বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

পরিবারতান্ত্রিক শাসনের দিন কি শেষ হচ্ছে?

  |   বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪

পরিবারতান্ত্রিক শাসনের দিন কি শেষ হচ্ছে?

পৃথিবী থেকে কি পরিবারতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটছে? জনপ্রিয় অভ্যুত্থানে চার মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ ও সিরিয়ার দুই স্বৈরাচারী শাসকের পতন ও সপরিবারে তাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কি তা প্রমাণিত হয় না? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ও রাজনীতি বিজ্ঞানিরা এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। তাদের মতে যদিও ইতিহাসের অমোঘ সত্য হচ্ছে, ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে,’ কিন্তু ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। অতএব, কোন পরিবার কোন দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং জনগণের ওপর অত্যাচারের বুলডোজার চালিয়ে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ শাসনক্ষমতা শাসক পিতামাতার স্থলে তাদের পুত্রকন্যা ও নাতিনাতনিরা ভোগ করবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বাংলাদেশ ও সিরিয়ার স্বৈরশাসকদ্বয় ছিলেন জনবিচ্ছিন্ন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আস্থা ও সমর্থনের বাইরে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীসমূহ ও দলীয় কর্মী সমর্থকদের শক্তিবলে একটি গোষ্ঠী ও পরিবার কিভাবে যুগ যুগ ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারে, সিরিয়ার আসাদ পরিবার ও শেখ হাসিনার পরিবার তার বর্তমান দৃষ্টান্ত।

একই সঙ্গে উভয় শাসকের ক্ষেত্রে এটাও প্রযোজ্য যে জনগণের সমর্থন ছাড়া শেষ পর্যন্ত কোনো স্বৈরশাসকই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। সাধারণ মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দ্বিধা বিভক্ত থাকলেও স্বৈরশাসকের প্রতি বেশিরভাগ মানুষেরই কোনো সমর্থন বা ম্যান্ডেট ছিল না। জনগণের কাছে জবাবদিহিতাহীন দীর্ঘ স্বৈরশাসনের কবলে দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়া এবং বৈষম্য, বেকারত্ব ও বিচারের সংস্কৃতি ভেঙ্গে পড়ায় দুই দেশেরই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিদ্রোহ জেগে ওঠেছিল, যে বিদ্রোহ সফল হয় জনগণের স্বত:স্ফূর্ত সমর্থন ও সহযোগিতায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাংখাকে দাবিয়ে রেখে কোনো পরাশক্তির সমর্থন নিয়ে কোনো স্বৈরশাসক ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে পারেনা। যতদিন টিকে থাকে অনেক আশংকার মধ্যে নড়বড়ে অবস্থায় টিকে থাকে। দেড় দশক আগে আরব বসন্ত প্রমাণ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুব সমাজ প্রতিটি দেশে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েম করতে চায়। আপসহীন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আফগান জনগণ রাশিয়া ও আমেরিকার মত দুই পরাশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

সিরিয়ার লৌহমানব বলে খ্যাত বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে এক যুগের বেশি সময় ধরে লড়াই করেও তেমন সুবিধা করতে পারেনি বিদ্রোহীরা। সময় যখন ঘুরে গেল, তখন মাত্র ১২দিনের মধ্যেই দামেস্ক দখল করে বাশারকে পালাতে বাধ্য করল বিদ্রোহীরা। পরবর্তী অবস্থা যাই হোক, আমরা আশা করব, জাতিগত বিরোধ ডিঙিয়ে চূড়ান্ত বিজয় হবে সিরীয়দের। গত ১২ বছরের গৃহযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার পাদপীঠ সিরিয়ার সমৃদ্ধ নগরীগুলোকে ধ্বংসস্তুপে পরিনত করা হয়েছে। প্রায় এককোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ এবার ঘরে ফিরে আসুক। সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রে বাড়িয়ে তোলা শিয়া-সুন্নী-কুর্দী মতবিরোধ ঘুচিয়ে সেখানে একটি নতুন জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠার মধ্য দিয়েই কেবল সিরীয় জনগণের লড়াইয়ের লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে।

Posted ১২:৪০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকীয়

(5462 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(2020 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(1592 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1316 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1146 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1121 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1009 বার পঠিত)

বিদায় ২০২০ সাল

(975 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(904 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.