বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারার ক্ষোভে চুপ করে থাকবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে দেবে, এমনটি ভাবলে নি:সন্দেহে ভুল করা হবে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের দৃশ্যমান দুর্বলতা এবং নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত হয়ে উঠা রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদী হাসিনার পোষ্যরা কচ্ছপের খোলস থেকে মাথা বের করার মতো দেশের না স্থানে ছোটবড় মিছিল বের করতে শুরু করেছে। এগুলো মাঠ যাচাই করার কৌশল। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে তাদের তান্ডব বাড়তে থাকবে।
বেসামরিক প্রশাসনে এবং বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে এখনও ফ্যাসিবাদী দোসরেরা ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারাও সুযোগের অপেক্ষায় আছে কখন তাদের একসময়ের পৃষ্ঠপোষক ও প্রশ্রয়দাতারা মাঠে নামে। যাহোক, আওয়ামী লীগের মতো একটি ফ্যাসিবাদী দল তাদের জন্মলগ্ন থেকে দেশকে ও ধেশবাসীকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। এবার তো তাদের হাতের মোয়া ছিটকে পড়ে গেছে। অতএব তারা মরণ আঘাত হানতে পিছপা হবে না। যেকোনো উপায়ে তারা নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা ও চক্রান্ত চালিয়ে যাবে। তাদের পেছন থেকে মদদ দেবার জন্য ভারত তো আছেই।
মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে তারা। গণঅভ্যুত্থানে পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও ভারতের দোসররা প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে ফেলে দিতে চেয়েছিল। ফ্যাসিবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা রুখে দিয়েছিল। সরকারের মেয়াদের একবছর পার হতে না হতেই আবারও নানা ধরনের ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সরকার যখন জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা যখন নির্ধারণ করা হয়েছে তখন তা বানচালের ষড়যন্ত্র আরও বেগবান হয়েছে। সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার, গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, নির্বাচনে প্রপোশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির নিয়ে কলহকোন্দলে মেতে উঠেছে। হাসিনার পোষ্যদের জন্য এধরনে কোন্দল বাড়তি সুযোগ। কেউ কেউ উল্লিখিত বিষয়গুলো সত্ত্বর বাস্তবায়িত না হলে আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে।
এর পেছনেও কি নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া ও বানচাল করার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে অনৈকে মনে করেন। অন্যদিকে, হাসিনার দেড় দশকে যেসব গোষ্ঠী তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে টুঁ শব্দ করেনি, তারা এখন নানা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। সভা-সমাবেশসহ সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে। রাজধানীর বাইরে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ইস্যুর আড়ালে ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত সোমবার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা থানা ও উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ব্যাপক ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে যে এর নেপথ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছিল। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশ যে নির্বাচন বানচাল ও অস্থিতিশীল সৃষ্টির এক গভীর ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন বানচলের ষড়যন্ত্রের জাল যে আরও বিস্তৃত হবে, তা আঁচ করা যাচ্ছে। অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্রকারিরা ওঁত পেতে বসে আছে।
আর মাত্র কদিন পর দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গতবছরও চক্রান্তকারীরা চেষ্টা করেছিল দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে। কিন্তু বিপ্লবের সপক্ষ শক্তি, এমনকি ইসলামী দলগুলো ও মাদ্রাসা ছাত্ররা পূজা মণ্ডপ নিরাপদ রাখতে পাহারা দিয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রকারিরা যে ‘সংখ্যালঘু কার্ড’ খেলতে চাইবে, তা অনুমান করতে কষ্ট হয় না। এবারও নিরাপদ পূজা অনুষ্ঠানে তারা গতবারের মতোই ভূমিকা রাখবে আশা করা যায়। দেশের স্বার্থে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে সরকারও নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করতে দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে, এই আশাই করি। কারণ নির্বাচন যদি কোনো কারণে বানচাল হয়, দেশ এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে।
Posted ৯:১১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh