চৌধুরী মোহাম্মদ কাজল : | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
সাতচল্লিশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের একটি অংশ ১৯৭১ সালে রাজাকার হয়ে গনবিরোধী ভূমিকা নিয়েছিল। যারা ’লড়কে লেয়েঙ্গে পাকিস্তান’ বলে আন্দোলন করে জনপ্রিয় হয়েছিল (এই দলে শেখ মুজিব ও তার গুরু সোহরাওয়ার্দীও ছিলেন) তাদেরই একটি অংশ ২৪ বছর পর মুসলিম লীগের দালাল বলে জনগনের কাছে নিন্দিত হয়েছিল। তাদের ছ্ত্রা সংগঠন এনএসএফ হয়ে ওঠেছিল একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এরা পুলিশের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাস করতো।
একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ এখন ২০২৪ এ এসে রাজাকারে পরিণত হয়েছে। এদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এখন এনএসএফের ভূমিকা পালন করছে। পুলিশের ছত্রছায়ায় গুন্ডামী করছে। মানুষ মারছে। ওরা ঘৃণ্য, পরিতাজ্য। ওই সব রাজাকারদের চিনবেন কি করে।
রাজাকার চেনার উপায়
যারা একাত্তরে মুক্তিবাহিনীর পরিবর্তে ’মুজিব বাহিনী’তে অন্তর্ভূক্ত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে থেকে নিরাপদে সময় কাটিয়েছে। যারা স্বাধীনতার পরে অস্ত্র জমা না দিয়ে সেই অস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করেছে (স্বাধীনতার পর দেশে ছিনতাই অসম্ভব বেড়ে গিয়েছিল। তখন ওদেরকে বলা হতো হাইজাকার)। যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল বলে এখন শেখ হাসিনার মত পুরো দেশটাই দখল করে ফেলতে চাইছে। যে সব মুক্তিযোদ্ধারা তিন জেনারেশন পরও তাদের ছেলেমেয়েদের একটি সরকারী চাকুরী পাওয়ার যোগ্য করে তুলতে পারেনি এবং এখন সরকারের কাছে নিজেদের অযোগ্য ছেলেমেয়েদের জন্য চিরস্থায়ী সুবিধা চাইছে। যে সব মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিরব থাকে। সেসব ছেলেরা যারা ফেলানির ঝুলন্ত দেহ দেখেও প্রতিবাদ করেনা। সেই সব ছাত্ররা যারা বিশ্বজিতদের হত্যা করে। সেই সব শিক্ষকরা যারা ১৯৭১ এ যুদ্ধে যাওয়ার বয়স থাকার পরও যুদ্ধে যায়নি আর স্বাধীনতার পক্ষের ও বিপক্ষের প্রশ্ন তুলে ছাত্রদের মধ্যে বিভেদ সৃস্টি করে। সেই সব ছাত্র নেতারা যারা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নিহত রাউফুন বসুনিয়া, সেলিম, দেলোয়ার, দীপালি সাহাদের রক্তের প্রতিশোধের কথা বলে জাতীয় পার্টিকে মহাজোটের অংশ হিসেবে রাস্ট্র ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করেছে। সেই সব ব্যাক্তিরা যারা ভারতকে সরাসরি ট্রানজিট দিতে সরকারকে সমর্থন করে। রাজাকার তারা যারা একটি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করার পর দেশটাকে অন্য দেশের হাতে তুলে দেয়।
তাহলে মুক্তিযোদ্ধা কারা?
ওপরে যে রাজাকারদের কথা বলা হয়েছে ওরা ছাড়া সবাই মুক্তিযোদ্ধা। যারা প্রতিনিয়ত দেশের মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ওরাই যারা আজিজের মত রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। যারা মোবারক, রফিক, তোতা মিয়াদের মত মানুষের সাহায্যে ঝাপিয়ে পড়েছিল।
সাবিকুলের মত যারা হাওড়ে ডুবে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই পানিতে ডুবে গেছে। ডাঃ শাহরিয়ারের মত যারা ১৯৮৮ সালে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরন করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে। রাউফুন বসুনিয়া, সেলিম, দেলোয়ার, দীপালি সাহা, নুর হোসেনদের মত যারা মানুষের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছে কিন্তু এরপর যাদের সহযোদ্ধারাই ওদেরকে ভুলে গেছে। আবরারের মত যারা সত্য বলার কারনে রাজাকারদের হাতে নিহত হয়েছে। এবং আবু সাইদের মত যারা অধিকার আদায়ের জন্য জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে লড়াই করে গেছে। যে দেশে এরকম বীর মু্ক্িতযোদ্ধারা আছে সে দেশে জনতার বিজয় আসবেই। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু বিজয় আসবে। স্পার্টাকাসদের বেশী দিন দমিয়ে রাখা যায় না।
Posted ১১:১২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh