| বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে আছেন। সেখানে তিনি ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের তার হাত থেকে ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও যুক্তরাজ্যের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসে এক সংলাপে অংশ নেবেন।
এসব আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে যেদিকে বাংলাদেশের জনগণ এবং বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশির প্রধান আগ্রহের বিষয় হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিগত এক যুগের বেশি সময় যাবত লন্ডনে বসবাসরত দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ। প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে যে হোটেলে অবস্থান করছেন সেখানে আগামীকাল শুক্রবার সকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ধারণা করা হচ্ছে যে, তাদের দুজনের মধ্যে এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো সহজ করবে এবং দেশ নির্বাচনমুখী হবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ও পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রার প্রাক্কালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দেশের প্রধান নির্বাহী ও বৃহত্তম দলের মধ্যে বৈঠকটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল বিবেচনা করছে। আওয়ামী লীগের পতনে বিনেপির তেমন কোনো ভূমিকা না থাকা সত্বেও তারা অনৈকটা ফাঁকা মাঠে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আশায় যথাশীঘ্র দ্রুত নির্বাচন দাবী করছে এবং অন্তবর্তী সরকারকে নানাভাবে হুমকি প্রদান করছে। বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়।
অন্তবর্তী সরকার প্রধান আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বললেও বিএনপির হুমকি আরো বৃদ্ধি পায়। প্রধান উপদেষ্টা ঈদুর আযহার আগে ড. ইউনুস জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে যেকোন দিন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও বিএনপি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তারা ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবীতে এখনো অনড় এবং অন্তবর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে অনেক বিএনপি নেতা বালখিল্য ও হাস্যকর কথাবার্তা বলছেন। এ পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে ধারণা করা যায়। তবে বিএনপির তড়িঘড়ি নির্বাচন দাবীকে অনেকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করছেন।
গতবছরের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের তরুণ নেতারা বিপ্লবের চেতনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় সংস্কারের পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে হলেও তাদের মধ্যে বিপ্লবকালীন ঐক্যে যে কিছুটা ফাটল ধরেছে এবং তাদের এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনন ও টানাপোড়েনকে পুঁজি করেই বিএনপি তড়িঘড়ি নির্বাচনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচনের সময় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার এ ধরনের ঘোষণাকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলোর মধ্যে রেঁষারেষিকে উসকে দেয়া হয়েছে।
আমাদের দুর্ভাগ্য, যে লক্ষ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল, তার ৫৪ বছরে এসেও সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সরকার দেশে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। ’৭৫-এ শেখ মুজিবের পতনের পর নানা ঘটনা ও সিপাহী-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় প্রতিষ্ঠা, আমাদের আত্মপরিচয় নির্দিষ্টকরণসহ দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
স্বাধীনতার লক্ষ্য পূরণে তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রীয় দর্শন, দূরদর্শী চিন্তা, পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের উদ্যোগ দেশের মানুষ অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে বিএনপি তাঁর দর্শন পুরোপুরি ধারন ও এগিয়ে নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ বরাবরই তার সেই স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা ধরে রাখে এবং বিগত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিজম কায়েম করে দেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ও পালিয়ে যাওয়ার পর দেশ এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এখন জনগণের প্রতিনিধিত্ব¡শীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিকল্প নেই এবং জনগণ আশা করছে যে সরকার আন্তরিকভাবে সে লক্ষ্যেই অগ্রসর হচ্ছে।
Posted ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh