বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন, গত ২০ জুলাই সোমবার নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের অভিবাসী বিষয়ক কার্যালয় এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীদের সমন্বয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নতুন পাবলিক চার্জ বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে সতর্ক করেন যে, নতুন বিধি নিউইয়র্কজুড়ে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবা কর্মসূচি গ্রহণ থেকে নিরুৎসাহিত করবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্পের নতুন পাবলিক চার্জ বিধি কার্যকর হবে। নতুন বিধি অনুযায়ী অভিবাসন কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করবেন যে, যেসব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা গ্রহণ করছেন এবং যারা পারিবারিক স্পন্সরে যুক্তরাষ্টে বৈধ অভিবাসী হিসেবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি চাইবেন, তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, অর্থ্যাৎ তারা যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদির জন্য সরকারি ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কিনা।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত পরিবর্তিত পাবলিক চার্জ বিধি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলের পাবলিক চার্জ বিধির স্থলাভিষিক্ত হবে। বাইডেনের বিধি কার্যকর হয়েছিল ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে, যে বিধিতে পাবলিক চার্জ নির্ধারণ সীমাবদ্ধ ছিল আবেদনকারীর নগদ সহায়তা গ্রহণ বা সরকার-অর্থায়িত দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা ব্যবহারের মধ্যে। নতুন বিধির অধীনে অভিবাসন কর্মকর্তারা বিস্তৃত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করবেন, যাতে নির্ধারণ করা হবে যে, কোনো অভিবাসী নাগরিকত্ব অর্জন করতে ও অভিবাসন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারবেন কিনা অথবা আদ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য কি না। সবকিছুর মর্ম হলে উক্ত ব্যক্তি পারিবারিক স্পন্সরশিপে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর রাষ্ট্রের দায় হয়ে পড়বেন কিনা।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন ট্রাম্পের নতুন পাবলিক চার্জ বিধিকে বিপজ্জনক পশ্চাদপদ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র বসবাসকারী অভিবাসী, এবং যারা পারিবারিক স্পন্সরশিপে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য তাদের নিজ নিজ দেশে অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে এবং তারা ভীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাচ্ছেন। কারণ ট্রাম্পের পাবলিক চার্জ বিধিতে তারা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণের জন্য জরিমানাসহ বিভিন্ন সাজার মধ্যে পড়তে পারেন।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আওয়াওদেহ ব্রিফিংয়ে বলেন, পাবলিক চার্জ বিধি আমেরিকার করদাতাদের নিরাপত্তার ব্যাপার নয়, প্রশাসন এ বিধিতে পরিবর্তন এনেছে অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে এবং ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য। এর প্রভাব কেবল যারা সরাসরি এর আওতায় পড়বেন, তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পরিবারগুলোকে চরম পীড়নের মধ্যে ফেলবে যে, তারা নিরাপদে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন কি না, অথবা পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারবেন কি না। আমাদের কোয়ালিশন কাজ চালিয়ে যাবে যাতে নিউইয়র্কের প্রতিটি অভিবাসী কমিউনিটি বিশ্বস্ত আইনি পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ লাভ করে।
সিটি মেয়রের অভিবাসী বিষয়ক কমিশনার ফাইজা এন আলী বলেছেন, কারও অভিবাসন স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, সকল বাসিন্দা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সিটির সেবা গ্রহণের অধিকার রাখে। পাবলিক চার্জের আওতা বৃদ্ধির ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্ত নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশাপাশি সিটির অর্থনীতির ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। মানুষ যখন চিকিৎসা নিতে, অপরাধের অভিযোগ জানাতে বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে ভয় পায়, তখন পুরো কমিউনিটি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে। নাগরিকাদের চিকিৎসা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং সবার নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে।
তিনি পাবলিক চার্জ নিয়ে উদ্বেগের কারণে সেবা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্কবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সিটি মেয়রের অফিসের অভিবাসন বিষয়ক অফিসে বিনামূল্যে এবং গোপন আইনগত সহায়তার জন্য লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইন ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের অধিকার সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে। তিনি বলেণ, আমরা অভিবাসী কমিউনিটির পাশে থাকব এবং এমন একটি ভবিষ্যতের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব যেখানে সকল নিউইয়র্কবাসী নিরাপত্তা, সুযোগ এবং মর্যাদার জীবন যাপন করতে পারবেন।
অ্যারাব-আমেরিকান ফ্যঅমিলি সাপোর্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক র্যান্ডি আলী পাবিলিক চার্জ বিষয়ক ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধিকে অত্যন্ত বিবেকহীন বলে উল্লেখ করে বলেছেন যে, প্রশাসন এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে, যখন সারা দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে এবং অনেক নিউইয়র্কবাসী তাদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে জীবনপণ সংগ্রাম করছেন। নতুন পাবলিক চার্জ বিধি কার্যকর হলে নিঃসন্দেহে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এশিয়ান আমেরিকান ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথরিন চেন বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন আবারও কর্মজীবী পরিবারগুলোকে শাস্তি দিতে অভিবাসন নীতি ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এই নিষ্ঠুর পাবলিক চার্জ নীতি পরিবারগুলোকে এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলবে, যেখানে তারা এই দেশে তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা এবং নিজেদের সন্তানদের সেবার মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে। প্রায় ৭০টি কমিউনিটি সংগঠনের আমাদের নেটওয়ার্কজুড়ে পরিবারগুলো ইতোমধ্যেই ভয়ের কারণে সুবিধা ত্যাগ করছে এবং খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের মতো সেবাও এড়িয়ে চলছে। আমরা পরিবারগুলোকে অনুরোধ করছি, আইনিভাবে পাওয়ার অধিকার রয়েছে এমন সুবিধা ত্যাগ বা এড়িয়ে যাওয়ার আগে বিশ্বস্ত আইনি উৎস থেকে প্রকৃত তথ্য জেনে নিতে।
গ্রিন কার্ড পেতে দিতে হবে ১ লাখ ডলারের বন্ড!
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন যারা, তাদের জন্য বড় ধরনের একটি ধাক্কা আসতে পারে।
যারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রিন কার্ড’ বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য ১ লাখ মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি) একটি বন্ড বা জামানত চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’-এর একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত যে সমস্ত আবেদনকারী ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন অথবা সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে মনে করা হবে, তাদের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এই বন্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো—অভিবাসীরা যেন যুক্তরাষ্ট্রে এসে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং দেশটির সামাজিক কল্যাণমূলক ও জনসহায়তা কর্মসূচির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করেন। এ বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, অভিবাসন ব্যবস্থা কার্যকর করতে এবং দেশের আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সাথে যৌথভাবে কাজ করছে মার্কিন সরকার।
টমি পিগট আরও বলেন, “অভিবাসন ব্যবস্থার সততা ফিরিয়ে আনতে এবং যারা গুরুতর চিকিৎসাজনিত বা অন্যান্য ব্যয়বহুল প্রয়োজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন, তাদের আর্থিক বোঝা থেকে আমেরিকান জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে রক্ষা করতে আমরা কাজ করছি।” তিনি জানান, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের (ওঘঅ) আওতাধীন দীর্ঘদিনের একটি আইনি ক্ষমতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে এই বন্ড চালুর বিষয়টি অনুসন্ধান করছে প্রশাসন। আবেদনকারীদের জন্য এটি কীভাবে কাজ করবে?
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই বন্ডের অর্থ আবেদনকারী নিজে অথবা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা জমা দিতে পারবেন। পরবর্তীতে অভিবাসী যদি সফলভাবে মার্কিন আইন মেনে চলেন এবং সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল না হন, তবে নির্দিষ্ট সময় পর এই বন্ডের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মতে, যেসব আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের জন্য এই বন্ড হবে নিজেদের স্বাবলম্বিতা প্রমাণ করার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার একটি নতুন সুযোগ। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি (ঐ-১ই) ভিসা আবেদনের ওপর ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের চেষ্টা করেছিল, যা পরবর্তীতে ফেডারেল আদালত কর্তৃক বাতিল হয়ে যায়। তবে বর্তমান গ্রিন কার্ডের ফি যেখানে মাত্র ১,৪৪০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২,০০০ ডলারের কাছাকাছি, সেখানে ৬ অঙ্কের (১ লাখ ডলার) এই বন্ড চালুর প্রস্তাবকে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় একটি নজিরবিহীন ও নাটকীয় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সরকার এবং ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ (নাগরিকত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেওয়া) বন্ধসহ সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠোর করার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এই বন্ড প্রথা তারই একটি অংশ।
গ্রিনকার্ডধারীরাও বহিস্কার হতে পারেন নৈতিক স্খলনে
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারী বা স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে বর্ডার এজেন্টরা ইচ্ছা করলেই গ্রিনকার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে পুন:প্রবেবোধা দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় অনুযায়ী বর্ডার এজেন্টদের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে যে, কোনো গ্রিনকার্ডধারীর বিরুদ্ধে যদি এমন কোনো ফৌজদারি অভিযোগ থাকে, যা আদালতৈ প্রমাণিত হয়নি, সেক্ষেত্রে বর্ডার এজেন্টরা অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রিনকার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার অধিকার চ্যালেঞ্জ করতে পারেন এবং এর ফলে গ্রিনকার্ডধারীকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট বা বহিষ্কারের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে একটি বড় ধরনের আইনি সুবিধা দিয়েছে, যা বৈধ অভিবাসনের ওপর প্রেসিডেন্টের ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থানের সহায়ক। এই রায়ের ফলে বর্ডার এজেন্টরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে, গ্রিনকার্ডধারীরা আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারবেন কিনা। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ রায়ে প্রশাসনকে সরকারকে আমেরিকার বাইরে থেকে পুনরায় আমেরিকায় প্রবেশ করার সময় গ্রিনকার্ডধারীদের সুযোগকে শর্তাধীন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আদালতের মতে, কোনো গ্রিনকার্ডধারীকে আমেরিকায় পুন:প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য বর্ডার এজেন্টদের কাছে সংশ্লিষ্ট গ্রিনকার্ডধারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ থাকাই যথেষ্ট। তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন, এমন ‘স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।
অবশ্য উদারপন্থী বিচারপতি কেতনজি ব্রাউন জ্যাকসন এই মর্মে তার মতামত দিয়েছেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠের এই রায় গ্রিনকার্ডধারীদের অধিকারকে অবহেলার সঙ্গে অগ্রাহ্য করেছে এবং প্রশাসনকে অভিবাসন আইন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য একটি বড় ব্ল্যাংক চেক প্রদান করেছে। এই রায় প্রশাসনের জন্য এমন সুযোগ তৈরি করেছে যে, তাদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা কোনো গ্রিনকার্ডধারীর আইনি অবস্থান বদলে দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই ধারাবাহিকতা সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর স্পষ্ট ভাষা ও মৌলিক কার্যক্রমকে দুর্বল করে, যা নিশ্চিত করে যে গ্রিনকার্ডধারীদের সীমান্তে প্রবেশের জন্য আবেদনকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না, যদি না নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হয়। এছাড়া তিনি মনে করেন, এমনকি ওই ব্যক্তি যদি পরে মুক্তিও পান এবং তাকে ডিপোর্ট করার প্রশাসনিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, তবুও গ্রিনকার্ডধারীর বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তার স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা তার জন্য খুব বেশি সান্ত্বনার হবে না।
Posted ২:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh