বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
গতমাসে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পেহালগামে সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৬ পর্যটকের নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বলা যায় যে, দুই চিরশত্রু দেশের মধ্যে আবার যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
পেহালগামের ঘটনার পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে ভারত একতরফাভাবে পাকিস্তানকে দোষারোপ করেছে। পাকিস্তান এর দায় অস্বীকার করে যৌথ তদন্ত পরিচালনার প্রস্তাব দিলেও ভারত তা মানেনি। বরং গত মঙ্গলবার আজাদ কাশ্মীরের মুজাফরাবাদসহ পাকিস্তানের পাঞ্জাবের ছয়টি স্থানে মিসাইল আক্রমণ করেছে। হামলা লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে এমনকি মসজিদ পর্যন্ত। পাকিস্তান বলেছে ভারতীয় হামলায় মোট ২৬ জন নিহত হয়েছে।
ভারত পাকিস্তানের নয়টি ‘সন্ত্রাসবাদী স্থাপনার ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে। তবে ইসলামাবাদ বলেছে, পাকিস্তানের ছয়টি স্থানে হামলা হয়েছে এবং সেগুলোর কোনোটি ‘জঙ্গি শিবির’ ছিল না। তারা ভারতের ৫টি যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করার দাবীও করেছে। এভাবে চলতে থাকলে এক পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। পাকিস্তান বলেছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় তাদের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। দেশটি হুঁশিয়ার করে বলেছে, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও বেসামরিক লোকজনকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে সময়মতো ভারতের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে তারা।
কাশ্মীর নিয়ে ভার-পাকিস্তান উত্তেজনা এবারই প্রথম নয়, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে উভয় দেশে তিনবার যুদ্ধ করেছে এবং প্রতিবার যুদ্ধের ফলাফল ছিল অমিমাংসিত। ইতিহাস সাক্ষী যে, এ দুটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানের পরিণতি শুভ হয় না, বিশেষ করে তা যখন কাশ্মীরের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু ভিত্তক হয়। সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীকে মানব-বান্ধব বলে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মানুষ নিজ স্বার্থে পৃথিবী বান্ধব, বা মানব বান্ধব কোনোটাই করতে পারেনি।
কাশ্মীরকে বলা হয় ভূ-স্বর্গ। কিন্তু ভারত কাশ্মীরবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রাধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের বাধ্য করছে জাহান্নামে বসবাস করতে। ভারত সরকার ১৯৪৭ সালের পর থেকে তাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে এবং কাশ্মীরিদের গত ২৫ বছর ধরে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। ভারতীয় প্রপাগান্ডায় কেবল কাশ্মীরিা নয় ভারতে বসবাসকারী সকল মুসলিম চিত্রিত হচ্ছে হিন্দু ও ভারত বিরোধী সন্ত্রাসীতে। কোনো মুসলিমের প্রতি সাধারণভাবে হিন্দু জনগোষ্ঠীর বন্ধুসুলভ আচরণ নেই।
বিজেপিসহ কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ভারতের মুসলিমদের ‘ঘরে ফেরা’ অর্থ্যাৎ হিন্দু ধর্মে ফিরে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছে বহুদিন থেকেই, যা অত্যন্ত অশুভ এক আলামত। কিন্তু হিন্দু উগ্রবাদীদের আশীর্বাদ নিয়ে যখনই বিজেপির মতো দল রাজনীতিতে আসবে, ততদিন পর্যন্ত ভারতের মুসলমানরা শান্তিতে থাকতে পারবে না। বর্তমানে কাশ্মীর ইস্যুতে যে উত্তেজনা, তাও বৃহৎভাবে উগ্রপন্থীদের একই লক্ষ্যের অংশ ছাড়া কিছু নয়। ভারতজুড়ে থাকা কাশ্মীরিরা, বিশেষ করে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা নানাভাবে আক্রমণ, হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। তাদের সহপাঠীরাও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশে কাশ্মীরি ভাড়াটেদের বের করে দিচ্ছেন বাড়ির মালিকরা। দোকানিরা কেনাবেচা করতে অস্বীকার করছেন তাদের সাথে। অসহায় কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন। কোথাও আশ্রয় না পেয়ে বিমান বন্দরে ঘুমাতে হচ্ছে কাশ্মীরিদের। কাশ্মীরের এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতো. আজকের ভারত বিপুলভাবে জাতিগত হিংসামূলক প্রপাগান্ডায় ভর করে চলছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এ বিবেচনায় কাশ্মীরিরা সহজ লক্ষ্যবস্তু।
একদিকে কাশ্মীরি, অন্যদিকে মুসলমান হওয়ার কারণে দু’দিক থেকেই তারা প্রপাগান্ডার শিকার হচ্ছে। শওকত সাহেবের বিশ্লেষণে জাতিগত হিংসামূলক প্রোপাগান্ডার কথা উঠে এসেছে। এমন প্রপাগান্ডা কোনো দেশের জন্য কল্যাণকর বলে বিবেচিত হতে পারে না। আজ কাশ্মীরিরা জুলুমের শিকার হচ্ছে, কাল হয়তো অন্য কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের লোক মজলুম হবেন। এভাবে মজলুমের সংখ্যা বাড়তে থাকলে ভারতে ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ কিভাবে রক্ষিত হবে? রাষ্ট্রের দর্শন ভঙ্গ করা হলে, রাষ্ট্রের সংহতি রক্ষিত হবে কেমন করে? বিষয়টি গভীর বিবেচনার দাবি রাখে।
Posted ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ মে ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh