| বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর অনুষ্ঠিত দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গঠিত নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর পর এবারের স্বাধীনতা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং দিবসটিকে কেন্দ্র করে জনগণের প্রত্যাশাও অধিক। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমানে কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা দেশবাসীকে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সংকল্পে উজ্জীবিত করে তোলে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর দেশবাসী আশা করেছিল তাদের শোষণ বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
কিন্তু ঘটেনি, বরং জনগণের ওপর চেপে বসেছিল স্বৈরশাসন। ১৯৭৫ সালে দৃশ্যপটে আবারও আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। তিনি একদলীয় শাসনের পরিবর্তে দেশকে উপহার দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যখন দেশকে উন্নয়নের সোপানে উঠিয়ে নিচ্ছিলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল, ঠিক তখন ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করা হয়।
তার জনপ্রিয়তা এমন উচ্চতায় ছিল যে, দেশবাসী তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ পরিচালনার নেতৃত্বে নিয়ে আসে। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে ছিল না। ইতিহাসের পরিক্রমায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে পুনরায় গণতন্ত্রের খোলসে স্বৈরশাসন চাপিয়ে দেওয়া হয় জনগণের ওপর এবং তা টানা দেড় দশক অব্যাহত থাকার পর ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পতন ঘটে। এর দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। জনগণের বিপুল আশা যে তার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কেউ আর বঞ্চনা ও জুলুমের শিকার হবে না। আজ মহান স্বাধীনতার এই দিনে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই বীর সন্তানদের, যাঁরা দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের সংবিধানেও সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও যে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। এর পেছনে আর্থসামাজিক বৈষম্য ও সুশাসনের ঘাটতি যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতাও।
স্বাধীনতার পর থেকে যেসব রাজনৈতিক দল দেশশাসনের ভার নিয়েছে, তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, পূর্বাপর সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থেকেছে। নিকট অতীতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণের পাশাপাশি দেশে দুর্নীতি ও লুটপাটের শাসন কায়েম করেছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেরও মূল লক্ষ্য ছিল দেশে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা। যেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ২০২৪ এ গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, তা থেকে এর অংশীদাররা ক্রমেই দূরে সরে গেছে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দল ও পক্ষগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। বেশির ভাগই জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে বড় করে দেখছে। সবকিছু সত্ত্বেও দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশে যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল তা দূর হয়েছে। কার্যকর ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নাগরিকদের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক ঐক্য ও সম্প্রীতি। স্বাধীনতা দিবস সবার জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
Posted ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh