চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল | বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪
গত কয়েক বছরে দেশের (বাংলাদেশের) কতটা উন্নতি হয়েছে নির্ণয় করা কঠিন। আমেরিকা থেকে যারা দেশে ফিরে গেছে তারা বলছে উন্নতি কিছুই হয়নি। আমরা যারা দীর্ঘদিন বিদেশে আছি আমাদের ধারনা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর প্রবাসী যারা দু’এক মাসের জন্য দেশে যান, দেশে গিয়ে ভিআইপি ট্রিটমেন্ট পেয়ে স্বল্প সময়ে অনেক কিছুই অনুধাবন করতে পারেন না। তবে একটি জিনিস খুব ভালো বোঝা যায়। শেখ হাসিনার গত দেড় দশকের শাসনামলে দেশটা দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণয় হয়েছে। এক সময় আমরা দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলাম (এতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েরই অবদান আছে)।
এখন শীর্ষস্থান হারালেও দেশটা থেমে নেই। দেশে সরকার আছে, মন্ত্রী আছে, মাননীয় সাংসদরা আছেন। তাদের সাথে তৎপর হয়েছেন বিসিএস ক্যাডার, ডাক্তার ও প্রকৌশলীসহ সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা। তারা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে বলবেন একজনকে দিয়ে সবাইকে বিচার করা ঠিক না। না, একজনকে দিয়ে সবাইকে বিচার করছি না। ডিভি লটারীর মত র্যা ন্ডম যে কয়েকজন ধরা পড়ছেন তাদের সবারই দেখছি একই রং। তাই সন্দেহ হয় সবাই একই পথের পথিক কিনা।
বেনজীরের মত নজীর যে অন্যকারো নেই কি করে বুঝবো। বেনজীর অবসরের পর ধরা খেয়েছেন। কিন্তু যারা এখনও চাকুরীতে আছেন তাদেরটা জানতে কি তাদের রিটায়ারমেন্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাদের অবসরের পরও কি জানতে পারবো? সবার তথ্যই কি ফাস হয়? মনে হয় না। র্যা ন্ডম দু’একজন ধরা পড়ে। কেউ ছাগল কিনতে গিয়ে ধরা পড়ে, কেউবা রিসোর্ট কিনে ধরা খায়। আচ্ছা বেনজীরের অপকর্মে জাতি এত মুষড়ে পড়েছে কেন। বাংলাদেশের মানুষ কি এর আগে দুর্নীতি দেখেনি। নিশ্চয় দেখেছে। আমরাতো দুর্নীতিগ্রস্থ সমাজেই বেড়ে ওঠেছি।
বেনজীর সমাজের বাইরের কেউ ছিলেন না। তিনি অন্যদের মত বেগম পাড়াতে বাড়ী করে ভেগে যাননি। তিনি দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নতি চেয়েছিলেন। তাই দেশে বিনিয়োগ করেছেন। আপনি যদি আপনার কাজের লোককে দিয়ে প্রতিদিন দু’নম্বরী ব্যবসা করেন মাঝে মাঝে সে দু’চার টাকা মারবেই। বেনজীর তাই করেছেন। তিনি জানতেন তিনি যাদের জন্য ভাড়া খাটছেন তাদের চেয়ে তার যোগ্যতা অনেক বেশী। বেনজীর শিক্ষিত, মেধাবী। সারা জীবনে এক কোটি আশি লাখ টাকা উপার্জনের তিনি বিসিএস দেননি। অন্যান্য মেধাবীদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। মেধা ও যোগ্যতা থাকলে দেশেও টাকা কামানোর অজস্র সুযোগ রয়েছে। তাই দেশে সবাই এখন বিসিএসের প্রতি ঝুকছে। আপনি যদি মনে করেন সারা জীবন কাজ করে পৌনে দু’কোটি টাকা কামানোর জন্য তারা বিসিএস দিচ্ছে তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। বাংলাদেশের মানুষ এখন টাকা কামানোর ধান্ধা শিখে গেছে। ওদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। রাজনীতিবিদরাতো প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে ধান্ধা করে এসেছেন।
প্রকৌশলীরা অর্থ উপার্জনের কৌশলটা আগে থেকেই জানেন। তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন ডাক্তার সাহেবরা। তারা এখন ঔষধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাছ থেকে কলম আর প্যাড উপহার নিয়ে খুশী থাকেন না। এখন তারা সরাসরি অর্থ (স্পস্ট ভাষায় বলতে গেলে ঘুষ) নিয়ে প্রেসক্রিপশন লিখেন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশন তাদের অর্থ উপার্জনের বড় একটি মাধ্যম। আচ্ছা তারা কি এই উদ্যেশ্যেই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। তখন কি তারা ভেবেছিলেন যে একদিন তারা তাদের মেধাকে একাজে ব্যবহার করবেন। বাংলাদেশে কেউ আর দরিদ্র থেকে মহান হতে চান না।
সবারই অর্থ চাই, প্রচুর অর্থ। টাকাই ধর্ম, টাকাই কর্ম, টাকাই সব। দেশে এখন চলছে অর্থ উপার্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। মেধাবীরা ছুটছে টাকার পেছনে। আমরা যারা নিম্ন মেধার লোক ছিলাম প্রবাসে এসে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু সাধারন মানুষের কি হবে। আমরা প্রবাসীরা কিছু রেমিটেন্স পাঠাতে পারি। এর বাইরে কিছু করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু যারা দেশটাকে বদলে দিতে পারতো তারা ছুটছে অন্যদিকে। এভাবে দিকভ্রান্ত হয়ে ছুটলে কোনদিন গন্তব্যে পৌছানো যাবে না। দেশটাকে বদলে দেওয়ার জন্য মেধা ও শক্তির প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশের সেই সব লোকেরা অর্থ উপার্জনের মোহে আচ্ছন্ন। এটা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। তারা যে অর্থ ও সম্পদ অর্জন করছে তারা তা ভোগ করতে পারবে না। সে সময় তাদের হাতে নেই। তারপরও তারা ছুটছে। আপাতত এর কোন ভ্যাক্সিন নেই। কিন্তু আমি আশাবাদী। এ অবস্থার পরিবর্তন ’একদিন’ হবেই তাই কিছু হবে না জেনেও মাঝে মাঝে কিছু লিখতে চেস্টা করি।
Posted ১২:৪০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh