| বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পাকিস্তান আমল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে যত সংঘাত ও সহিংস ঘটনা ঘটেছে, তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই ঘটেছে। আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্মদাতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানি যখন সোহারওয়ার্দির চক্রান্তে বাধ্য হয়েই তার সৃষ্ট দল ছেড়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন। ১৯৫৭ সালে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমাহলে ন্যাপের কনভেনশনে হামলা চালিয়ে কনভেনশন পণ্ড করে দেয় আওয়ামী লীগের মাস্তানরা। এরপর পল্টনে আয়োজিত ন্যাপের জনসভায় হামলা চালিয়ে সভাও পণ্ড করে। আওয়ামী লীগাররা একই বছরে প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে চেয়ার ছুঁড়ে হত্যা করে। তাদের সহিংস আচরণ, হত্যার কখনো বন্ধ হয়নি। ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তারা হিংস্র, ক্ষমতায় থাকলেও হিংস্র। তাদের হিংস্রতার শিকার কেবল প্রতিপক্ষ হয়েছে তা নয়, নিজেদের দলের ভিন্নমতাবলম্বীরাও হয়েছে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অন্তর্দ্বন্দ্বে সাতজন ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করার চেয়ে নগ্ন দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে।
ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগ যে কত ভয়াবহ দানবে পরিণত হতে পারে ২০০৯ থেকে ২০২৪ এর আগস্ট পর্যন্ত দেশে বিরোধী দলের ওপর চালানো তাণ্ডব, সাধারণ মানুষের ওপর পীড়ন এবং অবাধ লুণ্ঠনের পরিণতি ভোগ করেছে তারা। কিন্তু এরপরও তাদের শিক্ষা হয়নি। পালিয়ে থেকে, বিদেশে অবস্থান করে তারা উস্কানি দিয়েই যাচ্ছে। তারা দেশের রাজনৈতিক সহিংসতাকে বিদেশের মাটিতে কত নগ্নভাবে প্রয়োগ করছে তারই দৃষ্টান্ত ছিল গত সোমবার নিউইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে। জাতিসংঘের আশিতম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এসেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তার প্রতিনিধিদলে বিএনপি মহাসচিবসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন।
ড. ইউনুস প্রটোকল অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থায় হোটেলে চলে গেলেও তার প্রতিনিধিদলের অবশিষ্ট সদস্যরা আওয়ামী লীগের পান্ডাদের আক্রমণের শিকারে পরিণত হন। তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জুলাই বিপ্লবের দুই তরুণ নেতা। হামলাকারীরা তাদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে, ডিম নিক্ষেপ করে এবং নানা বাজে অঙ্গভঙ্গি ও আস্ফালন করতে থাকে। এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এই বিপ্লবীরাই আওয়ামী লীগের ফ্যাস্টিট নেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে এবং ্আওয়ামী সুবিধাভোগীদের লুণ্ঠনের পথ বন্ধ করেছে। অতএব তাদের হিংস্রতা এখন সীমা পরিসীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিদেশে পালিয়ে এসেও তাদের শিক্ষা হয়নি। হবেও না কখনো। এটাই আওয়ামী চরিত্র। সংশোধনের অযোগ্য। দেশে ও বিদেশে তারা সমান নগ্ন। দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চেষ্টা করে জনগণের ধাওয়ায় পালিয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকার মতো উদার দেশে গালিগালাজ বা ডিম নিক্ষেপের মতো ঘটনা যেহেতু ব্যক্তি স্বাধীনতা প্রকাশের একটি উপায়, এবং আইনি প্যাঁচে পড়ার সুযোগ কম, সেজন্য গালাগালি করার জন্য কাজকর্ম ছেড়ে তারা পরের যাত্রা ভঙ্গ করে বিমানবন্দরে সমবেত হয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মহড়া দিয়েছে। এ ঘটনা যদি বাংলাদেশের মাটিতে ঘটতো তাহলে বহুসংখ্যক খুনজখমের ঘটনা ঘটতো তাতে সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগ সবসময় রক্তের নেশায় থাকে। অন্যের রক্ত ঝরাতে আওয়ামী লীগের চেয়ে পারঙ্গম দ্বিতীয় কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আসেনি, আসবেও না।
জেএফকে বিমানবন্দরের ঘটনায় অনেকে বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার কথা বলছেন। ভাবমূর্তি যদি কেউ নষ্ট করে থাকে, তাহলে সেটির জন্য আগাগোড়া এককভাবে দায়ী আওয়ামী লীগ। যাদের মধ্যে দেশে বা দেশের বাইরে রাজনৈতিক শিষ্টাচার প্রয়োগের কোনো দৃষ্টান্ত অতীতেও কখনো ছিল না, এখনো নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। বাংলাদেশ যদি কখনো উন্নতির সোপানে উন্নীত না হতে পারে, সেজন্য পেছন থেকে টেনে ধরার জন্যও আওয়ামী পাশবিক শক্তিই থাকবে।
বাংলাদেশি রাজনীতিতে প্রবাসে নেতাদের টার্গেট করে বিক্ষোভ বা লাঞ্ছনার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেটি আরও চরম পর্যায়ে চলে গেছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে আওয়ামী সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিণাম ভোগ করলেও শিক্ষা হয়নি তাদের।
তাদের মাঝে কোনো অনুশোচনা নেই। তারা রাজনীতিতে ফেরত আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। মরণ কামড় দিতে আবারও তারা উদ্যত। কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি মনে করে গায়ের জোরে ও সহিংসতা করে তারা রাজনীতিতে ফিরতে পারবে, তবে ভুল করবে। তাদের আচরণ মানুষের মধ্যে বিরক্তি ও ঘৃণার উদ্রেক করলে তার দংশন করতে চেষ্টা করবেন। তাদের এ অপচেষ্টাকে চিরতরে বন্ধ করতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকলকে দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
Posted ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh