| বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
সব সীমা পেরিয়ে গেছে ইসরায়েল। গাজা ধ্বংসের পর লেবাননে শুরু করেছে আগ্রাসন। নির্বিচার হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে জায়নবাদী রক্তপিপাসুরা। ধর্মীয় স্থাপনা, বিদ্যালয়, বাজার, আশ্রয়কেন্দ্র কিছুই মানছে না। এমনকি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরাও নিস্তার পাচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ইসরায়েলি হানাদার বাহিনী গত বৃহস্পতিবার লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী ও তাদের স্থাপনায় হামলা চালায়; ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন শান্তিরক্ষী বাহিনীর দুজন ইন্দোনেশীয় সেনা, আরেক হামলায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর দুজন শ্রীলংকান সেনা আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ও জাতিসংঘের স্থাপনায় ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলার পর ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আস্ফালন করে বলেছেন, লেবানন থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সরিয়ে নিতে হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে উদ্দেশ করে তিনি এ কথা বলেছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী শান্তিরক্ষীদের একাধিক ঘাঁটি ও দক্ষিণ লেবাননের নাকুরাতে অবস্থিত শান্তিরক্ষীদের সদর দপ্তরে হামলা করেছে এবং এসব হামলায় পাঁচজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। দুই সপ্তাহ ধরে লেবাননে স্থল ও বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
এই আগ্রাসনে হানাদারদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই চালাচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহ। প্রতি মুহূর্তে হামলা ও পাল্টা-হামলা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, লেবানন দখলে হানাদার ইসরায়েলি বাহিনীর পৈশাচিক অভিযান ব্যর্থ করে দিয়েছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। এ ছাড়া ইসরায়েলের অভ্যন্তরভাগে রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মধ্যেই লেবাননে আগ্রাসন শুরু করেছে জায়নবাদী ইসরায়েল। সেখানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এটি শুধু যে আন্তর্জাতিক সব বিধিবিধান লঙ্ঘন তাই নয়, শান্তিকামী মানবসমাজের জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত।
এমন পরিস্থিতিতেও ইসরায়েলকে অর্থ, অস্ত্র ও সামরিক মদদ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খবরে প্রকাশ, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড সরবরাহ করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। যেখানে আন্তর্জাতিক আইন অগ্রাহ্য করায় ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত, সেখানে সামরিক মদদ দেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। এটিও মানবজাতির জন্য ভয়াবহ অশনিসংকেত।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলার অর্থ মানবজাতির ওপর হামলা। এই স্পর্ধা ইসরায়েল পায় কোথায়? সব পর্যায়ে ইসরায়েলকে সমর্থন দেয় পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। তাদের এ সমর্থন অন্ধের অনুরূপ। ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ চালায়, হত্যা করে নিরস্ত্র নারী-পুরুষ ও শিশুদের, এমনকি আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিদেরও নির্বিচারে হত্যা করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইসরায়েলের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বলে- ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। এটাই হচ্ছে ইসরায়েলের স্পর্ধা আর দাম্ভিকতার ভিত্তি। সে জানে, তার অপরাধ অপরাধ নয়। সে অন্যায় করলেও যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গে আছে। সন্ত্রাসবাদের হোতা আগ্রাসী ইসরায়েল এই কারণেই বেপরোয়া। বিশে^ শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিগ্রহের কবল থেকে মানবজাতিকে রক্ষার বাসনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতিসংঘ।
অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধ ও আগ্রাসন থামাতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। তা সত্ত্বেও বিশ^ মানবসমাজের পক্ষে এখনও কাজ করে চলেছে এ সংস্থাটি বৃহৎ পরিসরে। এখনও মানবজাতি এ সংস্থাটির ওপর আস্থা রাখে, অন্যায়ের প্রতিকার পেতে এটির দ্বারস্থ হয়। সেই জাতিসংঘকেই হুমকি দেয় ইসরায়েল, আক্রমণ করে শান্তিরক্ষীদের ওপর; সরিয়ে নিতে বলে শান্তিরক্ষী বাহিনীর দপ্তর। আজকের দুনিয়ায় ইসরায়েল পরিণত হয়েছে মানববিধ্বংসী দানবে। এই দানবের কবল থেকে শুধু ফিলিস্তিনকেই নয়, মুক্ত করতে হবে বিশ^কে। জাতিসংঘের ওপর আঘাত এসেছে, এর শক্ত জবাব না দিলে কেউই রক্ষা পাবে না; তখন মানুষের পৃথিবী শাসন করবে রক্তপিপাসু দানব।
Posted ১২:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh