Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

রেমিট্যান্স যোদ্ধারা সরকারের মনোযোগ বঞ্চিত

  |   বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রেমিট্যান্স যোদ্ধারা সরকারের মনোযোগ বঞ্চিত

সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাংলাদেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় গেছে, তার প্রায় ৬২ শতাংশের উৎস পাঁচটি দেশ-সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করায় এগুলো থেকে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ। সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় পাঠাতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। এ জন্য ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যম নিরুৎসাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয়প্রবাহে। তবে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল।

তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অদক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক বেশি থাকায় সেখানকার রেমিট্যান্স সব সময় স্থিতিশীল থাকে না। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় সেখান থেকে আয় বেশি স্থিতিশীলভাবে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বা শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তারা নানা অবহেলার শিকার হন। দেশের দূতাবাস তাদের বিষয়ে উপযুক্ত দায়িত্ব পালন করে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন প্রবাসী আয়।

সীমাহীন লুটপাট, চরম অব্যবস্থাপনার পরও অর্থনীতি ধসের হাত থেকে বেঁচেছে উচ্চ প্রবাসী আয়ে। বিদেশে বিপুল প্রবাসী কঠোর পরিশ্রম করে দেশকে যখন সচল রাখছেন; তখন তাদের স্বার্থ রক্ষায় গাফিলতি অবহেলা চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তারা নানা অবহেলার শিকার হন। দেশের দূতাবাস তাদের বিষয়ে উপযুক্ত দায়িত্ব পালন করে না। এ সুযোগ নেয় নানা অসাধু চক্র। এমনকি তারা কর্মরত দেশের সরকারের দ্বারাও বঞ্চিত হন। সম্প্রতি কুয়েতে অর্ধলাখ প্রবাসী ঘরছাড়া হয়ে বড় বিপদের মধ্যে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানী কুয়েত সিটিতে সরকার বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। জিলিব আল-শুয়ুখ, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করে। যারা সময়মতো বাসাবাড়ি থেকে বের হতে পারেননি তাদের আসবাব গৃহস্থালি রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। তার আগে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ১৬ জুলাই রাতে শুরু হওয়া অভিযানে ৫০ হাজার বাংলাদেশী প্রবাসী রয়েছেন। উচ্ছেদের শিকার হওয়া বাসিন্দাদের বড় বিপদের কারণ হচ্ছে উচ্চ তাপদাহ। এ সময়ে সেখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলাসিয়াস। খোলা জায়গায় শিশু ও নারীরা তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ পড়েছেন। অনেক বাংলাদেশীকে এ সময়ে কয়েক দিন খোলা স্থানে থাকতে হয়েছে। অস্থায়ী শিবিরের ব্যবস্থা করা হলেও যথেষ্ট না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

বাংলাদেশী শ্রমিকদের অন্যতম গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত। দেশটিতে বসবাসকারী ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে তিন লাখ বাংলাদেশী। অভিযানে বিপুল বাংলদেশী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় দূতাবাসের গাফিলতি আছে কি না তা আলোচনায় এসেছে। ওই এলাকায় বিপুল বাংলাদেশী থাকায় স্থানীয় দূতাবাসের বিষয়টি অবহিত থাকা দরকার ছিল। অবস্থাদৃষ্টে স্পষ্ট যে, কুয়েতে থাকা বিপুল প্রবাসী কর্মী দূতাবাসের যথেষ্ট মনোযোগ পাননি। দূতাবাসের অবহেলা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রবাসীদের নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে প্রবাসে এবং দেশে কোথাও তারা উপযুক্ত মর্যাদা ও মূল্যায়ন কোনোটাই পাচ্ছেন না।

Posted ২:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকীয়

(5573 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(2075 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(1673 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1373 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1177 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1157 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1064 বার পঠিত)

বিদায় ২০২০ সাল

(1005 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(943 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: weeklybangladesh@yahoo.com

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.