বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রেরণা

  |   বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রেরণা

বাঙালি জাতির একটি চরম ক্রান্তিলগ্নে আমাদের জাতীয় জীবনে আবির্ভাব হয় জিয়াউর রহমানের। অসীম সাহসিকতা, দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে তিনি সময়ের প্রয়োজনে আলোর দ্যুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর কণ্ঠে স্বাধীনতার যে ঘোষণা শোনা গেছে, তা জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল।

জিয়াউর রহমান অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে দেশকে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করার জন্য। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে তিনি ফিরে যান নিজ পেশা সামরিক বাহিনীতে। অস্ত্র হাতে সাহসী যোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে তিনি জেড ফোর্সের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সেই সাহসী যুদ্ধের কাহিনি এখনো বাংলাদেশের সাময়িক বাহিনীর ইতিহাসে সমোজ্জ্বল।

তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপপ্রধান পদে নিয়োজিত হন। স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠনে নিরলস ভূমিকায় নিয়োজিত হলেন তিনি।

কিন্তু আবার কালো মেঘে ছেয়ে গেল স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্ত আকাশ। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করার পর ক্ষমতায় আসেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য। সমগ্র জাতি তখন চরম সংকটের মুখোমুখি। তৎকালীন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য বিদ্রোহ করেন। খালেদ মোশাররফ নিজেকে সেনাপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ৩ নভেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দী করেন। স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাককে পদচ্যুত করা হয় ও বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েমকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জিয়াউর রহমান বন্দী হওয়ার পর সেনাবাহিনীতে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের কারণে সেনাবাহিনীতে দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা। দেশের জনগণ দুঃসহ অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির সম্মুখীন, ঠিক সেই মুহূর্তে সশস্ত্র বাহিনী-জনতার সমন্বয়ে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি বিপ্লব ঘটে। মুক্ত করা হয় বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে। ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি এ দেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হন। ফিরিয়ে আনেন সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা। সব ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে নিরাপদ করেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।

এরপর ঘটনার আবর্তে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে আবির্ভূত হন। ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ এস এম সায়েমের অনুরোধে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগলাভের পর ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েমের পদত্যাগের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। এরপর দ্রুততার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিধ্বস্ত গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করেন।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইতিপূর্বে নিষিদ্ধ হওয়া সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করার অনুমতি দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বিচারব্যবস্থায়ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। দেশে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গঠন করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরে জিয়াউর রহমান নতুন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯ দফার ভিত্তিতে গঠিত এই দলের মূলমন্ত্র ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্রের প্রসার, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন। চারটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয় মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সমাজতন্ত্র।

দল গঠনের সময় জাতি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত ছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর মেধা ও গুণাবলি দিয়ে দেশকে একটি শৃঙ্খলার পথে নিয়ে আসেন। জন্মলগ্ন থেকে বিএনপি আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি গ্রহণ করে, যা দেশকে উত্তরোত্তরভাবে উন্নতির দিকে নিয়ে যায়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। সব মতের সম্মিলনে সব বিভেদের ঊর্ধ্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গঠন ছিল জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন, যেটা তাঁর বক্তব্যের মধ্যে বরাবর ফুটে উঠেছে-‘আমরা সকলে বাংলাদেশি, আমরা প্রথমে বাংলাদেশি এবং শেষেও বাংলাদেশি। এই মাটি আমাদের, এই মাটি থেকে আমাদের অনুপ্রেরণা গ্রহণ করতে হবে। জাতিকে শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। ঐক্য, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও কঠোর মেহনতের মাধ্যমে তা সম্ভব।’

তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে আমরা খুঁজে পাই জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রাণপুরুষ বাংলাদেশের এক মহানায়ক জিয়াউর রহমানকে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে জিয়াউর রহমান শহীদ হন। এরপর আসে সামরিক আইন ও এরশাদের নয় বছরের স্বৈরশাসন। ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে শহীদ জিয়ার সুযোগ্যা স্ত্রী খালেদা জিয়া দৃঢ় হাতে দলের হাল ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপসহীন নেতার ভূমিকা পালন করেন।

Posted ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকীয়

(5462 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(2019 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(1591 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1315 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1145 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1120 বার পঠিত)

সম্পাদকীয়

(1008 বার পঠিত)

বিদায় ২০২০ সাল

(975 বার পঠিত)

ঈদ মোবারক

(904 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.