| বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৪
ছবি : সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। হোয়াইট সুপ্রিমেসির প্রবক্তা ট্রাম্প ইমিগ্রেশন বিরোধী এবং মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে তার গত মেয়াদে এসব ক্ষেত্রে যে কট্টর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন, এবার তা আরো প্রবল রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে সাধারণ আমেরিকান, ইমিগ্রান্ট্র কমিউনিটি এবং মুসলিম কমিউনিটিও অভিন্ন ধারণা পোষণ করেন। ট্রাম্প কেন এত বিপজ্জনক, নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেট প্রার্থী কামালা হ্যারিস বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। নিজ স্বার্থ পূরণের বাইরে তার আর কোনো আগ্রহ নেই। তার মতে ট্রাম্প আপাদমস্তক একজন ফ্যাসিস্ট।
এখন তিনি কামালা হ্যারিসকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এবং রিপাবলিকান সমর্থকরা ছাড়া অন্য সবাই ভীত। তাদের ভীত হওয়ার যথার্থ কারণও আছে। তিনি তার বিরুদ্ধে সব প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ দমনে প্রয়োজনে ন্যাশনাল গার্ড, এমনকি সেনাবাহিনী পর্যন্ত ব্যবহার করার হুমকি দিয়েছেন। এক কোটির অধিক অবৈধ ইমিগ্রান্টকে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ডিপোর্ট করার কথা বলেছেন এবং এই লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তার নির্বাচনী প্রচারণাকালে। নিউইয়র্ক টাইমসে সম্পাদকীয় বোর্ড মনে করছে যে, আমেরিকান ভোটাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জাতিকে এমন এক অনিশ্চিত পথে নিয়ে গেছে যে সম্পর্কে কেউ আগাম ধারণা দিতে পারে না। আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা পিতাগণ এই সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যে ভোটাররা একদিন একজন কর্তৃত্ববাদী নেতা নির্বাচন করতে পারে, যিনি সংবিধানে নিজের সুরক্ষার কথা সংযোজন করতে পারেন এবং যার মধ্যে সরকারের অপর দুটি শাখাকে দেওয়া ক্ষমতা সীমিত করার ইচ্ছা কাজ করতে পারে। এমনকি তিনি তার নিজের স্বার্থে আইনকে বাঁকাতেরা এমনি ভঙ্গ করবেন।
দেশটির প্রতিষ্ঠাতারা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নাগরিক অধিকারের একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন, যার মধ্যে নাগরিকদের তাদের নেতার কথা ও কাজের বিরুদ্ধে সমবেত হয়ে কথা বলার এবং প্রতিবাদ করার বিধান রয়েছে। আগামী চার বছরে, আমেরিকানদের অবশ্যই জাতি ও এর আইনগুলির জন্য যা হুমকি হতে পারে সেসব বিষয়ে স্বচ্ছ দৃষ্টি নিয়ে থাকতে হবে যে আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্টের কাছ কি পাওয়া যেতে পারে। তার কোনো বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে দেশ এবং জনগণ, আইন, প্রতিষ্ঠান এবং মূল্যবোধ রক্ষায় সংবিধানে দেওয়া তাদের অধিকার প্রয়োগের জন্য শক্তিশালীভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। একটি বিষয় উপেক্ষা করা যায় না যে লক্ষ লক্ষ আমেরিকান এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে, যার অনেক ঘনিষ্ট সমর্থকরাও তাকে প্রতিহিংসাপরায়ণ মনে করেন এবং তারা ভাবছেন যে ট্রাম্প যেগুলোকে আমেরিকার জরুরী সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করেছেন সেগুলো পরিবর্তন ও ঠিক করা প্রয়োজন। যেমন: ভোগ্যপন্যের উচ্চ মূল্য, ব্যাপক ইমিগ্রান্ট অনুপ্রবেশ, দক্ষিণ সীমান্ত নিরাপদ করা। অনেকে তাকে ভোট দিয়েছেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মাঝে সৃষ্ট গভীর অসন্তোষ।
ভোটারদের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, সমস্ত আমেরিকানকে ট্রাম্প প্রশাসনকে নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে যে তারা যাতে বাধাহীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারে এবং তার কল্পিত শত্রুদের অহেতুক হয়রানি ও শাস্তি দিতে না পারে। আমেরিকান গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভগুলো – সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখা, নিরপেক্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর এবং বিচারক, নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা এবং মৌলিক নাগরিক অধিকার ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য হামলার বাইরে থাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কে এবং তিনি কীভাবে দেশ পরিচালণা করতে চান সে সম্পর্কে কারো মাঝে কোনও বিভ্রম নেই। তিনি তার প্রথম মেয়াদে এবং ক্ষমতা ছাড়ার পরের বছরগুলোতে দেখিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও ঐতিহ্য এবং আইনের প্রতি তার কোনো শ্রদ্ধা নেই। তিনি যখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করে দায়িত্বহীন আচরণ করতে পারেন না, সেক্ষেত্রে কেবল তাঁর সমালোচরা যথেষ্ট নয়, সংবিধান ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় যে নির্দেশনা প্রদান করেছে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে আমেরিকানদের।
Posted ১২:৪৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh