| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
রাজনীতিবিদরা যা মুখে বলেন, তা যে হৃদয়ে পোষণ করেন না, এই ঐতিহাসিক সত্য আরেকবার প্রমাণিত হতে যাচ্ছে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ব্যাখ্যা, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জারিকৃত অধ্যাদেশের অধীনের গণভোট অনুষ্ঠানের পর ক্ষমতায় আসীন সরকারের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহার মধ্য দিয়ে। ইতোমধ্যে এ বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বাদানুবাদ, ওয়াক আউটের ঘটনা ঘটেছে।
বিরোধী দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নেমেছে এবং অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগির দেশে আবারও সহিংস ঘটনার পথ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। গণভোট অর্থ্যাৎ জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের জন্য পরিষদ গঠনের জন্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বিতীয় শপথ গ্রহন করা থেকে বিএনপির সদস্যদের বিরত থাকার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় থেকে সম্পূর্ণ ইউ টার্ন নিয়েছে। তারা তবুও মিষ্টি মিষ্টি কথায় এবং বিরোধী দলের পিঠে হাত বুলিয়ে জুলাই সন্দ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কার্যকারিতা তামাদি হয়ে যাওয়ার সময় কাটিয়ে দিয়ে ঘোষণা করেছে যে বৈধ কারণেই এখন আর সে অধ্যাদেশ কার্যকর করার সুযোগ নেই।
বিএনপির যুক্তি সঠিক। তামাদি তো আইনানুগভাবেই হয়েছে। বিরোধী দল এখন রাজপথে ও সংসদে যত অভিযোগই করুক যে, বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে দ্বিচারিতা করেছে, তাতে কী সুফল পাওয়া যাবে? আন্দোলন, রাজপথ, সহিংসতা? আওয়ামী ২০০৮ সালে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতায় এসে যদি অবৈধ ও সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে থেকে জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন, গুম-খুন, লুণ্ঠন করতে পারে, সেদিক থেকে তো বিএনপি সরকারের অবস্থান আরো শক্তিশালী। তারা বৈধ উপায়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছে।
বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও অবাধ হয় না, কিছুটা হলেও শেষ পর্যন্ত ফলাফলে কারসাজি করা হয়, যা এবারের নির্বাচনেও হয়েছে। কারসাজি না করলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসতো এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য যে কৌশলগুলো অবলম্বন করেছে, বিএনপি সেই কৌশলগুলো অবলম্বন করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে না, তা হলফ করে বলা যায় না। তবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে উঠা জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষে কোনোভাবেই সঙ্গত হবে না আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কায়দায় সরকার পরিচালনার চেষ্টা করা। আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের পক্ষেই শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। শেখ হাসিনার মতো ক্রুর হাসিনাকে সদলবলে পালাতে হয়েছে। জনগণ বিএনপিকে সে পরিণতিতে দেখতে চায় না।
বিএনপির পক্ষে গণভোটের রায়কে প্রতারণামূলকভাবে বানচাল করাকে জনগণ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেনি। কারণ তারা বিএনপিকে কমবেশি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখে এসেছে। কিন্তু বিএনপি সরকারের গত দুই মাসের কর্মকান্ডে অনেকের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে যে, বিএনপি কি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি আরেকটি আওয়ামী লীগ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে? সরকার যদি তাদের দলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রক্ষা করতে চায় তাহলে কিছুসংখ্যক বিএনপি নেতাকে ‘সুযোগ সন্ধানী’ ভূমিকা পালন করা থেকে বিরত রাখতে হবে।
Posted ১০:১১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh