বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে

  |   বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে

ছবি : সংগৃহীত

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি। ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন দেশের কিছু সর্বোচ্চ সম্মানিত কয়েকজন, বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) বিপদ্গামী কিছু সদস্যদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন।

কর্মকর্তাদের পাশাপাশি, এই বর্বরোচিত অপরাধে প্রাণ হারান কিছু নিরীহ বেসামরিক ব্যক্তি। এই হত্যাকাণ্ডে যে নৃশংসতা দেখা গেছে, তা অকল্পনীয়Ñ দেহাবশেষ এতটাই বিকৃত ছিল যে অনেককে চেনা সম্ভব হয়নি, পরিবারগুলো অপমানিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিল এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভিত্তিকেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। এসব কর্মকর্তার মৃত্যুর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর চেইন অব কমান্ড এবং মনোবল গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইসঙ্গে, সশস্ত্র বাহিনী ও আধা-সামরিক সংস্থাগুলোর মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। এই ট্র্যাজেডি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলো উন্মোচিত করে এবং এমন একটি ঘটনাকে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে, সবচেয়ে নিরাপদ স্থাপনাগুলোর মাঝে কীভাবে সংঘটিত হতে পারল তা নিয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্ন তোলে। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সময় লোক দেখানো গোঁজামিল দেয়া একটি তদন্ত ও বিচারের প্রহসন করা হয়।

যা ছিলো নেহায়েত বিষয়টিকে কোনরকমে ধামাচাপা দেয়ার প্রচেষ্টা। দেশবাসীর হৃদয় কাঁপানো এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের জনগণের দাবিতে পনের বছর পরে হলেও অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক প্রাক্তন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। গত নভেম্বর ২০২৫ মাসে তদন্ত শেষে কমিশন কর্তৃক একটি রিপোর্ট অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাখিল করা হয়, যা মোটামুটিভাবে সর্বজন কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। যদিও রিপোর্টটি সরকার দ্বারা এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এতদিন পেরিয়ে গেলেও, জাতীয় চেতনায় সৃষ্ট ক্ষত এখনও পূরণ হয়নি। নিহত কর্মকর্তাদের পরিবারগুলো এখনও নীরব যন্ত্রণা ভোগ করছে এবং সান্ত্বনার অপেক্ষায় আছে। জাতি অপরাধীদের বিচারের অপেক্ষায় আছে। নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু বিচারের। পিলখানা হত্যাকাণ্ড কোনো সাধারণ বিদ্রোহ নয়।

এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ও সমন্বিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম, যা বার্ষিক ‘বিডিআর সপ্তাহ’ চলাকালীন সংঘটিত হয়। এটি ছিল একটি উদযাপন ও সৌহার্দ্যের সময়, যা নির্মম রক্তপাতের দৃশ্যে পরিণত হয়। বিদ্রোহীরা তাদের কমান্ডিং অফিসারদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছিল ব্যাপক লুটপাট, কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি অপমানজনক আচরণ এবং বিডিআরের মাঝে সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা। এই নৃশংসতা শুধু হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সিনিয়র কর্মকর্তারা শুধু নিহত হননি; তাঁদের মর্যাদা ও সম্মান লঙ্ঘিত হয়। তাঁদের পরিবারগুলোর প্রতি হুমকি দেওয়া হয়, কেউ কেউ আটক হন, আবার কেউ মানসিক নির্যাতনের শিকার হন, যখন তাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের খবরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ফলে জাতির মধ্যে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, তা গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং মানুষকে ভাবতে বাধ্য করে যে, এমন অবর্ণনীয় সহিংসতার কারণ কী হতে পারে। পিলখানা হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। আসল অপরাধীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যে বিদ্রোহের পর হাজার হাজার বিডিআর সদস্যকে তড়িঘড়ি করে বিনা বিচারে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শত শত জনকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যাতে সরকারের পদক্ষেপ গভীরতা ও ন্যায্যতার অভাব ছিল। নিম্ন পর্যায়ের বিডিআর সৈনিকদের কঠোর শাস্তি প্রদানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, অথচ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গড়িমসি করা হয়েছে।

সরকারের তদন্ত পরিচালনার পদ্ধতি বিদেশি প্রভাব নিয়ে সন্দেহও উসকে দেয়, বিশেষত ভারতের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে। পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল কেবল কয়েকজন ব্যক্তির উপর আক্রমণ নয়, বরং এটি জাতির অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের উপর একটি আঘাত। বর্তমান সরকার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে অতীতের ভুল সংশোধন করার এবং বহু প্রতীক্ষিত জবাবদিহি নিশ্চিত করার।

Posted ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকীয়

(5457 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(2016 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(1590 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1313 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1144 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1119 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1006 বার পঠিত)

বিদায় ২০২০ সাল

(971 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(900 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.