| বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ-ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাইপ্রাসের প্রার্থীকে আট ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন জানিয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তানও। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য জাতিসঙ্ঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সেই সাথে জাতিসঙ্ঘের মূলনীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মাত্র তিন মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে সফল কূটনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার প্রতিফলন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসঙ্ঘের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। আমরা ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানাই। বিশেষ করে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবোত্তর টালমাটাল সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন হিসেবে তার সক্ষম ও সফল কূটনৈতিক ভূমিকা জাতি মনে রেখেছে। এখন তিনি জাতিসঙ্ঘের মতো আরো বড় পরিসরে অবদান রাখার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। আমরা মনে করি, এই অর্জন তার অতীত সাফল্যের উত্তম প্রতিদান। ড. খলিল একজন দক্ষ পেশাদার কূটনীতিক। কর্মজীবনের বড় অংশজুড়ে জেনেভা ও নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে বিভিন্ন সংস্থায় উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ছিলেন জাতিসঙ্ঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন-আঙ্কটাডের বিশেষ উপদেষ্টাও। তার নেতৃত্বে জাতিসঙ্ঘের এই সংস্থায় বাংলাদেশ বর্তমান নাজুক বিশ্বব্যবস্থায় অন্যতম প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে— এমন আশা সঙ্গতভাবেই করা যায়। ড. খলিল এরই মধ্যে এই বৈশ্বিক ফোরামের সব সদস্যের সভাপতি হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। বলেছেন, তিনি জাতিসঙ্ঘের সনদ অবিচলভাবে সমুন্নত রাখবেন এবং ছোট প্রতিনিধিদলগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করবেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। সঙ্ঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা কেন্দ্র করে আরো কার্যকর ও সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাজনৈতিক পোলিং পরিষেবা বাংলাদেশ এমন এক সময় এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলো, যখন বিশ্ব কেবল সঙ্ঘাত-বিক্ষুব্ধই নয়, বিশ্বের সব দেশের অভিন্ন স্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোও গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে। সামাজিক মূল্যবোধ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো প্রায়শ হুমকির মুখোমুখি অথবা উপেক্ষিত হচ্ছে। বিশ্বের দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারণা পরিত্যক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এককেন্দ্রিক ক্ষমতাবলয়ের একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও পারস্পরিক সহযোগিতার মূল নীতিভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা রীতিমতো হুমকির মুখে। সঙ্কট নিরসনে সংলাপের পরিবর্তে শক্তির প্রদর্শনী মুখ্য হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘ নিজেই আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। এমন এক সময়ে আমরা আশা করি— ড. খলিলুর রহমান বিশ্ব সংস্থার সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বহুপক্ষীয় সংযোগ, সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল হবেন। আমরা আশা করি ড. খলিলুর রহমান বিশ্ব সংস্থার সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বহুপক্ষীয় সংযোগ, সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফল হবেন।
Posted ২:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh