নিউইয়র্ক : | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রবাস জীবনের সব ব্যস্ততাকে ছুঁড়ে ফেলে আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হয়ে গেল প্রবাসে অন্যতম পেশাজীবি সংগঠন ইয়েলো সোসাইটি নিউইয়র্ক ইনকের বনভোজন। গত ১৯ জুলাই রবিবার লং আইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে মনোরম পরিবেশে বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন করে সংগঠনটি। পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাস করুক না কেন, ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের টান উপভোগ করেন বাংলাদেশিরা।

সোসাইটির সদস্য, তাদের পরিবারবর্গ এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে ভ্রমণে যায় ইয়েলো পরিবার সদস্যরা। গন্তব্যে পৌঁছে সবাই নয়ন ভরে দেখে নেন প্রাকৃতিক বুকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। তাঁরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। কয়েক পর্বে সাজানো অনুষ্ঠানে শুরু ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সকলের উপস্থিতিতে বেলুন উড়িয়ে বনভোজনে উদ্বোধন করেন সোসাইটির সভাপতি মাসুদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহেদুল হক রওশন ও পিকনিক উদযাপন কমিটির আহবায়ক মামুন খান।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো: শাহ আলম, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ. আউয়াল ভূইয়া, বুলু মিয়া, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, মো: জহিরুল ইসলাম, আলি আক্কাস, আলতাফ হোসেন, সালমান জাহিদ জুয়েল, শেখ ইলিয়াস হাবিব, মাসুদ রানা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ খাঁন শিবলি, আবওয়াবুল চৌধুরী আরবাব, মো: সিদ্দিকুর রহমান, কার্যকরী কমিটির সদস্য মো: হাশেম আলি, সাইফুল্লাহ আল সুমন ভূইঁয়া, মো: আল মমিনুর রশিদ, শেখ সেকান্দর আলী, নিজার হোসেন, মোহাম্মদ মোবারক, মোহাম্মদ হোসেন ফরিদ. মো: জহির উদ্দিনসহ কমিউনিটি লিডারদের অনেকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় পার্কের ঝকঝকে সজীব পাতার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল ইয়েলো পরিবারের সদস্যরা।
প্রায় ৬০০ লোকের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনব্যাপী বনভোজনে ছিল নানা ধরনের আয়োজন। এবার বনভোজনে সবচেয়ে আকষর্ণ ছিল বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলার দৃশ্য। তবে খাবারের কথা না বললে বনভোজন থেকে যায় অসম্পূর্ণ। সকালে নাশতা, দুপুরে খাবার, বিকেলে জ্বাল-মুড়ি, আইত্রুীম, চা আর পান-সুপারি। আয়োজকদের চেষ্টা ছিল সবার কাছে উপভোগ্য এবং স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলা। বলা যায়, সে প্রচেষ্টা সম্পন্নটাই সফল। দুপুরের খাবারের পরই ছিল গানের তালে তালে মহিলাদের বালিশ খেলা, কৃতিছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর র্যাফেল ড্র।
খাবারের পরেই ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রোকসানা মির্জা, অমিত কুমার ও তানভীর শাহিন। সবশেষে ছিল র্যাফেল ড্র। এতে প্রথম পুরস্কার নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান টিকেটসহ ১৫টি আকষর্ণীয় পুরস্কার ছিল। মহিলাদের বালিশ খেলা, মার্বেল, দৌড় প্রতিযোগিতা, রশি টানাটানিসহ বিভিন্ন ইভেন্টে শতাধিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। বনভোজনের ব্যতিক্রম ইভেন্ট ছিল মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, ফাউনিয়া আহমেদ লিবা ও সাফওয়ান হান্নান।
সবশেষে ছিল মাসুদ চৌধুরী, মোঃ শাহেদুল হক রওশন ও মামুন খান সমাপনি বক্তব্যে। তাদের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে সমাপ্ত হয় বনভোজনের কার্যত্রুম। দিনশেষে খানিকটা ক্লান্ত হলেও সবাই ঘরে ফিরেছে ভালোলাগা নিয়েই। এ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবদি যে সকল সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন তাদেরকে উৎসর্গ করে “সম্প্রীতি-১৩” নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এতে সম্পাদনায় ছিলেন সাইফুল্লাহ আল সুমন ভূইঁয়া।
Posted ৩:৩৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh
(3093 বার পঠিত)
(2574 বার পঠিত)