| বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে আওয়ামী লীগ যে অবস্থার মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে রাষ্ট্রকে তুলে আনতে হলে যে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ সংস্কার হতে হবে সংবিধান থেকে শুরু করে সরকারি চাকুরির অধ:স্তন পর্যায় পর্যন্ত নিয়োগের বিধি পর্যন্ত। অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে গিয়ে পদে পদে হোঁচট খাচ্ছেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রধান যে হাতিয়ার, অর্থ্যাৎ সংবিধান, সেই সংবিধান কার্যত সরকারকে কেবল দলীয় নয়, এক ব্যক্তিকে ক্ষমতার উৎসে পরিণত করে রেখেছে।
এ সংবিধান কার্যকর থাকা পর্যন্ত দেশে সংসদীয় ধাঁচের কোনো সরকার ব্যবস্থা আশা করা বাতুলতা মাত্র। সংবিধান সংশোধন অথবা নতুন করে সংবিধান প্রণয়নের কথা আলোচিত হচ্ছে, কিন্তু অন্তবর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি। কিন্তু এ নিয়ে বিলম্ব করা সঙ্গত নয় বলে মনে করছেন অনেকে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং এ সরকারের আসা দেশ ও জাতির অনিবার্য প্রয়োজনে।
বর্তমান সংবিধানকে বহাল রেখে এমনকি নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, অন্তবর্তীকালীন সরকার নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলগুলো অন্তবর্তী সরকারকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তাগিদ না দিয়ে ‘যৌক্তিক সময়’ দিয়েছে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কারের পরই নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে। কি করবে সরকার? তাদেরকে বাধ্য হয়েই সংবিধান বাতিল বা স্থগিত করতে হবে। তা না হলে বর্তমান সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান না করার জন্য জটিলতায় পড়তে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রকে তো চলতেই হবে। এমনকি সংবিধান শূন্যতার মধ্যেও রাষ্ট্র চলবে, অবৈধ হলেও চলবে। অতএব এত জটিলতার মধ্যে না গিয়ে এখন একটি সহজ পথ হতে পারে প্রেসিডেন্টে অধ্যাদেশ জারি করে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং অন্তর্র্ব্তী সরকারের মেয়াদ ১/১১ এর সরকারের মত অনুকুল সময় না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাড়াহুড়া না করা।
ওই সময়ের কেয়ারটেকার সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনীত ব্যক্তি তার অধীনে একটি কেয়ারটেকার সরকার গঠন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে পরিবর্তন করাও জরুরী বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। অনেকে বলছেন যে যেকোনো ঝুঁকি এড়াতে বর্তমান প্রধান উপদেষ্টারই উচিত রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করা।
সরকারের সামনে আরেকটি পথ হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা বাতিলের সংশোধনী বিচারিক প্রক্রিয়ায় রদ করে এ ব্যবস্থা বহাল করা এবং বিশেষ জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে একবারের জন্য বর্তমান সরকারের মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানো। যাতে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিচারিক কাঠামো থেকে দলবাজ বিচারকদের বিদায় করার ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রসমাজের বিপ্লবী দাবি বিবেচনায় আনার একটি বিষয় থাকতে পারে।
Posted ১০:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh