বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

বাংলাদেশে অপশাসনের পথ চিররুদ্ধ হোক

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশে অপশাসনের পথ চিররুদ্ধ হোক

দেশের মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আত্মবিশ্বাস জেগেছে বারবার। কিন্তু স্বপ্ন বারবার হোঁচট খেয়েছে। যেকোনো কায়দায় গণতন্ত্রের পোশাক পরে স্বৈরতন্ত্র ফিরে এসেছে। শেখ মুজিব কন্যা হাসিনাও একই কায়দায় বিগত ১৫ বছরে জনগণের এ ফ্যাসিবাদবিরোধী আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করতে কোনো অপচেষ্টাই বাদ দেননি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চূড়ান্তভাবে হাসিনা পরাজিত হয়েছেন। হাসিনার পতনের পরও জনগণের মনে এখনো ভয় দূর হয়নি। তারা এখনো শঙ্কায় রয়েছে, আবারো ভিন্ন কোনো মোড়কে অপশাসন ফিরে আসে কিনা! বিভিন্ন সময়ে বিশ্বে বহু স্বৈরশাসক এসেছেন। স্বৈরশাসকদের দুঃশাসন, অত্যাচার-নির্যাতন সম্পর্কে ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে।

সমসাময়িক বিশ্বে অত্যাচারী স্বৈরশাসকের দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায় হিটলার, মুসোলিনির নাম। যুগে যুগে দুনিয়ার বহু স্বৈরশাসকের জন্ম হয়েছে; যারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং নিজ দেশের নাগরিকদের অনুগত রাখতে হেন অত্যাচার নাই যা করেননি। আমরা যদি হিটলারের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, তার নাৎসি বাহিনী বন্দী ও শ্রমশিবিরে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে। বিরুদ্ধবাদী কাউকে হিটলার জীবিত রাখতেন না। ইতালির ফ্যাসিস্ট শাসক বেনিতো মুসোলিনির নাম কে না জানেন? ১৯২২-১৯৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ইতালির স্বৈরশাসক এবং ফ্যাসিবাদের প্রবক্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ মতবাদ ছড়িয়ে দিতে তিনি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন।

এ ছাড়াও স্পেনের স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো, জাপানের হিদেকি তোজো নিষ্ঠুরতায় যাকে এশিয়ার হিটলার বলা হয়। আমরা উপরোল্লিখিত স্বৈরশাসকদের বর্বরতার ইতিহাস পড়ে তাদের ঘৃণা করি। ইতিহাসের অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও তাদের মতো বা তাদের চেয়েও ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিস্ট শাসকের নির্মম-জুলুম-অত্যাচার প্রত্যক্ষ করতে হবে তা কেউ কল্পনাও করেনি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ দেশের মানুষ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের চাক্ষুস সাক্ষী। হিটলার-মুসোলিনির প্রতিভূ হয়ে ওঠেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত মোহ যেমন হিটলার-মুসোলিনির পতন ত্বরান্বিত করেছিল, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছে। তিনি যেকোনোভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছিলেন।

আরো ক্ষমতা, আরো দুর্নীতি, লুটপাট, ব্যাংক থেকে টাকা পাচার, হত্যা, গুম, বিরোধী মত দমন, এসব হয়ে উঠেছিল শেখ হাসিনার শাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, ‘আমি ক্ষমতা চাই, আমি দেশের উন্নতি করতে চাই। আমি অ্যাবসুউিলট পাওয়ার নিয়ে দেশের উন্নতি করব, এটিই আমার সাফ কথা।’ তার এ কথার মধ্যে স্বৈরশাসনের চরম নিষ্ঠুরতা লুকিয়ে আছে। যে কারণে তিনি জনগণের ভোটের থোড়াই কেয়ার করে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকার খোয়াব দেখছিলেন। ক্ষমতাকে এককেন্দ্রিক করার তার এ খায়েশের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে অমানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। জেল-জুলুম ছাড়াও কত মানুষকে যে হত্যা এবং গুমের শিকার হতে হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বিরোধী মতের যে কাউকে তিনি ন্যূনতম ছাড় দিতেন না।

‘আয়নাঘর’ নামক এক অবৈধ বন্দিশালায় বন্দী করে রেখেছেন বহু মানুষ। অনেকের হদিস পাওয়া যায়নি, আবার যারা ভাগ্যক্রমে বেঁচে এসেছেন; তারা যে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন, তা রীতিমতো লোমহর্ষক। কোনো নরপিশাচ ছাড়া মানুষের প্রতি এত নির্দয় হতে পারে না। বছরের পর বছর আয়নাঘর নামক অন্ধকার ছোট্ট ঘরে বন্দী রেখে মানুষের প্রতি যে নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছেন শেখ হাসিনা, ইতিহাসে তা ঘোর কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। ফ্যাসিবাদী শাসনকে এ ভূ-খণ্ডের মানুষ কখনো মেনে নেননি। তাই স্বাধীনতা পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী যত স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিবাদী শাসকের উত্থান ঘটে তাদের এ দেশের জনগণ গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করেছেন। স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদ হয়তো বিদায় নিয়েছে কিন্তু বিনিময়ে আমাদের বহু মূল্য দিতে হয়েছে। প্রশ্ন হলো, একবার ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর আবার কোন সুযোগে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে? এর জন্য দায়ী কারা?

দেশে গণতন্ত্র, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন বেষ্টিত করতে সংবিধানের মাধ্যমে সংসদসহ যেসব প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে বাকশালী শাসন আমলে এবং হাসিনার ফ্যাসিবাদী জমানায় ওই সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান স্বকীয়তা হারায়; বরং এসব প্রতিষ্ঠান অপব্যবহার করে হাসিনা নিজের শাসনামলে ফ্যাসিবাদের নির্মমতা এবং ভয়কে জনগণের মনন ও মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে কিছু সংবাদমাধ্যমসহ রাষ্ট্রের কিছু প্রতিষ্ঠান হাসিনাকে বেশি মাত্রায় ফ্যাসিবাদী হতে উৎসাহিত করে। সুবিধাভোগী এ গোষ্ঠী যারা ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে ওঠে এরা রাষ্ট্র, আমাদের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের কথা কখনো আমলে নেননি। যারা তাকে ফ্যাসিবাদী হতে উৎসাহিত করেন, তাদের সবাই দুর্নীতির মহারাজ্য বানিয়ে শত শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন।

বহু জীবন ও বিপুল রক্তের বিনিময়ে হাসিনার অপশাসনের অবসানের পরও কি আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের আতঙ্ক থেকে মুক্ত? দেশের মানুষের কাছে এটি একটি বিরাট বড় প্রশ্ন। রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে হাসিনার নিয়োগ করা যারা এখনো বসে আছেন; তারা রাষ্ট্রকে বিপথগামী করার অপচেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। তবে এ কথাও সত্য, যেকোনো বিপ্লবের পর নৈরাজ্য, এমনকি প্রতিবিপ্লবের শঙ্কা তৈরি হয়; সেটি কাটিয়ে উঠতেও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

Posted ১:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকীয়

(5462 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(2020 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(1592 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1316 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1146 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1121 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1009 বার পঠিত)

বিদায় ২০২০ সাল

(975 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(904 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.