বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় প্রশাসন ও বিনিয়োগ

  |   বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় প্রশাসন ও বিনিয়োগ

বেসামরিক প্রশাসনে স্থবিরতা বিরাজ করছে, আমলাদের কাজেকর্মে গতি নেই। এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ফাইল যাচ্ছে না। সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে সবকিছু। একই কারণে দেশে বিনিয়োগ ক্ষেত্রে খরা চলছে। কারণ, সবাই অপেক্ষা করছে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের এবং নির্বাচিত সরকারের। বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে বসে আছে। তারাও দেখার জন্য অপেক্ষা করছে যে কারা পরবতী সরকার গঠন করবে। আওয়ামী লীগের আমলে অনেক চেষ্টা-তদবির করেও বিনিয়োগে গতি সঞ্চার করা যায়নি। একইভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও ব্যাপক আড়ম্বরের সাথে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সিইওদের দাওয়াত দিয়ে ইনভেস্টমেন্ট সামিট করেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনা বিরোধী দলমত দমন করে পর পর তিনটি বিতর্কিত ভুয়া নির্বাচন করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করলেও দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে কোনো ইতিবাচক গতি সঞ্চার করতে পারেননি। উপরন্তু বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত রেমিটেন্সের অর্থ লোপাট এবং জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ও লুটেরা অলিগার্করা দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও দেশের অর্থনীতি এখন শত শত বিলিয়ন ডলার অর্থপাচারের দায়ভার বহন করছে। অন্তর্বর্তী সরকার সে অবস্থার উত্তরণে নানামুখী সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করলেও তা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বড় বিনিয়োগের সাথে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রূপান্তর ও হস্তান্তরের নিশ্চয়তা থাকতে হয়।

বিগত সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন দমনে অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগ করে দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার একটা বাহ্যিক অবস্থা সৃষ্টি করলেও শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়া এবং ক্ষমতার পালাবদলে অনিশ্চয়তার কারণে দেশে বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকারের পক্ষেই দেশে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। দেশ একটি বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনের পথে হাঁটছে। এই নির্বাচনের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।

বিশেষত কর্মসংস্থান ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে একটি নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো অনিশ্চয়তা বা অনির্বাচিত সরকারের অধীনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়। এহেন বাস্তবতায় যেনতেন প্রকারে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি আনতে হলে প্রধান রাজনৈতিক দল ও স্টেক-হোল্ডারদের সুস্পষ্ট কর্মপন্থা, সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও নীতিমালা থাকতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য বড় দল ও জোটের নেতা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে একটি স্টক-ব্রোকারেজ হাউজের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেড় দশক পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের নাগরিকরা ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। বিশ্বের ফান্ড ম্যানেজারদের মধ্যে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিও আছেন, যারা আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ জন্য তিনি বর্তমান ব্যবস্থার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কঠোর সংস্কার বা উদারীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন আমির খসরু মাহমুদ। নীতিগত বিকৃতি ও অতিরিক্ত আইন ও বিধি নিষেধকে তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করেন।
আগামী দিনের অর্থনৈতিক উত্তরণের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় এখন থেকেই সরকারকে কার্যকর দিক নির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপিসহ আগামী সরকারের সম্ভাব্য অংশীদারদের এ বিষয়ে হোমওয়ার্ক বা প্রস্তুতিসহ যথাযোগ্য কর্মপন্থা ও কর্মসূচি হাজির করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারেও এ বিষয়ে যথাযথ রূপরেখা থাকতে হবে। এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি একটি ক্রান্তিকালীন সংকটজনক অবস্থায় পতিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা ও বিনিয়োগবান্ধব অবস্থা ফিরিয়ে আনাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের প্রথম ধাপ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের কর্মসংস্থান, সংকুচিত হওয়ায় সমাজে নানামুখী সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, মুদ্রাস্ফীতি ও বাজার মূলধনের নিম্নগামিতা যে সংকটের জন্ম দিয়েছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে সরকারি নীতিমালার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতি-কৌশলের কারণে দেশের শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত দেড় বছরেও পতিত স্বৈরাচারের অলিগার্কদের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা থেকে সরকার বেরিয়ে আসতে পারেনি।

ব্যাপক লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে দেশের পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের ত্রাহী অবস্থা শিল্প-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এহেন বাস্তবতায় আর্থিক খাতের পুনর্গঠন ও পুঁজিবাজারের সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখাই হচ্ছে নির্বাচনোত্তর নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে দেড় যুগের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও হতাশা কাটিয়ে নতুন আলোতে পা ফেলার সন্ধিক্ষণ। এর মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে।

Posted ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকীয়

(5458 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(2017 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(1590 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1313 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1144 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1119 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1006 বার পঠিত)

বিদায় ২০২০ সাল

(972 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(902 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.