| বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৫
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার লক্ষ্য ও ভূমিকা এখন জাতির সামনে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিকে কলুষিত ও অর্থনীতিকে ধ্বংসই করেননি, তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে মাফিয়া গ্যাংয়ে পরিণত করেছিলেন। আওয়ামী লীগ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই কাজ করে গেছে পাকিস্তান আমলেই আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বর্জনের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে গিয়ে এখন দিল্লিতে বসে বাংলাদেশ বিরোধী প্রপাগান্ডায় লিপ্ত। এখন ভারতীয়রা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শত্রুর মত আচরণ করছে।
তারা কখনোই স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনি। বাংলাদেশের অভাবনীয় সম্ভাবনাকে আড়াল করে ভারত বাংলাদেশকে করদ রাজ্যে পরিণত করতে আওয়ামী লীগকে কাজে লাগাতে চেষ্টার এখনো কোনো ত্রুটি করছে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতন্ত্রের অঙ্গিকার থেকে বিচ্যুত হয়ে লাখো শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করার অপরাধে শেখ মুজিব মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারদের হাতে নিহত হওয়ার পর বিদেশে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত পরবর্তী টার্গেট হিসেবে গ্রহণ করে দিল্লিতে রেখে তাকে বিশেষভাবে মগজধোলাইসহ রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।
ভারতের বিশেষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা অজিত দোভাল সেই সত্তরের দশক থেকে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ,সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ, হাজার হাজার মানুষকে গুম-খুন, লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার হুলিয়া জারির সাথে সাথে তথ্য প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এ যুগে নির্বতনমূলক আইসিটি আইন জারি করে সব পথ, সব মুখ বন্ধ করে মেরুদন্ড হিম করা একটি ভয়ের সংস্কৃতি চালু করে শেখ হাসিনার ক্ষমতা, ভারতীয় আধিপত্য ও লুন্ঠন টিকিয়ে রাখার সর্বাত্মক পন্থা অবলম্বন করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার পিতা যেমন আজীবন ক্ষমতায় থাকার আইনগত বন্দোবস্ত পাকা করেও টিকে থাকতে পারেননি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে প্রথমেই সম্ভাব্য সব প্রতিরোধ ভেঙে দেয়ার কূটকৌশল গ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, এনএসআই, এলিট ফোর্স র্যাব কে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার নিষ্ঠুর মিশনে নামিয়ে দেয়ার এমন ধারাবাহিক তৎপরতা সাম্প্রতিক বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। আওয়ামী দোসর ভারতের বিজেপি সরকার অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিবেশিদের উপর আগ্রাসি আধিপত্যবাদী নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের কারণে উপমহাদেশে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না। বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার আয়োজন ও পরিকল্পনা আরো প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। তারা তাদের নতুন পার্লামেন্ট ভবনে মিথলজিক্যাল অখন্ড ভারতের মানচিত্র স্থাপন করেছে। ভারত ভাগ করে মুসলমানদের আলাদা রাষ্ট্র গঠনের অপরাধে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা গান্ধীকে হত্যা করেছিল।
হিন্দুত্ববাদী অখণ্ড ভারতের তাবেদারি,গণবিরোধী ভ’মিকা ও গুম-খুন, গণহত্যা ও রাষ্ট্র ধ্বংসের দায়ে বাংলাদেশের বীর ছাত্র-জনতা শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। শেখ মুজিবের হত্যাকারিরা ১৯৭৫ সালে যেমন দেশের মানুষের কাছে বীরের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছিল, ৫০ বছর পেরিয়ে এসে ২০২৫ সালেও তাদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রয়েছে। আমাদের বাস্তবতায় আমরাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে পারি, লাখো শহীদের রক্তের সাথে যে বা যারাই বেইমানি করবে, জাতিকে বিভক্ত করে রাষ্ট্রের সম্পদ লুন্ঠন করবে, দেশের জনগণ ও ইতিহাস তাদেরকে ক্ষমা করবে না। সে সব গণ্যশত্রু দুর্বৃত্তদের বিচারের সম্মুখীন করার মধ্য দিয়েই জাতীয় ঐক্য সুসংহত ও সমৃদ্ধ, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে নবযাত্রা সূচিত হতে পারে।
Posted ২:১২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh