বাংলাদেশ অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের সংবিধান এবং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক সংবিধান অনুযায়ী সকল ক্ষমতা জনগণের এবং এ ক্ষমতা প্রয়োগ সংবিধানের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কারণে সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। এর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন প্রয়োগের অযোগ্য। সার্বভৌমত্ব জনগণের উপর ন্যস্ত থাকায় তার সংবিধানের মাধ্যমে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করে। সংসদ সদস্যরা সংবিধানের অধীনে শপথ গ্রহণ করার পর সীমিত সময়ের জন্য আইন প্রণয়ন করার দায়িত্ব পালন করে। এর বেশি কিছু নয়।
জনগণ সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস হওয়া সত্তেও সীমিত সময়ের জন্য যারা ক্ষমতায় আসীন হয়, তারা জনগণকে পরোয়া করে না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল সকল দলের সম্মতির প্রেক্ষিতে। গণভোটের একটি প্রেক্ষিত ছিল। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করার পর গণভোটের রায় মেনে নিতে টালবাহানা শুরু করে, যা কার্যত গণভোটের রায়কে অস্বীকার করার নামান্তর।
এর মাধ্যমে সরকার জনগণের সার্বভৌমত্ব কার্যত অস্বীকার করেছে। অথচ গণভোট হলো প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের একটি বৈধ রূপ, যেখানে ভোটাররা প্রতিনিধি নির্বাচনের পরিবর্তে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত, সাংবিধানিক বা নীতিগত বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট প্রদান করে। সরকার পক্ষ নতুন করে বলতে শুরু করে যে সংবিধানে ‘গণভোটের’ কোনো বিধান নেই। জনগণের সঙ্গে এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর কিছু হতে পারে না। এটা সংসদীয় আচরণ নয়। সংসদ যেকোনো আইন পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে। কিন্তু গণরায়কে বাতিল করতে পারে না। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন সংসদ প্রণয়ণ করতে পারে না।
বিচার বিভাগের প্রায়শই সংসদীয় আইন পরীক্ষা করার এবং সেগুলি সংবিধানের পরিপন্থী হলে বেআইনি ঘোষণা করার ক্ষমতা থাকে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারের দুঃশাসন থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য বিশ্বের প্রতিটি দেশে সাংবিধানিক সার্বভৌমত্ব বিদ্যমান। সংসদ কর্তৃক প্রণীত যেকোনো আইন, যা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, তা বাতিল বলে গণ্য হয়। সংবিধান হলো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। সংবিধান হলো সেই মাধ্যম, যার দ্বারা জনগণ তাদের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করে। সংবিধান সংসদ ও সর্বোচ্চ আদালতকে তাদের কর্তৃত্ব প্রদান করে এবং তারা নিজেরা সার্বভৌম নয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, সংবিধান একটি জীবন্ত, স্পন্দনশীল সত্তা, যা যে কোনো সময়ে তার শাসিত জনগণের রাজনৈতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে।
সেই হিসেবে, সংবিধানের আইনকে অবশ্যই সেই সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশের প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে যেখানে এটি কার্যকর। রাজনৈতিক বিপ্লবের ফলেই সাধারণত সংবিধান তৈরি হয়, মানুষ বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তনের আকাংখা ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের জনগণও তা করেছিল। সরকার জনগণের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। মেয়াদ শেষে তাদের আবারও জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে। কিন্তু বিএনপি সরকার এ সত্য ভুলে গেছে এবং ক্ষমতার দম্ভে কথা বলছে ও আচরণ করছে। এর খেসারত সরকারকে দিতে হবে।
Posted ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh