| বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে সদলবলে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর পলাতক নেতাকর্মীরা নড়েচড়ে বসছেন। যারা এতদিন গর্তে লুকিয়ে ছিলেন, তারা গর্ত থেকে মাথা বের করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিরোধী, বিশেষ করে যারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে জড়িত ছিল এবং শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও তাকে দলবলসহ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে, তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনা তার ঘোষণাটি দিয়েছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে। তার পালিয়ে যাওয়ার দুই বছর পূর্তিতে এমন একটি ঘোষণায় দেশে-বিদেশে আওয়ামী মহল উচ্ছসিত হলেও আওয়ামী লীগ বিরোধীরা হাসিনার ঘোষণাকে তেমন গুরুত্ব সহকারে নেয়নি। এটিকে তারা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি এবং বিদেশে অবস্থানরত ও দেশে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছে। শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর কোনো সংবাদ বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক কোনো মিডিয়ায় ছাপানো বা সম্প্রচার না করার জন্য আইসিটির নিদের্শনা থাকলেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রচারের বাইরে ছিল না। শেখ হাসিনা তার নিজ দেশ ফেরত আসবেন, এটাই স্বাভাবিক হওয়া উচিত। কিন্তু যে অপরাধে তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত তাকে আসতে হলে একজন দণ্ডিত অপরাধী হিসেবেই আসতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতের কাছে একাধিকবার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করার অনুরোধ জানিয়েছে দুই দেশের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পন চুক্তির আওতায়।
ভারত তা গ্রাহ্য করেননি, বরং শেখ হাসিনাকে সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ বিরোধী ও বাংলাদেশ সরকার বিরোধী প্রচারণা চালানো এবং তার প্রতিপক্ষদের হুমকি দেওয়ার জন্য। ভারত সরকার হাসিনার মুখ বন্ধ করার কোনো চেষ্টা তো করেইনি, বরং হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের জামিন-অযোগ্য মামলার শত শত আসামীকে নির্বিঘ্নে ভারতের বিভিন্ন বিচরণ করা ও বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালানোর সুযোগ দিয়ে। ভারত এক্ষেত্রে আদৌ সৎ প্রতিবেশিসুলভ আচরণ করেনি। শেখ হাসিনা তার সাক্ষাৎকারে কেবল তার দেশে ফেরার ঘোষণা নয়, এক ইউটিউব বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে টার্গেট করে অতীতের মতো স্বভাবসুলভ বিষোদগার করেছেন। দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর মুখে প্রতিশোধমূলক উচ্চারণ আইনের দৃষ্টিতে খুব স্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসেই অনেক অপরাধীর বিচার হয়েছে তাদের অনুপস্থিতিতে। বিদেশে অবস্থানরত অনেকের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে।
কিন্তু কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী দেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে, প্রতিপক্ষকে হুমকি অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়েছে, এমন দেখা যায়নি। তারা বরং সর্বক্ষণ আড়ালে-আবডালে অবস্থান করেছে তাদেরকে আশ্রয় প্রদানকারী দেশ কখন তাদের গ্রেফতার করে দেশে ফেরত পাঠায়, এই ভয়ে। কিন্তু শেখ হাসিনার দম্ভ তার নিজের দম্ভ নয়, ভারতের আসকারা পেয়েই যে, তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সোচ্চার তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। ভারত আর কত প্রশ্রয় দেবে শেখ হাসিনা ও তার দলকে। ভারত কেন ভাবে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশিসুলভ সম্পর্ক গড়ে উঠবে না?
এ ধরনের ভাবনার মধ্যে অবশ্যই ভারতের দুরভিসন্ধি রয়েছে। ভারতকে এই মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশের একটি আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তিনি ভারতীয় নিরাপত্তাধীনে রয়েছেন, তাকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে প্রত্যর্পণ করেই ভারত এটা প্রমাণ করার সুযোগ নিতে পারত যে, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করতে তাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ভারত সরকার তা না করে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও বেশি মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি করছে। শেখ হাসিনা তার দেশে আসতেই পারেন। তবে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অবশ্যই আইনের বিধান অনুযায়ী তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাই স্বাভাবিক।
Posted ৩:৩৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh