| বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
মিথ্যা বলা, কম বলা কিংবা বেশি বলা তথা অপতথ্য প্রকাশ, গুজব ছড়ানো ইত্যাদি মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে মানুষের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়, ঝগড়া-ফ্যাসাদ বাঁধে, মারামারি-হানাহানি-মামলা ইত্যাদি হয়। তাই এসবকে ধর্মীয় এবং দেশ-বিদেশের আইন অনুযায়ী অপরাধ এবং দ-নীয় অপরাধ। এই অপরাধে আইনত ও সামাজিক বিচারে শাস্তি হয়েছে অনেকের। তবুও মিথ্যা বলা, গুজব ছড়ানো, অপতথ্য প্রকাশ করা বন্ধ হয়নি! এসব ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে।
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব ধরনের ও সব বয়সের মানুষ কম-বেশি অপতথ্য প্রকাশ করে। অনেক ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সামাজিক হর্তা-কর্তাও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তবে, বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং তার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণের পর থেকে দেশে গুজব অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।
এ ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করছে দলটির গুজব বাহিনী! তারা অনবরত একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট কল্পকাহিনী ছড়াচ্ছে! এই অপকর্মে তারা মূল মিডিয়ার চেয়ে ফেসবুকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে। তাদের লক্ষ্য হারানো ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং লুটপাট করে সম্পদশালী হওয়া। অনেক সাধারণ মানুষ তাদের এ অপকৌশল ধরতে পারছে না। ফলে, তারা চরম বিভ্রান্ত হচ্ছে। গুজব সম্প্রতি সর্বাধিক আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই চরম ঘৃণ্য কাজে তথা মিথ্যাচারে ভারতও সংশ্লিষ্ট হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক তথা সব স্তরের মানুষ এবং মিডিয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার পতনকে নিজেদের পতন মনে করে খাওয়া-নাওয়া ছেড়ে দিয়ে সার্বক্ষণিক চরম মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তারা মনে করে, আওয়ামী লীগই বাংলাদেশ।
আর আওয়ামী লীগ তাদের টেস্টেড এন্ড ট্রাস্টেড অনুগত। অন্যরা শত্রু। তাই নট এলাউড। তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে আর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনবরত তথ্যবোমা ছুড়ছে। রিউমার স্কানার কিছুদিন আগে তথ্য যাচাই করে বলেছে, ভারত থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তার অধিকাংশ মিথ্যা-বানোয়াট। তবুও ভারত বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার বন্ধ করেনি!
গুজব, মিথ্যা প্রচারণা প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। এতে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। সর্বোপরি, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ভারতমুখিতা ত্যাগ করে পূর্বমুখী যাত্রা শুরু করেছে। এতে ভারতের ব্যবসা-পর্যটনসহ নানাবিধ ক্ষতি হচ্ছে। দিল্লিস্থ ‘ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিক রিলেশনস’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের চিকিৎসা-পর্যটন শিল্পে সব থেকে বড় অংশীদার ছিল বাংলাদেশ।
গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে ভারতের চিকিৎসা-পর্যটন ক্ষেত্র ধাক্কা খেয়েছে। চিকিৎসা-পর্যটক কমেছে। হাসপাতাল ও তার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তবুও ভারতের আওয়ামী লীগপ্রীতি কমছে না!
এর প্রধান কারণ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ভারত যা চেয়েছে, তার সবই পেয়েছে, বিনিময়ে কিছুই দিতে হয়নি। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, ভারতকে যা দিয়েছি, তা তারা কোনদিনই ভুলতে পারবে না। শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতেরও পরাজয় ঘটেছে। ফলে ভারত বাংলাদেশবিরোধী মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছে! গুজব বাহিনীর গুজবও বহাল রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা ব্যাপক অর্থ ব্যয় করছে।
Posted ৩:৫১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh