| বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
অবৈধ ইমিগ্রান্ট আটক ও বহিস্কারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ আতঙ্ক শুরু হয়েছে ট্রাম্প তার নির্বাচনী অভিযানে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিদেশিদের ‘গণবহিস্কার’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তার অন্যান্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়ে অবৈধদের বহিস্কারের প্রতিশ্রুতি তার নির্বাচিত হওয়ার প্রধান নিয়ামকে পরিণত হয়েছিল।
গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেই তার প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করেছেন একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করার মধ্য দিয়ে।
অবৈধ ইমিগ্রান্টদের বহিস্কার শুরু হয় তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে। ইমিগ্রান্ট আটক করা হচ্ছে এবং তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেকে আটক হওয়ার ভয়ে পালিয়ে, গা ঢাকা দিয়ে দিনাতিপাত করছে। যারা তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমোদন না থাকা সত্বেও নিজ নিজ কমিউনিটি সদস্যদের গ্রোসারি, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থে কাজ করতেন, ট্রাম্প প্রশাসনে ধরপাকড় থেকে রক্ষা পেতে তারা কাজ ছেড়েছেন।
কারণ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সংস্থা ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ‘আইস’ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে একদিকে অবৈধ ইমিগ্রান্টদের সন্ধান করে এবং অবৈধদের কাজে নিয়োগ করা হলে সংশ্লিষ্টদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ও অবৈধদের নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেয়। এই ব্যবস্থার মধ্যে জেল-জরিমানা সবই আছে। অতএব সার্বিক বিচারে বৈধ-অবৈধ নির্বিশেষে ইমিগ্রান্ট কমিউনিটি এক ধরনের সন্ত্রস্ত অবস্থার মধ্যে কাটাচ্ছে। এমনকি যারা বৈধ, গ্রিনকার্ডধারী, বৈধ ভিসায় ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, তাদের বিরুদ্ধে ছুতানাতা ত্রুটি বের করে আটক করা হয়েছে অনেককে।
আটক করেই যেহেতু সকলকে একযোগে পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় এবং কিছু আইনি জটিলতাও থাকে, সেজন্য আটককৃতদের পাঠিয়ে দেওয়ার পূর্ব সময় পর্যন্ত আটকে রেখে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করা লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ডিটেনশন সেন্টার বা আটক শিবির তৈরি করতে ৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে কখনও এত ব্যাপক-ভিত্তিক ইমিগ্রান্ট আটক ব্যবস্থা সম্পসারিত করার উদ্যোগ দেখা যায়নি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিভাগ বা আইস এ প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে ঠিকাদারদের আগামী দুই বছরে ৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়বরাদ্দ সম্বলিত আপাতত নতুন ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণ, আটক ইমিগ্রান্টদের পরিবহন করা, ডিটেনশন সেন্টার প্রহরার ব্যবস্থা করা, আটকদের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সার্ভিস দেওয়ার জন্য প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান হয়েছে। শুধু তাই নয় ফেডারেল সরকার যদি ‘আইস’কে প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদন করে, তাহলে অবৈধ ইমিগ্রান্ট গ্রেফতার ও আটক রাখার জন্য বর্তমান বরাদ্দের ছয়গুণ অধিক অর্থ বরাদ্দ হবে এবং আইস এর ইমিগ্রান্ট আটক করার পরিমাণও সে অনুপাতে বৃদ্ধি পাবে। অবৈধ ইমিগ্রান্টদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন যে আরো কঠোর হতে যাচ্ছে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণে এত বিপুর পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা দেখে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রেকে অবৈধ ইমিগ্রান্ট মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর এবং তিনি তার বর্তমান মেয়াদেই তা করতে চান। গত অর্থবছর আইস এ কাজে পরাদ্দ পেয়েছিল প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ডলার। আইস ইতিমধ্যে রিপাবলিকান পার্টির সরকার থেকে তাদের অভিযান পরিচালনার জন্য বড় ধরনের বরাদ্দের আশা করছে এবং সিনেট রিপাবলিকানরা তা গত শনিবার অনুমোদন করেছে। এই ব্যবস্থা ইমিগ্রেশন আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আটক ইমিগ্রান্টদের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ তদারকি করতে আগামী ১০ বছরে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণ কাজে ৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পর পরবর্তী ব্যয়বরাদ্দ আরও সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। এতে কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। সার্বিক পরিস্থিতি হচ্ছে, ট্রাম্পের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রান্ট কমিউনিটিকে চরম বিপদের মধ্যে দিন কাটাতে হবে। অতএব তাদেরকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।
Posted ১২:০০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh