| বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। মহিমান্বিত রমজান। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সিফাতে জামালি বা সৃজনশীল গুণাবলির অন্যতম হচ্ছে রহমত। রহমত অর্থ দয়ামায়া, কৃপা-করুণা, অনুকম্পা, অনুগ্রহ ইত্যাদি। কোরআন–হাদিসে এ শব্দের দুটি রূপ ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো ‘রহমান’ ও ‘রহিম’।
এই শব্দ কোরআন কুঞ্জিকা বিসমিল্লাহ শরিফের মধ্যেই রয়েছে দুবার। উম্মুল কোরআন বা কোরআন জননী ফাতিহা শরিফের দ্বিতীয় আয়াতে একই রূপে রয়েছে আরও দুবার। কোরআন নাজিলের মাস রমজান। কোরআনের সঙ্গেও রহমতের আর রহমানের সম্পর্ক সুনিবিড়। আল্লাহ তাআলার বিশেষ গুণ বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো রহমত। রহমান অর্থ পরম করুণাময়। মহান আল্লাহর এ গুণ সারা দুনিয়ার সব মানুষ -মুসলিম অমুসলিম, বাধ্যÑঅবাধ্য সবার জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। যিনি দয়া বা রহমত কারও প্রতি কোনো অবস্থায় এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ করে দেন না, তিনি রহমান। রহিম অর্থ অতীব মেহেরবান, অতিশয় দয়ালু।
আল্লাহর এ দয়া শুধু মুমিন মুসলিমদের জন্য খাস বা বিশেষায়িত, যা আখিরাতে বিশেষভাবে প্রকাশিত হবে। যারা দুনিয়ার জীবনে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)কে মেনে ইসলামের অনুশাসন বা রীতিনীতি অনুসারে জীবন যাপন করেছেন, শুধু তাঁরাই মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে কবর, মিজান, পুলসিরাত ও হাশরে আল্লাহর ‘রহিম’ নামক দয়া বা অনুগ্রহ লাভে ধন্য হবেন। রমজানের প্রথম দশক রহমতের। আল্লাহ চান তাঁর বান্দা তাঁর গুণাবলি অর্জন করে সে গুণে গুণান্বিত হয়ে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সেই গুণের প্রকাশ ঘটাক। হাদিসে আছে: ‘তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও।’ (তিরমিজি)। যেহেতু মানুষ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি, তাই তাকে খিলাফতের দায়িত্ব পালনের যোগ্য হতে হলে অবশ্যই সেসব গুণ অর্জন করতে হবে। আল্লাহর রং বা গুণ কী? তা হলো আল্লাহ তাআলার অসংখ্য গুণবাচক নাম। মহান আল্লাহর নাম আত্মস্থ করার বা ধারণ করার অর্থ হলো সেগুলোর ভাব ও গুণ অর্জন করা এবং সেসব গুণ ও বৈশিষ্ট্য নিজের কাজে–কর্মে–আচরণে প্রকাশ করা তথা নিজেকে সেসব গুণের আধার বা অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা।
আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করবেন, আমাদেরও তাঁর সৃষ্টির প্রতি দয়া করতে হবে। যদিও বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া বা রহমত সর্বকালে সর্বক্ষণ বর্ষিত হতে থাক, বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজানে এর ব্যাপকতা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। রমজানের প্রথম দশক রহমতের দশক হিসেবে বিশেষায়িত। পবিত্র মাহে রমজানের বরকতে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়। ফলে আদম সন্তান রোজা পালন, নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, ফিতরা, জাকাত প্রদান ও জিকিরÑআসকার ইত্যাদিতে মশগুল হয়ে তাকওয়া অর্জনে অধিক সচেষ্ট হতে পারে। আল্লাহর রহমত পেতে সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হতে হবে।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা দুনিয়াবাসীর প্রতি রহম কর, আসমানওয়ালা খোদা তোমাদের প্রতি রহম করবেন।’ (বুখারি)। আরেকটি হাদিসে আছে: ‘যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ইমানসহ সওয়াবের আশায় কিয়ামে রমজান অর্থাৎ তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় শবেকদরের রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে তারও পূর্ববর্তী গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে। (বোখারি)। আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারলেই বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
Posted ১১:০৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh