| বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
ফাইল ছবি
নিউইয়র্ক সিটির প্রায় এক কোটি বাসিন্দার তুলনায় বাড়ির সংখ্যা অপ্রতুল। কম করে হলেও আরো ৩ লাখ ৪০ হাজার নূতন বাড়ির প্রয়োজন। কিন্তু নূতন করে হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় সিটি নজিরবিহিন আবাসন সংকটে পড়েছে। বাড়ি ভাড়া কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বাসিন্দাদের জীবন। অপরদিকে বাড়ছে হোমলেস ও সীমান্ত পেরিয়ে আসা ইমিগ্র্যান্টদের সংখ্যা ।
চলমান এই আবাসন সংকট কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন সময় নতুন হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়নে ডেভেলপাররা এগিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই উদ্যোগ বাঁধাগ্রস্থ করছেন একশ্রেনীর জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিক । এসব কারণে থমকে গেছে অনেক বড় বড় হাউজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন। বৃদ্ধি পেয়েছে আবাসন সংকট।
সাম্প্রতিককালে সিটির আবাসন সংকট চরম আকার ধারণ করায় আবাসন সংকট নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের শেষ নেই। পাবলিক হাউজিং এবং রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর আবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেমে নেই, কিন্তু বিশাল এই সিটিতে প্রতিবছর জনসংখ্যা বেড়ে চলায় আবাসন সংকটও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। সিটির আবাসন সমস্য যেন অন্তহীন এবং কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে সকলের মাথার ওপর একটি ছাদের ব্যবস্থা করার ব্যাপারে সিটি প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের প্রতিশ্রুতি বাকসর্বস্ব কথামালায় পরিণত হয়েছে। অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং সিটিতে অধিকা ভাড়া দিয়ে বসবাসকারী লোকদের জন্য আশির্বাদ হিসেবে এসেছিল যে, তারা তাদের আয়সীমার মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। নিম্ন ও মাঝারি আয়ের লোকদের জন্য অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং সোনার হরিণ হিসেবেই রয়ে গেছে। নিউইয়র্ক সিটির মতো একটি বিশাল ও বৈচিত্রপূর্ণ সিটিতে ভালোভাবে বসবাস করার অর্থ হল নগর জীবনের বিভিন্ন চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বসবাস। নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্ট অনুসারে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকারী নার্স, হসপিটালিটি বা হোটেল ও রেষ্টুরেন্টে যারা কাজ করেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারী কর্মচারীরা তাদের আয় প্রদর্শন করে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং এ কোনো অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার আশা করতে পারেন না। বার্ষিক ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের নিচে যারা আয় করেন, তাদের অধিকাংশের জন্য সর্বোত্তম সমাধান হচ্ছে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং এ অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ পাওয়ার আশা না করা।
একজন ভুক্তভোগী নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, আমরা বাড়ি-মালিক এবং রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে শুনে আসছি যে আবাসনের ক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীদের ওপর সরকারি কর্তৃপক্ষের একের পর এক আইনি নিয়ন্ত্রণ এবং স্টেট ও সিটি প্রশাসনে রাজনীতি সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় আবাসন ইউনিট সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি পুরানো অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের মালিক, যার বিল্ডিংয়ে বেশ কয়েকটি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট রয়েছে, তিনি বলেছেন যে, তার বিল্ডিংটি আর অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক অবস্থায় নেই। এটি বিক্রি করে দেওয়ার পর ভেঙে ফেলা হবে।
সিটির আবাসন সমস্যার সমাধানের বিষয়টি এতটাই বিতর্কিত হওয়ার পেছনে রয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের ইচ্ছামাফিক সমাধান নির্দেশ করেন।
এ ধরনের গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থাকে, যার একটির সঙ্গে আরেকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে সমস্যা যেখানে থাকার সেখানেই থাকে, বরং পরিস্থিতি ভেদে সমস্যা বৃদ্ধি পায়। আগামী ৫, ১০ বা ২৫ বছরে নিউইয়র্ক সিটি জনমানুষের বসবাসের জন্য কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে বিভিন্ন সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত ধারণা নেই। সিটির জনসংখ্যা তো থেমে থাকবে না, বরং বেড়ে চলবে।
নিউইয়র্ক সিটিতে কত কম উপার্জনকারী একজন চিত্রশিল্পীর পক্ষে বসবাস করা সম্ভব হবে? অর্থনৈতিক খাতের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রযুক্তি খাতের কর্মী বা যারা বয়স্ক পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে চাকুরি করেন তাদের বসবাসের উপায় কি হবে? কিভাবে দুর্লভ সরকারী সম্পদ বিতরণ করা উচিত? আমরা বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের কিছু লোককে কয়েকটি উপায়ের পরামর্শ দিতে বলেছিলাম যা তারা মনে করে যে শহরটি এগিয়ে যাওয়া উচিত।
Posted ১:৪৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh