| বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল এক উচ্চাভিলাষী বাজেট পাস হওয়ার পর গতকাল বুধবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিগণ নতুন বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ বর্ণনা করে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নতুন বাজেট অতীতের মতো দেশে কোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যৈ প্রণীত হয়েছে।
এ বাজেট সার্বিকভাবে জনমুখী এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা বাজেট সম্পর্কে যত আশাবাদই ব্যক্ত করুন না কেন বাজেটের ব্যয়বরাদ্দের সুফল পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অপচয় ও দুর্নীীত রোধ করে যথাযথভাবে বাজেটের কর্মসূচি বাস্তবায়ন। বাস্তবায়ন।
ঘোষিত কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ না পেলে মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। বাজেটের সাফল্যই নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। নতুন বাজেট সদ্য সমাপ্ত গত অর্থবছরের বাজেটের আকারের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা অধিক। মূল্যস্ফীতি এবং ব্যয়বৃদ্ধির কারণে প্রতিবছর বাজেটের আকার স্ফীত হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আর্থিক পরিমাণ বেড়ে চলার সঙ্গে যদি মানুষের প্রয়োজনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে ব্যয় করা না হয়, বরং নানা ফাঁকফোকড় দিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ পানির প্রবাহের মতো বয়ে চলে যায়, তাহলে বাজেটের আকার বড় করেও কোনো লাভ হবে না। মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। প্রতবছর বাজেট পাস হওয়ার পর সরকার ও সরকারি দল এবং সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী সংস্থাগুলো বাজেটের প্রতিটি দিকের উচ্ছসিত প্রশংসা করেন এবং সরকার বিরোধীরা ঢালাওভাবে বাজেটের বিরূপ সমালোচনায় মুখর হন এবং রাস্তায় বাজেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। এবার এর বতিক্রম হয়েছে।
কার্যকর বিরোধী দল না থাকায় জাতীয় সংসদে বাজেটের খাতওয়ারী সমাালোচনা যেমন তীব্র ছিল না, সামগ্রিকভাবে বাজেটের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের বলার কিছু ছিল না বলেই মনে হয়। এমনকি বাজেটের বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক দিকের সংশোধন চেয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাস্তায় কোনো প্রতিবাদ বিক্ষোভও দেখা যায়নি। ধরা যায়, বাজেটে বিরোধী দল তেমন কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে পায়নি। সরকার বিরোধী অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা যেহেতু মনে করছেন যে, দিনকাল ভালো নয় বা পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নেই, সেজন্য তারা বাজেট নিয়ে মুখ খোলেননি।
সবকিছুর মধ্যে একটি বিষয় সত্য যে, বাজেটের বিপুল ব্যয়বরাদ্দসহ নতুন সরকারের নতুন বাজেট উচ্চাভিলাষী বাজেট। নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিফলন এতে রয়েছে। বাজেটে বেশ কয়েকটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক উদ্যোগ। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সম্পদ সংগ্রহ, সঠিক বরাদ্দ, কার্যকর তদারকি এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন। সরকারের উচিত অগ্রাধিকারভিত্তিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শুরু করা। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মান, সময়ানুবর্তিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করে বাস্তবায়নের ওপর। এটাই নুতুন অর্থবছরের বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
Posted ১:০৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh