বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাচীর তুলতে হবে

চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল :   |   বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাচীর তুলতে হবে

সীমান্ত হত্যা থামছেই না। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী কতৃক নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা চলছেই। আপাতত থামার কোন সম্ভাবনাও দেখছি না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সীমান্ত হত্যা চলে আসছে। ভারতের অকৃত্রিম বন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যখন বাংলাদেশ রাস্ট্রপতি ছিলেন তখনও সীমান্ত হত্যা হয়েছে। এরপর সব সরকারের সময়ই এটা হয়ে চলেছে। জিয়াউর রহমান ও হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সময় জোড়ালো প্রতিবাদ হত। খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনার সময় সেটাও গেছে। মাঝখানে মুহাম্মদ ইউনুসের তত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিছুটা প্রতিবাদ হয়েছে। এখন অবস্থা আবারও তথৈবচ।

সীমান্ত হত্যা বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের মেসেজটি পরিস্কার। ওরা মারতেই থাকবে। বাংলাদেশ যদি কখনও প্রতিবাদ করে ওরা সীমান্ত হত্যা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেবে। পরদিন বাংলাদেশে নাগরিকদের হত্যা করে জানিয়ে দেবে তোমার যা বোঝার বুঝে নাও। আমরা কিন্তু থামছি না। যেহেতু অতীতে সবসময় এটা হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীর সময় হয়েছে, মনমোহন সিংয়ের সময় হয়েছে আর এখনতো নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক সরকার। তাই ধরে নেওয়া যায় বিএসএফ কতৃক বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা আপাতত থামছে না। সম্প্রতি পশ্চিম বঙ্গে জঙ্গীনেতা শুভেন্দু অধিকারী মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এর তীব্রতা আরও বাড়বে। ভারতীয়দের অভিযোগ বাংলাদেশীরা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গিয়ে গরু চুরি করে।

বাংলাদেশী নাগরিকরা গরু ও অন্যান্য চোরাচালানীর সাথে জড়িত। অভিযোগটি হয়ত পুরোপুরি অসত্য নয়। কিন্ত নিরস্ত্র দরিদ্র বাংলাদেশীরা কি করে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু নিয়ে আসে। এত টাকা তারা পায় কোথায়। বিএসএফ ও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির সহযোগিতা ও অংশগ্রহন ছাড়া কি এটা সম্ভব। আজ পর্যন্ত এই অপরাধে কোন বিএসএফ ও বিজিবি’র সদস্যকে কি গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা পেছনে থেকে চোরাচালানী ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের কি কখনও ধরা হয়েছে। প্রাণ যাচ্ছে শুধু ফ্রন্টলাইনে থাকা নিরীহ পাচারকারীদের।

শুধু গরু পাচারকারীরা নয় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিক যারা কখনও ভারত যায়নি তারাও বিএসেএফের গুলিতে প্রাণ দিচ্ছে। বিএসএফের অত্যাচারে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা তাদের নিজস্ব জমিতে চাষাবাদ পর্যন্ত করতে পারছে না। এমনকি বিএসএফের সহযোগিতায় ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে জমি থেকে ফসলও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিএসএফ সদস্যরা প্রতারনা করে বাংলাদেশীদের সীমান্তে ডেকে নিয়ে গুলি করে দিয়েছে এমন অভিযোগও আছে।

সম্প্রতি তারা একটি বাংলাদেশী ছেলেকে কিছু ভুট্টা দিতে বলে। যেহেতু বিএসএফ বলেছে তাই ছেলেটি নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে ভুট্টা দিতে যায়। কিন্তু সীমান্তরেখার কাছাকাছি যেতেই তাকে আরেকজন বিএসএফ গুলি করে দেয়। বিএসএফ এখন বাংলাদেশীদের গুলি করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনা। তারা জানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার পর ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার শক্তি বাংলাদেশের নেই। বিএসএফ বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করলে ফ্ল্যাগ মিটিং করে মৃহদেহ গ্রহন করা ছাড়া বিজিবি আর কিছু করতে পারবে না। চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফ অত্যান্ত সুশ্ঙ্খৃল ও ভদ্র। কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তে বেপরোয়া। তারা বুঝে গেছে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে ডিভাইড করে ফেলা হয়েছে, এখন রুল করতে সমস্যা নেই।

ভারতীয়রা যখন তখন বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করছে। বাংলাদেশ দুর্বল তাই প্রতিবাদ করতে পারে না। একথা বলে বসে থাকার উপায় নেই। বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের যে অভিযোগ এর জন্য বিজিবি ও বাংলাদেশ সরকারও দায়ী। বিজিবি বাংলাদেশী নাগরিকদের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয় কেন। বাংলাদেশী নাগরিকদের আটকানোও বিজিবি’র দায়িত্ব। বিজিবি কতটুকু এটা করতে পারছে তারও মূল্যায়ন হওয়া দরকার। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকে আরও একটি কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত জুড়ে কংক্রিটের দেওয়াল তুলতে হবে। চীনের প্রাচীর বা বার্লিন ওয়ালের মত। ভারত যদি গরু রক্ষার জন্য তাদের সীমান্তে কাটাতারের বেড়া দেয় তাহলে আমরা আমাদের নাগরিকদের জীবন বাচাতে দেওয়াল তুলছি না কেন।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দেওয়াল থাকলে বিএসএফ সীমান্তের ওপার থেকে গুলি করে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করতে পারবে না। ভারতীয় চোর ডাকাতরাও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারবে না। যারা ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছেন তারা দেখে থাকবেন যে কসবা রেলওয়ে স্টেশনটি একেবারে সীমান্ত ঘেষে তৈরী করা হয়েছে। ওখান থেকে ভারতের ভেতরের অনেক কিছু দেখা যায়। এমন আরও দুয়েকটি স্টেশন আছে। কসবা স্টেশনটির প্ল্যাটফর্মের পাশেই দেখবেন একটা দেওয়াল রয়েছে। খবর নিয়ে জেনেছি এই দেওয়ালটি তোলা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে যুদ্ধের সময়। কারন ওই সময় সীমান্তের ওপার থেকে ভারতীয় সৈন্যরা গুলি করে দিত। তাই ট্রেনযাত্রীদের রক্ষা করার জন্য পাকিস্তান সরকার দেওয়ালটি তুলেছিল। আমার মনে হয় এখনও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১৯৬৫ সালের মত অবস্থা বিরাজ করছে। তাই বাংলাদেশীদের রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত জুড়ে দেওয়াল তোলা উচিত।

সীমান্তে দেওয়াল তুললে আরও একটি সুবিধা আছে। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকেই বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের নাগরিক। তারা নিয়মিত অবৈধভাবে এপার ওপার আসা যাওয়া করে। তাদের পরিবারের অনেকেই ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। এইসব হিন্দুরা তাদের বাংলাদেশে উপার্জিত অর্থের একটা অংশ ভারতে পাঠিয়ে দেয়। সীমান্তে দেওয়াল তুললে এই ধরনের আসা যাওয়া বন্ধ হবে ও অর্থপাচার অনেক কমে যাবে। আমরা দেওয়াল তুলব নো ম্যান’স ল্যান্ডের আগে আমাদের সীমানায়। আশা করি এজন্য অর্থের অভাব হবে না। যদি হয়, সরকার বলুক। আমরা সবাই অর্থ দিয়ে ফান্ড গঠনে সহযোগিতা করব। কারন আমরা চাই না বাংলাদেশের একটা নাগরিকও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীর শুটিং প্র্যাকটিসের নিশানা হোক। এখানে যদি কিন্তুর কোন জায়গা নেই। নস্ট করার মত সময়ও নেই। বাংলাদেশী নাগরিকদের জীবন রক্ষা করার জন্য সরকারকে একাজ শুরু করতে হবে আজই, এখনই।

লেখক : নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড লায়ন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

Posted ১:১৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

গল্প : দুই বোন

(9319 বার পঠিত)

মানব পাচার কেন

(1582 বার পঠিত)

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.