| বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ১১৭ দিন রয়েছে। ডেমোক্রেটি শিবিরে চরম হতাশা চলছে যে, বাইডেনকে নিয়ে তারা হোয়াইট হাউজে ফিরে আসতে পারবে কিনা। এই প্রশ্নে পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক উথালপাথাল শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেট পার্টির সমর্থকদের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা ব্যাপক এবং প্রকাশ্যেই তারা ক্ষোভ ব্যক্ত করে বাইডেনের উদ্দেশ্যে বলছেন যে, মেহেরবানি করে আপনি প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান। অনেকে বলছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন যদি স্বয়ং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন, তাহলে একটা রাস্তা বের হয়ে আসতে পারে। কিন্তু বাইডেনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। এই পর্যায়ে এসে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রার্থী করা হলে কতটুকু কাজে লাগবে, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় আছে। আগামী মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক কনভেনশন। সেখানেই চূড়ান্ত হবে প্রার্থীর মনোনয়ন। তবে এবারের ডেমোক্রেটিক কনভেনশন যে ঝামেলাপূর্ণ হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বাইডেনের কঠোর সমালোচনায় অবতীর্ণ হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসসহ ডেমোক্রেট সমর্থক মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা যেসব কথা বলছেন তার নির্গলিতার্থ হলো, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোকাবিলায় জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে অত্যন্ত দুর্বল প্রার্থী। নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদক পরিষদ তো ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কের পরদিনই বাইডেনকে আহবান জানিয়েছে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য। তারা বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এক মারাত্মক জুয়াখেলায় লিপ্ত আছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়া প্রতিহত করতে ডেমোক্রেট নেতাদের মধ্য থেকে অধিকতর যোগ্য বিকল্প বেছে নেয়া আবশ্যক বলে তারা পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে বাইডেনের মধ্যে যে ঘাটতিগুলো বিদ্যমান, তাকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রার্থী করে ডেমোক্রেট ভোটারদের ভোট দানে বাধ্য করা হলে তা দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দেশকে নেতৃত্ব প্রদানকারী একটি দল সেই ঝুঁকি গ্রহণ করতে পারে না।
প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে যে, বাইডেন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন কি না, সেটি একান্তই তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি যদি সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাহলে ডেমোক্রেটিক কনভেনশনে ডেলিগেটদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করতে অন্য কাউকে ভোট দিতে হবে। বাইডেনকে প্রার্থী হিসেবে রাখতে যারা উদ্বিগ্ন তাদের কাছে কিছু বিকল্প রয়েছে। কিন্তু বিকল্পগুলো কার্যকর হবে এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দলের ঐক্য ও সংহতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কনভেনশনে নতুন প্রার্থী মনোনয়নে যে জটিলতার সৃষ্টি হবে তা দলের আদর্শগত বিভাজনকে বৃদ্ধি করবে। ডেমোক্রেট প্রার্থীর ক্যাম্পেইন দুর্বল হবে। বাইডেন যদি একান্তই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেন, তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা চাইতে পারেন। কিন্তু তিনি শক্তিশালী কোনো প্রার্থী হবেন না। ডেমোক্রেটরা তাকে প্রেসিডেন্ট পদে উপযুক্ত প্রার্থী বলেও বিবেচনা করেন না। তবে কোনোকিছুই বাইডেনের সম্মতি ছাড়া হওয়ার সুযোগ কম। কনভেনশনে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক ডেলিগেট বাইডেনের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত জানায় এবং বাইডেনের চেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী থাকে, সেক্ষেত্রে বাইডেনের সম্মতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। অতএব, কনভেনশন হওয়া পর্যন্ত আমাদের দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে যে বাতাস কোনদিকে যায়।
Posted ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh