| বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য তেপ্পান্ন বছর অত্যন্ত দীর্ঘ সময়। অখণ্ড পাকিস্তান যৌবনে পৌছেই টুকরো হয়ে গিয়েছিল একটি সংবিধান প্রণয়নে ব্যর্থতা, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আবাস পূর্বাঞ্চলকে উপনিবেশ বিবেচনা করে শাসন ও শোষণ চাপিয়ে দেওয়ার কারণে। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছিল। কিন্তু জাতির জন্য চরম দুর্ভাগ্যের ছিল যে, স্বাধীনতা অর্জনের একচেটিয়া দাবিদার দলটি, অর্থ্যাৎ আওয়ামী লীগ বিগত তেপ্পান্ন বছর ধরে জনগণকে স্বাধীনতা ভোগ করার সুযোগ না দিয়ে দেশের স্বাধীনতাকে তাদের দলীয় অর্জন হিসেবে ভোগদখল করেছে।
স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে বিবেচিত শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ সরকার যাকে জাতির পিতা হিসেবে সংবিধানে স্থান দিয়েছিল, তিনি নিজেই বাংলাদেশকে তার ও তার দলের সম্পত্তি বলে দাবি করতেন। জনগণের অর্জন বা অধিকারের কোনো স্বীকৃতি ছিল না তার সময়ে এবং গণতন্ত্রকে কবরস্থ করে তিনি একদলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যন্ত তার ও তার দলের মর্জির শিকারে পরিণত হয়েছিল। রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়েই তখন কোন সংস্কার ঘটেনি। বহু বছর পর তার কন্যা শেখ হাসিনাও পিতার পথেই হেঁটেছেন। পিতার মত তিনি ঘোষণা দিয়ে বা সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা না করলেও, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্বলিত সংবিধানের ছত্রছায়ায় তিনি কার্যত কঠোরভাবে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তার শাসনকে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্ট্যালিন যুগীয় বা চীনের মাও যুগীয় শাসন বললেও অত্যুক্তি হবে না। আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান, এমনকি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হতো তার মুখের কথায়, অঙ্গুলি নির্দেশে। জনগণ দাসত্বের বিরোধিতা করতে পর্যন্ত সাহস করতো না। কিন্তু যখন সাহস করেছে, তখন তার সাজানো দুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। তিনি পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছেন। বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে নতুন সূর্য উদিত হয়েছে।
এ সূর্যের আলো ভোগ করার জন্য রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে, প্রতিটি নীতিমালায় সংস্কার সাধন করা জরুরী হয়ে পড়েছে। এ সংস্কারের মাধ্যমে জনগণকে উপলব্ধি করার সুযোগ দিতে হবে যে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশটি বিরোধী মতের মানুষের জন্য তো বটেই, সার্বিকভাবে নিরীহ দেপ্রেমিক মানুষের জন্য উন্মুক্ত এক কারাগার হয়ে উঠেছিল। আইন-আদালতেরর কোনো তোয়াক্কা করতে না হাসিনার সরকার। বিরোধী দল ও মতের মানুষকে আটক বা গুম করা হলে তাদের মানবাধিকারেরও পরোয়া করা হতো না। শেখ হাসিনার দুঃশাসনে পুলিশ প্রশাসনহসহ সমগ্র বেসামরিক প্রশাসন হয়ে উঠেছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পুনর্বাসন কেন্দ্র। সরকারি পদ-পদবি ছিল দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য। আদালতে বিচার বিক্রয় হতো। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিজয় ঘোষিত হতো।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এবং ভোটারদের ভোট প্রদানের কোনো প্রয়োজন পড়তো না। সামগ্রিক এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানোর সময় এসেছে এখন। দেশে যোগ্য মানুষের অভাব নেই, তাদের মধ্য থেকে সুনির্বাচিত মানুষকে সকল পর্যায়ে সংস্কার সাধনের জন্য এগিয়ে আনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য বড় একটি দায়িত্ব এবং জনগণ দেখতে চায় যে সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার পথে আওয়ামী লীগের সৃষ্ট প্রতিটি বাধা দূর করতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
Posted ১২:৩৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh