Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ধরপাকড় বৃদ্ধি : অভিবাসীরা আতঙ্কে

এক বছরে নিউইয়র্ক সিটিতে আইস’র হাতে সাড়ে ২৮ হাজার আটক

বাংলাদেশ রিপোর্ট :   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

এক বছরে নিউইয়র্ক সিটিতে আইস’র হাতে সাড়ে ২৮ হাজার আটক

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসের হাতে আটকের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অভিবাসীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র নিউইয়র্ক সিটিতেই গত এক বছরে সাড়ে ২৮ হাজার অভিবাসী আটকের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলাকালে অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। যুদ্ধ শুরু হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে। মাঝে কিছু কিছু সময়ে যুদ্ধের প্রচণ্ডতা কমেছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা প্রায় নাকচ হওয়ার পর ‘আইস’ অবৈধ অভিবাসী আটকাভিযান পুনরায় গতি সঞ্চার করেছে। কেবল নিউইয়র্ক সিটিতেই এক বছরে ২৮,৪২৭টি অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে ‘ডিপোর্টেশনট্রেকারডটলাইভ’।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় গত ৪ এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ৫ লাখ ৮২ হাজার ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে রয়েছে ৬৫,৭৭০ জন। গত এপ্রিল পর্যন্ত ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে আটক ছিল মাত্র ৫,৪৫০ জন। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ‘আইস’ গত দেড় বছরে মোট ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে বহিস্কার করেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৩ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৪ লাখ ৩ হাজার, ২৯৪ জন। এছাড়া সীমান্তে আটকে দিয়েছে প্রায় ৩০ লাখ বিদেশিকে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে এবং ১৬ লাখ অভিবাসী স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছে মর্মে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পরিসংখ্যানে পাওয়া যাচ্ছে।

গত ১ জুলাই নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক রিপোর্টে শহর এলাকাগুলোতে মাত্র ৫ দিনে দশ হাজারের বেশি অভিবাসী আটকের কথা বলা হয়েছিল। এরপর থেকে আটক সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ফলে অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ‘আইস’কে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তারা ডিপোর্টেশনযোগ্য অভিবাসীদের আটক কাজে অধিক মনোযোগী হন। ‘আইস’ এজেন্টরা অভিবাসীদের আদালতে হাজিরার সময়, ট্রাফিক সিগন্যালে এবং পথেঘাটে সন্দেহভাজন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার শুরু করেছে। এই উদ্যোগের ফলে সাম্প্রতিক আটকের সংখ্যা চলতি বছরের শুরুতে দৈনিক আটক সংখ্যা ১,০০০ এর চেয়ে এখন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী হোয়াইট হাউস গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়াতে চায়। বর্তমান গতি কতদিন বজায় রাখা সম্ভব হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে, দৈনিক ২,০০০ গ্রেপ্তারই এখন নতুন মানদণ্ড। টাইমস বলেছে, গ্রেপ্তার বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপক সংখ্যায় ডিপোর্ট করার প্রতিশ্রুতি পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র লরেন বিস নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। কেউ যদি অবৈধভাবে আমাদের দেশে আসেন, আমরা তাকে খুঁজে বের করব, গ্রেপ্তার করব এবং ডিপোর্ট করব।’

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এখন অবৈধ অভিবাসী পাকড়াও এ ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। ‘আইস’ এর সূত্র উল্লেখ করে রিয়েল-টাইমট্রেকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী গত সপ্তাহে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে ২১,৯০০ এর বেশি অভিবাসী বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে এবং এসব অভিযানে গ্রেপ্তার, ডিটেনশন সেন্টারে প্রেরণ ও কিছু ডিপোর্টেশনের ঘটনাও ঘটেছে। কেবল নিউইয়র্ক সিটিতেই ২৮,৪২৭টি অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে ‘ডিপোর্টেশনট্রেকারডটলাইভ’।

এতে আরো জানান হয়েছে যে, টেক্সাসে হিসপানিক অধ্যুষিত এলাকাসমূহ- হারলিঞ্জেন, এল পাসো এলাকায় সর্বোচ্চ সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। শহরাঞ্চলেল মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি এবং হিউস্টনে অভিবাসী আটকের সংখ্যা অধিক। পেনসিভেনিয়া, ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়া এবং মিডওয়েস্টেও ‘আইস’ এর ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। গণমাধ্যম কর্মীরা উল্লেখ করেছেন যে, অভিবাসীদের গ্রেফতারের জন্য ইমিগ্রেশন কোর্ট এলাকা, অভিবাসীদের কর্মস্থল ও বাসস্থান, বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার পাশাপাশি আইস’ এর নজরদারি, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করেছে বলেও ‘ডিপোর্টেশনট্রেকারডটলাইভ’ উল্লেখ করেছে।

একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ‘আইস’ এর অভিযানে দেশের সর্বত্র চলছে। কিন্তু তারা তাদের অভিযান সব অঞ্চলে এক ধরনের নয়। যেখানে যে কৌশলে অভিযান পরিচালনা করলে অধিক ফলপ্রসু হতে পারে, তারা সেভাবে অভিযান চালাচ্ছে। যদিও দৃশত্য শহর ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অবৈধ অভিবাসী ধরপাকড়ের সংখ্যা অধিক, কিন্তু আমেরিকান গ্রাম ও শহরতলীতেও ‘আইস’ এর অভিযান চলছে। অভিবাসন অধিকার প্রবক্তারা প্রতিটি অভিবাসী কমিউনিটির বৈধ-অবৈধ অভিবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, ‘আইস’ এর অভিযানে আটক হওয়ার আগে, এমনকি আটক হওয়ার পরও আইনি সহায়তা লাভের সুযোগ গ্রহণ করেন।

টেক্সাসে আটক ২৩৮ অভিবাসী, অভিবাসন বিরোধী অভিযানে নিহত ২
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জানিয়েছে, টেক্সাসের রিও গ্র্যান্ড ভ্যালিতে একদিনের অভিযানে ২৩৮ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এটি ওই অঞ্চলে তাদের পরিচালিত সবচেয়ে বড় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান। বুধবার ফক্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। এ অভিযান এমন সময় পরিচালিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসনবিষয়ক ট্রাফিক স্টপ বা যানবাহন থামিয়ে পরিচালিত অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ ধরনের বেশিরভাগ অভিযান স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ট্রাফিক স্টপ আইসিইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর অপরাধ দমন কৌশলগুলোর একটি। আইসিই জানায়, ১৮ জুন হারলিনজেন ফিল্ড অফিস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন ও মাদক রাখার মতো অপরাধে পূর্বে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

হারলিনজেন ফিল্ড অফিসের পরিচালক হুয়ান আগুদেলো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জননিরাপত্তা জোরদার করা এবং দেশের অভিবাসন ব্যবস্থার অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আইসিইর অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মেক্সিকোর নাগরিক ম্যানুয়েল মোরালেস-হেরোনিমো রয়েছেন। আইসিইর দাবি, তিনি ‘পাইসাস’ নামের একটি গ্যাংয়ের সদস্য। তার বিরুদ্ধে মারামার, মাদক ও গাঁজা রাখা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং তিনবার অবৈধ পুনঃপ্রবেশের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এ ছাড়া আটক হওয়া আরেক মেক্সিকান নাগরিক হোসে আলফ্রেদো কাস্তিয়ো-মেন্দোজা-র বিরুদ্ধে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন এবং অবৈধ পুনঃপ্রবেশের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আইসিই। সূত্র : আনাদোলু

Posted ২:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.