বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

নির্বাচনকে অর্থবহ করতে সহিংসতা প্রতিহত করা জরুরী

  |   বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনকে অর্থবহ করতে সহিংসতা প্রতিহত করা জরুরী

আর মাত্র ১৩ দিন পর অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচারণা অনেকে ক্ষেত্রেই উত্তেজনাপূর্ণ ও সহিংস রূপ ধারণ করছে।

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে শ্রীবর্দি উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দুই দলের অর্ধশতাধিক সমর্থক। ঢাকা Ñ ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসির পাটোয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশের অন্যান্য স্থান থেকেও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ নির্বাচনে এ ধরনের সহিংস ঘটনা কারো কাম্য না হলেও ঘটনাগুলো প্রতিহত করার কোনো উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো গ্রহণ করেছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার উপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশের পথচলা। বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আবারও মুক্ত করেছে একটি সুন্দর, সাবলীল, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে। তাই এই নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ এবং নিরপেক্ষ।

কেননা, এটিই সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক শর্ত। অতীতের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী ব্যবস্থা অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দল যে কোনো উপায়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মানসে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজেদের স্বার্থে যথেচ্ছ ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। ফলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি কখনও। জুলাইয়ের গণঅভুত্থ্যানের পর জনগণের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে এবং ক্ষমতার কার্যকর ভারসাম্য ও জবাদিহি নিশ্চিত করে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র স্থায়ী অবসানের একটি পরিপুষ্ট বীজ বপন করবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অনেকটা এগিয়ে গেলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি প্রশ্নাতীত নয়। সর্বত্র এক ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজমান। তারপরও দেশের জনগণ মুখিয়ে আছে এই নির্বাচনের জন্য। কেননা, যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় না বসবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পাওয়া যাবে না। নির্বাচনে সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে, ভোটারদের দায়বদ্ধতা অর্থাৎ ভোটাররা কাকে ভোট দেবে, কেন ভোট দেবে।

ভোটারদের মনোনয়নের উপর নির্ভর করছে কেমন হবে আগামীর স্বপ্নের বাংলাদেশ। কেমন হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তমাখা রাজপথ পেরিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসা মানুষগুলোর চরিত্র। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে আগামী পাঁচ বছরের রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা। ভোটাররা যেমনটি চাইবে তেমনটিই হবে বাংলাদেশ। তাই ভোটার হিসেবে প্রত্যেকের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার কেবল সাংবিধানিক সুযোগ নয় বরং নাগরিক অধিকার এবং নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব কেবল ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কেউ হয়তো ভাবতে পারে, ভোট একটা আছে দিয়ে দিলাম, হয়ে গেল। কিন্তু বিষয়টি আসলেই সেরকম নয়; এর উপর নির্ভর করছে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি। ভোটার হিসেবে কাউকে ভোট দিলে মনে রাখতে হবে, তাকে কাউকে নেতৃত্ব বা দায়িত্বের জন্য মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।

প্রতিটি ভোট অত্যন্ত মূল্যবান ও আমানতস্বরূপ। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রধান দায়িত্ব হলো, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। অনেকেই মনে করেন ‘আমি’ একজন ভোট না দিলেই বা কী! বিষয়টি আসলে তা নয়। বাস্তবতা হলো, এরকম অনেক নির্বাচন আছে যেখানে এক/দুই ভোটের ব্যবধানে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে। অতএব ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকের আবশ্যিক কর্তব্য। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন করা পর্যন্ত যেকোনো ধরনের সহিংস ঘটনার বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো।

Posted ১:১৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকীয়

(5457 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(2016 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(1590 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1313 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1144 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1119 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1006 বার পঠিত)

বিদায় ২০২০ সাল

(971 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(900 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.