বাংলাদেশ রিপোর্ট : | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টদের নিউইয়র্কে তাদের অভিযান পরিচালনাকালে মুখোশ ধারণ করতে পারবে না বলে এতদিন যাবত নিউইয়র্কে যে আইন কার্যকর ছিল, নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত তা স্থগিত করেছে। একই সাথে আদালত বলেছে যে নিউইয়র্কের পুলিশ অভিবাসী গ্রেফতারে ‘আইস’কে সহযোগিতা করবে না বলে নিউইয়র্ক পুলিশ যে বিধি অনুসরণ করছে, তা বহাল থাকবে।
আইস এজেন্টদের মুখোশ পরিধানে বৈধতা দিয়েও আদালত তাদের পরিচয়পত্র প্রদর্শনকে বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট নিউইয়র্ক স্টেটে ‘আইস’ এর অভিযানকে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে ফেডারেল সরকারের অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযানের ওপর বেআইনী চাপ বলে বর্ননা করেছে।
ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে গত জুন মাসে আইস এজেন্টদের মুখোশ ধারণে নিউইয়র্কের প্রতিবন্ধকতামূলক আইন চ্যালেঞ্জ করে মামলা করে এবং গত সোমবার তারা তাদের অনুকূলে রায় পেয়েছে।
বিচারক ডি’অগোস্টিনো তার রায়ে লিখেছেন যে, স্থায়ী আইন প্রতিষ্ঠা করে ফেডারেল সরকার, কোনো রাজ্য নয় এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রণয়নের একটি অংশ হলো আইন প্রয়োগের নীতিগুলোও তৈরি করে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত স্টেটের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অভিবাসন এজেন্টদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা আগামী ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
নিউইয়র্ক আদালতে এই রায় আংশিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিজয়, যাতে বলা হয়েছে যে, ‘আইস’ এজেন্টদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য অভিযানকালে তাদের মুখোশ পরিধান করা আবশ্যক। ফেডারেল প্রশাসন এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুনুফ একটি আইন বাতিল করতে সফল হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেছিলেন যে, আইনটি ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বৈষম্য করেছে। বিচারক ডি’অগোস্টিনো তাঁর রায়ে আরও উল্লেখ করেছেন যে, ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ যথেষ্ট স্বচ্ছতার সাথে এ ধরনের অপারেশন পরিচালনা করার উপায় বেছে নিয়েছে কিনা, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এই আদালতের সময় নেই।
নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর ক্যাথি হকুল গত মে মাসে ‘নিউইয়র্ক মুখোশ আইন’ নামে পরিচিত আইনের আওতায় ফেডারেল বা যেকোনো পর্যায়ের আইন প্রয়োগকারীদের মুখো ধারণেল ওপর নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক আইনে স্বাক্ষর করেছেন। এটি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সময় ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে কঠোরতার বিরুদ্ধে ডেমোক্রেট প্রতিবাদের অংশ। অপরদিকে রিপাবলিকানদের যুক্তি হচ্ছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগকারীদের মুখোশ পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের একজন প্রসিকিউটর ব্র্যান্ডন নিউম্যান বলেছেন যে, নিউইয়র্কের মুখোশ এবং আইস এর সঙ্গে স্থানীয় আইন প্রয়োগে সহযোগিতার ওপর স্টেটের নিষেধাজ্ঞা দুটিই অবৈধ। কারণ আমেরিকান স্টেটগুলো ফেডারেল এজেন্সিগুলো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌম কার্যক্রম পরিচালনার মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হবে।
Posted ৪:০১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh