| বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছর স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চালিয়ে বাংলাদেশকে মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত করেছিল, জীবন বাজি রেখে তার বিরুদ্ধে এগিয়ে আসা লড়াকু মানুষের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনার উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। কিন্তু তা না করে এবং তার দলের নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার জন্য কোনোরূপ গ্লানি বোধ না করে, এবং তার পরিচালিত গণহত্যার জন্য দু:খ প্রকাশের পরিবর্তে পলাতক স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা নতুন করে দেশবিরোধী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারত যদিও নিজেদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে দাবী করে, কিন্তু তাদের গণতন্ত্র চর্চা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা বাংলাদেশকে কুক্ষিগত অথবা তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টায় বার বার ব্যর্থ হওয়ার পরও নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে পিছপা হয়নি। ভারত যদি আসলেই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করতো, তাহলে একটি জনপ্রিয় গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া স্বেচ্ছাচারীকে আশ্রয় না দিয়ে অন্তবর্তী সরকারের হাতে তুলে দিয়ে সৎপ্রতিবেশিসুলভ আচরণ করতো।
কিন্তু ভারত তা করেনি। শেখ হাসিনা তার একক শাসনে দেশকে, প্রশাসনকে কলুষিত করেছেন, দেশকে লুটে বিদেশি ঋণের জালে আটকে রেখে গেছেন। তার সৃষ্ট জটিলতা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে নতুন করে সবকিছু সাজাতে হবে। অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনার সেবাদাসে পরিণত হওয়া সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীগুলোর শীর্ষ ও মধ্যম পর্যায়ের অনেক অফিসারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনেককে বরখাস্ত, অনেককে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং কিছু সংখ্যককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা সত্বেও ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন বিপ্লবী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থামেনি।
পনেরো বছরে যেসব খাতের লোকজন টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি, অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে তারা নানা দাবি নিয়ে সামনে আসছে, হুমকি দিচ্ছে, বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। সরকার ধৈয্য ধারণ করেছে এবং যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছে বা মেনে নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেছে। কিন্তু দাবি বড় কোনো বিষয় নয়, দাবি উত্থাপনের সময় ও দাবি উত্থাপনকারীদের তালজ্ঞানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার শাসনামলে শিক্ষা ও শ্রমক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ এবং অন্যান্য লীগ ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। এখন তারাই বিশৃংখলা সৃষ্টির সুযোগ গ্রহণ করছে।
শেখ হাসিনা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ভারত থেকে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছেন। তার পদলেহীরা এই উস্কানিকে তাদের জন্য উৎসাহ বিবেচনা করে নাশকতামূলক কর্মকান্ড শুরু করতে পারে, এমন আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতএব দেশবাসীকে এ ধরনের আশংকা দূর করতে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এবং সরকারকে কঠোর হতে হবে যেকোনো উস্কানির বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান গ্রহণের পাশাপাশি ভারতের উপর চাপ অব্যাহত রাখা যে, তারা যাতে শেখ হাসিনাকে তার অপরাধের বিচার করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে সৎ-প্রতিবেশিসুলভ আচরণ করে।
Posted ১:২০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh