| বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৪
পলাতক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণবিদ্রোহের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। তার মন্ত্রী, দলীয় এমপিসহ অন্যান্য নেতারাও পালিয়ে বিভিন্ন দেশে চলে গেছেন এবং অধিকাঙশই দেশের অভ্যন্তরেই আত্মগোপনে আছেন। জুলাই-আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রী এবং পুলিশসহ সকল তাবেদার আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যে নির্মম হত্যাকান্ড চালিয়েছে প্রতিটি হত্যাকান্ড ও বেআইনী আচরণের বিচারের দাবী উঠেছে ভুক্তভোগীদের পরিবার, রাজনৈতিক দলসহ সকল মহল থেকে। গত সাড়ে ১৫ বছরের একচ্ছত্র শাসনে আওয়ামী লীগ সরকার দেশজুড়ে ভীতির যে সংস্কৃতি চালু করেছিল তার চির অবসানের দাবী উঠেছে। তা না হলে মানুষের হৃদয়ে জমে থাকা ক্ষোভ বাড়তে বাড়তে নিয়মিত বিরতিতে বার বার এ ধরনের বিদ্রোহ ঘটতেই থাকবে।
পলাতক প্রধানমন্ত্রী এবং তার সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলা শেখ হাসিনাসহ ৪ জনকে এবং আরেকটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। তিন সপ্তাহের পুলিশী তান্ডবে নিহত হয়েছে ছাত্রসহ প্রায় ৫৮০ জন বিভিন্ন শ্রেণিপেশা ও শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক লোক। প্রতিটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় সুবিচার চেয়েসংশ্লিষ্টদের মামলা দায়ের করা উচিত। বিরোধী কণ্ঠকে চেপে ধরার জন্য ডিজিডিএফআই’র তথাকথিত আয়নাঘর এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে বিনাবিচারে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর মানবেতর অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা; আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে নাগরিকদের তুলে নিয়ে গুম করে ফেলার সংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করা সময়ের দাবী।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলে কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনই যে যথেষ্ট নয়, তা স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখার একচ্ছত্র দাবীদার আওয়ামী লীগ বারবার প্রমাণ করেছে। আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে যে তারা দেশের স্বাধীনতায় ভূমিকা রেখেছে কেবল কতিপয় ব্যক্তি ও তাদের দলের জন্য। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভা এবং জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর অন্তর্র্ব্তী সরকারের ওপর ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে রাষ্ট্র গঠনের কাজে ভূমিকা পালনের। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে। তা যদি না করা হয় তাহলে আইন-আদালতের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা যেভাবে লোপ পেয়েছে, সেটি ফিরিয়ে আনা কখনোই সম্ভব হবে না।
দেশে তরুণ ছাত্রদের দ্বারা যে গণবিপ্লব সাধিত হয়েছে সেই বিপ্লবকে তাৎপর্যপূর্ণ করতে হলে আওয়ামী সরকারের দু:শাসনের বিভীষিকা মানুষের হৃদয় থেকে অবসান ঘটানোর জন্য সুবিচার অপরিহার্য। যারা হাসিনার অপশাসনের সাথে জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারলেই দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে। অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের মূল্য উপলব্ধি করতে হবে। আহত ছাত্র-জনতা এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। রক্তের দাগ শুকায়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর অসংখ্য অস্ত্র গায়েব, পুলিশের হাজার হাজার সদস্য পলাতক, আওয়ামী লীগ ও তার পেটোয়া বাহিনীর খুনে সদস্যরা আত্মগোপনে, প্রতিবিপ্লবের শঙ্কায় দেশবাসী।
বড় ধরনের রক্তপাত বাধিয়ে অন্তর্র্বতী সরকারকে হটিয়ে দেয়া গেলে প্রথমে প্রাণ যাবে আন্দোলনকারী হাজার হাজার ছাত্র-জনতার। উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিগত সরকারের সাথে সুসম্পর্ক রেখেছেন। তাদের জন্য এই সরকারের উপদেষ্টা হওয়া অপ্রত্যাশিত পুরস্কারের মতো। এখন একজন উপদেষ্টা আওয়ামী লীগকে কাছে টানছেন। আহ্বান জানাচ্ছেন দল গোছানোর। এটি আত্মঘাতী কর্ম। ছাত্র-জনতা বিপ্লব করে দেশবাসীকে মুক্তি দিয়েছে জালিম সরকারের হাত থেকে। সরকারের প্রথম কাজ আওয়ামী লীগের যাবতীয় অপরাধের বিচার করা। আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়ার জন্য কাউকে উপদেষ্টা পরিষদে আনা হয়নি। আশা করব, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেয়া থেকে উপদেষ্টারা বিরত থাকবেন।
Posted ১:৩৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh