| বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
মুসলমানদের অনৈক্য, বিভক্তির ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বৃহত্তর মুসলিম ঐক্যের ডাক ক্রমে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এহেন বাস্তবতা সামনে রেখে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান সাত দশক আগে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর ন্যাটো চুক্তির আদলে একটি সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটিকে সাধারণভাবে ‘মক্কা চুক্তি’ বলা হলেও আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে বর্ণ না করছেন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলে। যে যাই বলুক, এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, প্রধান মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটি বৃহত্তর সামরিক ঐক্যজোট গড়ে উঠতে চলেছে। এই জোটে যোগ দেয়ার প্রশ্নে ইরানের পক্ষ থেকেও নাকি ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে
মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে অব্যাহত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিকভাবে মুসলমানদের অনৈক্য দূর করার মাধ্যমেই এবার নতুন বিশ্বব্যবস্থার সূচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চুক্তি স্বাক্ষরকারী তিন দেশের নেতা – সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ত্রিপক্ষীয় এ চুক্তিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার কাঠামো রাখা হয়েছে। চুক্তির মূল ধারায় তিন স্বাক্ষরকারী দেশের যে-কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশকেও এই জোটে যোগ দেয়ার অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত প্রকাশে কিছু বলেনি। কিন্তু মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে ভেবে ভারত আগে থেকে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।
ভারত কূটনৈতিকভাবে কিছু না বললেও ভারতের মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এই চুক্তিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড শুরু করেছে। তারা প্রকারান্তরে বলতে চাইছে যে, এ ধরনের কোনো সামরিক চুক্তিতে প্রবেশ করার কোনো অধিকার বাংলাদেশের নেই। এই নিরাপত্তা জোটে সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক সক্ষমতা, তুরস্কের উন্নত সামরিক-শিল্প প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা একত্রিত হওয়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ অনুমান করছেন যে এর প্রভাব পারস্য উপসাগর ও লেভান্ত অঞ্চলের বাইরে বিস্তৃত হতে পারে বলে। এমনকি বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত এই জোটের পরিসর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় ঢাকা কৌশলগত ও নিরাপত্তা অংশীদারীত্ব বহুমুখী করার আশাবাদ ব্যক্ত করায় ভারত আশঙ্কা করছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তির পরবর্তী স্বাক্ষরকারী দেশ হয়, তাহলে ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতার অবসান ঘটবে, অথবা লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাবে। তাছাড়া ভারত তাদের দেশের অশান্ত অব্জলগুলোকে দমনমূলক উপায়ে শান্ত রাখার চেষ্টা বর্তমান সময়ের মতো কার্যকর নাও থাকতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটার পর ড. মুহামামদ ইফনুসের অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদে ঢাকা ইসলামাবাদ সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরাসরি সমুদ্র যোগাযোগ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তির শরীক হয়, তাহলে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ পাকিস্তানেরও আরও কাছে আসবে এবং এাঁই ভারতের উদ্বেগের বড় কারণ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ইতোমধ্যে বলেছেন যে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো সম্ভাবনা ও বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হলে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ থাকতে পারে না মনে করেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
Posted ১২:১১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh