ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সাথে যে বাকবিতণ্ডা, যুদ্ধ, বিরতি আবার যুদ্ধ-যুদ্ধ অবস্থা তার সমাধান বা স্থায়ী বিরতির কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। যে পণ্যের সরবরাহ জলপথের অতি ক্ষুদ্র কিন্তু ট্যাংকার চলাচলে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল তা দুপক্ষই অবরোধ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইসরাইল নেমে আলী খামেনিসহ বিশিষ্টজনদের হত্যা করেছে। ইসরাইল মদদ যোগাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে আছে।
অতি সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর বিকল্প তেল সরবরাহ জলপথে পৌঁছানোর ২০০৩ সালে বিধ্বস্ত পাইপ লাইন মেরামত ও প্রতিস্থাপন করতে ইরাক সিরিয়া এক্যমত হয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তড়িঘড়ি দেখে ধারণা হয় এ এক নতুন খেলা।
ইরান হরমুজ প্রণালীর স্বত্বে ভাগ, কর আদায়ে হিস্যা -এসব ব্যাপারে কোন ছাড় দিচ্ছে বলে মনে হয় না, ভবিষ্যতে চাপে নতি স্বীকার করবে এমন ভাবার স্বপক্ষে তেমন কোন যুক্তিও নেই। তবে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায় সম্পদ গুড়িয়ে দেয়া কি ঠিক হচ্ছে। তবে, অচলাবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মিডটার্ম ইলেকশনের প্রাক্কালে তেলের দাম বাড়ছে যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে দ্রুত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের ঘাটতি, অত্যধিক মূল্য অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। শিল্প কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা এক’দু বছর আগের মত নেই। ইরানকে শায়েস্তা করতে না পারায় নেতিনিয়াহু ট্রাম্পের ওপর অখুশী।
ন্যাটো মিত্রদের ইরান যুদ্ধে পাশে না পেয়ে ট্রাম্প মহা অখুশি। এদিকে, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া রণসাজে। জাপান, ফরমোজা (তাইওয়ান) শঙ্কিত।
ইউক্রেনে সন্ধি, শান্তির কোন অগ্রগতি নেই। আমেরিকা তাই নতুন চাল খেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তি দেয়া হচ্ছে যে ইরাককে অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল, সচল করতে হলে তেল উৎপাদন বাড়াতে হবে (২০০৩ সালের পূর্বে দৈনিক উৎপাদন ছিলো ৪.২ মিলিয়ন ব্যারেল যা বর্তমানে নেমে দৈনিক ১.৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁডিয়েছে) এবং সরবরাহের নিরাপত্তা ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের বিধ্বস্ত পাইপ লাইনটি মেরামত ও পুননির্মাণ করে তা সিরিয়ার ভূমধ্যসাগর কোষ্টে নিলে একটি বিকল্প সরবরাহ রাস্তা জলপথে সংযুক্ত হবে।
ইরাক এবং সিরিয়া সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয় । এতে ইরাকের পক্ষে বসরা অয়েল কোম্পানির সিইও বাসেম আব্দুল করিম এবং সিরিয়ার পক্ষে সিরিয়া পেট্রোল কোম্পানির সিইও ইউসেফ ক্যাবলাওয়ি স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাইট বলেন,
“There is so much room to drive improvement in Iraq, to raise oil production, to reduce dependencies in hostile neighbors, to bring freedom, prosperity and abundant energy to the nation of Iraq. (see, Spencer Kimball, Iraq and Syria to Straits of Hormuz, CNBC, 17 July 2026),
উল্লেখ করা যেতে পারে যে গত মঙ্গলবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়গা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেছেন। দ্রুততালে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো কার্যকর হবে কতটুকু তা কিন্তু নির্ভর করবে ইরানের উপর। পাইপ লাইনের অবস্থান ইরানের দ্রোন এবং অপরাপর ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ আওতায় বিধায় কার্যকরী ভূমিকা ইরানের উপর অনেকটা নির্ভর করবে।
ম্যানহেচেট হিলস, লং আইল্যান্ড
Posted ২:৫৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh