিত কর্মকান্ড। ফলে এসব রাজনীতিবিদের উপর আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে জনগণ। এক-এগারো পরবর্তী প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিলক্ষিত হয়নি গুণগত কোন পরিবর্তন। জেল জরিমানার কারণে ব্যক্তি চরিত্রে কিছুটা পরিবর্তন আসবে এমনটি আশা করেছিলেন দেশবাসী। কিন্তু কার্যত তা হয়নি। দেশের রাজনীতিবিদদের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে এমনটিই মনে হয়েছে। জিন্দেগীতে রাজনীতি না করার ঘোষণা দিয়ে সেসময় স্বয়ংক্রিয় কায়দায় পুনরায় আওয়ামী রাজনীতিতে ফিরে আসেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল। বিএনপিতে সংস্কারবাদী নেতা সাইফুর রহমান ও জেনারেল মাহবুবুর রহমান পুনরায় ফিরে যান বিএনপি’র মূলস্রোতে। তাদের রাজনৈতিক ডিগবাজি নিয়ে সেসময় সমালোচনার ঝড় উঠে সর্বত্র। রাজনীতিতে অনেক নেতা আছেন যারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন অতীতের প্রায় সবগুলো সরকারে। দল বদল করেন একের পর এক। জামায়াতে ইসলামীকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে বর্জন করে আওয়ামী লীগ। চরম বিরোধীতা করে জামায়াতের। আবার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এক কাতারে শামিল হয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াত মিলে আন্দোলন করেছে বিএনপির বিরুদ্ধে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জামায়াতের তৎকালীন আমীর মাওলানা গোলাম আজমের বাসায় গিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।দোয়া চেয়েছেন তাদের দলীয় প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীর জন্য। জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদি ও কূটনীতিকদের বাসায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একই টেবিলে বসে আওয়ামী লীগ নেতারা আলোচনা করেছেন ও খাবার খেয়েছেন জামায়াতের সাথে। শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ ও কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদকের সামনে করমর্দন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর মতিউর রহমান নিজামীর সাথে। পরদিন করমর্দনের ছবি পত্রিকায় ছাপা হলে প্রচন্ড সমালোচনার মুখে পড়েন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে নূতন করে ফতোয়া দেন তারা। বলেন, জামায়াত নেতৃবৃন্দের উপস্থিতির কারণে অন্য কোন অনুষ্ঠান বর্জন করলেও ধর্মীয় এবং কূটনীতিকদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদান করতে অসুবিধা নেই। ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতির বুলি আওড়িয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বৈতরণী পাড় হতে খেলাফত মজলিসের মার্কা মারা ফতোয়াবাজ মুফতি শহীদুল ইসলামকে ২০০৬ সালে জোটে অন্তর্ভূক্ত করে সমালোচিত হয় ব্যাপকভাবে।

রাজনীতি একটি লাভজনক পেশা। বিনা পুঁজিতে এই ব্যবসার দ্বারা বৈভবের মালিক হয়েছেন অনেকে। রাজনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যশ খ্যাতির শীর্ষে পৌছার অন্যতম বাহনও বটে। তাই গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে বয়োবৃদ্ধকালেও রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান না রাজনীতিকরা। এমনকি রাজনীতি তাদেরকে ছাড়তে চাইলেও তারা নাছোড়বান্দা। নির্বাচনের গন্ধ পেলে হাসপাতালের বিছানা ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়েন তারা। ওয়ান ইলেভেনের পর দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেৃতত্ব।

তাদেরই একজন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আঃ জলিল হলফনামা দেন জীবনে আর রাজনীতি করবেন বলে। ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল চারদলীয় জোট সরকারের পতন ঘটানোর আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম কার্ড চালাচালি করে চমক সৃষ্টিকারী এই আঃ জলিল জেলখানা থেকে গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে সিঙ্গাপুর যান প্যারোলে। সেখানে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে কিছুটা দম নিয়েই চাঙ্গা হয়ে উঠেন। জাতির কাছে দেয়া হলফনামা ভুলে গিয়ে গ্রহণ করেনদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানও দলীয় গঠনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে সুযোগ করে দেন ঘরের ছেলেকে ঘরে ঢুকার। এতো গেলো আওয়ামী লীগের কথা। এক-এগারোর পর বিএনপি শীর্ষ নেতা জেনারেল মাহুবুব ও সাইফুর রহমান ক্ষমা প্রার্থনা করে আবার ফিরে যান বিএনপি’র মূলধারায়। খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের পর দলটির অনেক নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন মূল বিএনপির প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করান নিজেদেরকে । বাহাত্তুরোর্ধ বয়সী সাইফুর রহমান বনে যান দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। আরেক নেতা জেনারেল মাহবুবকে শহীদ জিয়ার মাজার প্রাঙ্গণে জুতাপেটা করেন বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতা কর্মীরা। কি বিচিত্র সেলুকাস! খালেদা জিয়ার মুক্তির পর এরাই আবার তার পাশে বসে সায় দেন নেত্রীকে দলের আজীবন চেয়ার পার্সন করার প্রস্তাবে। এক-এগারোর সময় যারা আগে সংস্কারের কথা বলতেন, তারাই অবতীর্ণ হন চাটুকার ও স্তাবকের ভূমিকায়। এদের কারো মাঝে সামান্যতম আত্মমর্যাদাবোধ থাকলে তারা নিজ থেকেই লোকলক্ষুর অন্তরালে চলে যেতেন রাজনীতির ময়দান ছেড়ে।

রাজনীতিতে সততা, দেশপ্রেম ও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে অমিত সম্ভাবনার বাংলাদেশ স্বাধীনতার অর্ধশতক পরেও অতিক্রম করছে ভয়াবহ ক্রান্তিকাল। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে দুর্নীতি, অনিয়মের স্পর্শ লাগেনি।

খন্ডকালীন সময়ের জন্য সামরিক শাসন ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকে পরিচালনা করে আসছিলেন রাজনীতিকগণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য সাম্প্রতিককালে একই অঞ্চলের দেশ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এর মতো রাষ্ট্র দ্রুত উন্নয়নের শিখরে আরোহন করেছে। অথচ বাংলাদেশ এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে অন্ধকারের কানাগলিতে।

সামগ্রিকভাবে দেশে যে কোন উন্নতি হয়নি তা বলা ঠিক হবে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন ঘটেছে সময়ের চাহিদা ও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই নগণ্য। উন্নয়নের এ কৃতিত্ব যতটা না সরকারের তার চেয়ে অধিক সাধারণ জনগণের। যাদের স্বত:স্ফূর্ত ব্যক্তি উদ্যোগেই এটা সম্ভব হয়েছে। এসময়ে দলীয় সরকারগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অবাধ লুন্ঠনের মাধ্যমে অনেক রাজনীতিক নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটিয়েছেন। পক্ষান্তরে বাধাগ্রস্থ হয়েছে জাতীয় উন্নয়নের ধারা। যেহেতু রাজনীতিকগণ দেশ শাসন করেছেন সেহেতু জাতিকে সঠিক নেতৃত্ব প্রদানে ব্যর্থতার দায়ভার বহন করতে হবে তাদেরকেই।

সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা শ্রেনী ও পেশার মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা থাকলেও প্রশাসনিক নীতিগত মূল সিদ্ধান্ত প্রদানের অধিকারী একমাত্র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তাদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দূরদর্শীতা ও সদিচ্ছার উপরই নির্ভর করে দেশজাতির ভবিষ্যত। তাই কাজের মধ্য দিয়ে রাজনীতিকদের প্রমাণ করতে হয় তাদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দেশ প্রেম। প্রদর্শন করতে হয় পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা। রাজনীতিতে ক্ষমতা লাভের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। নির্বাচনে জনগণ যে দলের পক্ষে রায় দিবে তারাই ক্ষমতায় যাবে এ্টাই গণতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের পূর্বেই রাজনৈতিক দলগুলো সুনিশ্চিত হতে চায় নিজেদের বিজয়ের ব্যাপারে।

চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী অনেক নেতৃব্্ন্দকে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে প্রাথমিকভাবে সরকার প্রমাণ করতে পেরেছে যে অপরাধী যতো ক্ষমতাধরই হোক না কেন কেউ আইনের উর্দ্ধে নন। ঢালাওভাবে রাজনীতিকদেরকে অসৎ, লোভী এবং দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তবে আমাদের দেশের সিংহভাগ রাজনীতিক এই শ্রেনীর পর্যায়ভূক্ত।

এটা প্রমাণ করার জন্য কোর্ট কাচারী পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আপাতদৃষ্টিতেই তা অনুমেয়। দশ বছর পূর্বের অতি সাধারণ অনেক ব্যক্তি দলীয় রাজনীতির নামে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে মালিক বনে গেছেন শত শত কোটি টাকার। তাদের অর্থ বৈভবের স্ফীতি ঘটেছে জ্যামিতিক হারে।

যা একজন সাধারণ মানুষের চোখেও অস্বাভাবিক বলে প্রতিভাত হয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শত:সহস্র কোটি নয়, লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোতে বাড়ি-গাড়ি ও ব্যবসায়-বাণিজ্য গড়ে তুলেছেন অনেক রাজনীতিক। বিদেশে পড়াশুনা করছে তাদের সন্তানরা। একশ্রেনীর সামরিক-বেসামরিক আমলা দেশের অভ্যন্তরেও গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। গণঅভ্যুত্থানে পর রাজনীতিকদের অবৈধ সম্পদের খতিয়ান ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশের ভবিষ্যত সম্পর্কে। এসব কারণে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে রাজনীতিকদের সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নিয়ে। সময় এসেছে মিথ্যাচারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর।

Posted ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.